একই খাবার আর খাবো না — আল-বাক্বারাহ ৬১ পর্ব ১

কল্পনা করুন: বনী ইসরাইলের কয়েকজন বসে আড্ডা দিচ্ছে। আড্ডা প্রসঙ্গে খাবারের কথা আসলো। তখন দুই জনের মধ্যে কথোপকথন শুরু হলো—

“আজকে দুপুরের মেনু কি?”
— “মান্‌ন, আর সাথে সালওয়া।”
“আচ্ছা। রাতের মেনু কি?”
— “সালওয়া, আর সাথে মান্‌ন।”

দিনের পর দিন মান্‌ন এবং সালওয়া খেয়ে তারা বিরক্ত। তাদের খাবারের মেনুতে বৈচিত্র্য দরকার। তারা নবী মূসার عليه السلام কাছে গিয়ে আপত্তি জানাল—

2_61_1

মনে করে দেখো, যখন তোমরা বলেছিলে, “মূসা, আমরা এই একই খাবার খেয়ে আর থাকতে পারব না। ” এই পৃথিবীতে জন্মায় এমন সব খাবারের জন্য তোমার প্রভুর কাছে দু’আ করো— যেমন তরকারি, শসা, রসুন, ডাল, পেঁয়াজ।

তারা মুসা নবীকে عليه السلام একেবারে পুরো বাজারের লিস্ট ধরিয়ে দিল আল্লাহর تعالى কাছ থেকে নিয়ে আসার জন্য!  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

বারোটি ঝর্ণা বের হয়ে আসলো – আল-বাক্বারাহ ৬০

ওয়াশিংটন ডিসি। ইউনাইটেড নেশনসের কনফারেন্স চলছে। কীভাবে পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থার উন্নতি করা যায়: এনিয়ে অনেক বড় বড় উদ্যোক্তা এসেছেন বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে। WaterAid Sweden-এর চেয়ারম্যান দাঁড়ালেন বক্তৃতা দেওয়ার জন্য।[১০] তিনি তার সামনে রাখা একটা পানির গ্লাস হাতে তুলে বললেন–

This is a luxury, a dream for more than 800 million people in the world.
এটা একটা বিলাস সামগ্রী। আজকে পৃথিবীতে ৮০ কোটির বেশি মানুষ স্বপ্ন দেখে এটাকে পাওয়ার।

আল-বাক্বারাহ’র এই আয়াতটি আমাদেরকে পানি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা শেখাবে—

2_60

মনে করে দেখো, যখন মূসা তার লোকদের জন্য পানির দু’আ করেছিল এবং আমি তাকে বলেছিলাম, “পাথরটাকে তোমার হাতের লাঠি দিয়ে বাড়ি দাও।” সাথে সাথে বারোটা পানির ঝর্ণা ফেটে বেরিয়ে আসলো। প্রত্যেক গোত্র ঠিকভাবে তাদের পানের জায়গা চিনে গেল। “খাও এবং পান করো, যা আল্লাহ তোমাদেরকে জোগান দিয়েছেন। আর কুকর্ম করবে না, দুনিয়াতে দুর্নীতি ছড়াবে না।”

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

কারণ তারা বার বার আমার অবাধ্যতা করছিল – আল-বাক্বারাহ ৫৯

একটা লোক একসময় খুব গরিব, অসহায় ছিল। সে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে বেড়াত, মানুষের হাতে প্রায়ই মার খেত। একদিন একজন সহৃদয়বান মানুষ তার অবস্থা দেখে লোকটাকে আশ্রয় দিলেন, তার খাবারের ব্যবস্থা করে দিলেন। লোকটা বহু বছর তার আশ্রয়ে থাকল। একসময় তিনি গরিব লোকটার জন্য তার নিজের দোকানে চাকরির ব্যবস্থাও করে দিলেন, যাতে করে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি লোকটার জন্য এত করলেন, কিন্তু তারপরেও লোকটা সেজন্যে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখানো তো দূরের কথা, সুযোগ পেলেই ভালো মানুষটার নামে বদনাম করত — কেন তাকে মাসে মাসে আরও বেশি করে টাকা দিত না, কেন তাকে থাকার জন্য আরেকটা ভালো বাসা খুঁজে দিত না, এসব নিয়ে লোকজনের কাছে কানাঘুষা করে বেড়াত।

একদিন গরিব লোকটা সেই ভালো মানুষটার দোকান থেকে চুরি করে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে গেল। খবর পেয়ে সেই ভালো মানুষটাই তাকে আবার বাঁচাতে ছুটে আসলেন। তিনি লোকটাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার পর, তাকে বার বার সাবধান করে দিয়ে বললেন যেন লোকটা ভবিষ্যতে আর কখনো এই কাজ না করে। তিনি তাকে ধর্মের কিছু নীতিকথা শোনালেন, তাকে সৎ পথে ফিরে আসার জন্য তাগাদা দিলেন। এসব শুনে লোকটা ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে ভালো মানুষটার কথা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা শুরু করল। তার নীতিকথাগুলো নিয়ে তামাশা করতে থাকল।

এরকম একজন চরম অকৃতজ্ঞ মানুষকে কী করা দরকার?

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তোমরা ইচ্ছেমত যত খুশি খাও – বাকারাহ ৫৮

2_58

মনে করে দেখো, যখন আমি বলেছিলাম, “এই শহরে প্রবেশ করো এবং এখানে তোমরা ইচ্ছেমতো যত খুশি খাও, কিন্তু এর দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় আমার প্রতি (কৃতজ্ঞতায়) অবনত হয়ে প্রবেশ করো  এবং বলতে থাকো, “আমাদের পাপের বোঝা হালকা করে দিন!” তাহলে আমি তোমাদের দোষ-ত্রুটি-অন্যায় আচরণ ক্ষমা করে দিব এবং যারা ভালো কাজ সুন্দরভাবে করে তাদের পুরস্কার আরও বাড়িয়ে দিব। [আল-বাকারাহ ৫৮]

কু’রআনে এই কথাগুলো বার বার আসে: সুস্বাদু খাবারের কথা, জীবনকে উপভোগ করার কথা, আল্লাহর تعالى সৃষ্টি করা এই অত্যন্ত সুন্দর পৃথিবী এবং আকাশ ঘুরে দেখা। আল্লাহ تعالى আমাদেরকে কু’রআনে বার বার তাঁর অনুগ্রহের কথা চিন্তা করতে বলেছেন, আমাদেরকে হালাল উপায়ে জীবনকে উপভোগ করে আখিরাতে আরও বেশি আনন্দের জন্য চেষ্টা করতে বলেছেন।

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তোমাদেরকে ভালো এবং পবিত্র যা কিছু খেতে দিয়েছি, সেটা খাও — বাকারাহ ৫৭

বনি ইসরাইলের এক বিশাল কাফেলা নিয়ে নবী মুসা عليه السلام হেঁটে যাচ্ছেন এক বিশাল মরুভূমির মধ্য দিয়ে। যেদিকে চোখ যায় কোনো পানি বা খাবারের ব্যবস্থা নেই, তার উপর প্রচণ্ড রোদের তাপ। নারী, শিশু, বৃদ্ধ নিয়ে কাফেলার মানুষদের মৃত প্রায় অবস্থা। এমন সময় আল্লাহর تعالى আদেশে তাদের মাথার উপরে মেঘ জড়ো হয়ে, তাদের জন্য আরামদায়ক ছায়া তৈরি করল।[৬][১][৩]

2_57

আমি মেঘ দিয়ে তোমাদের জন্য আরামদায়ক ছায়ার ব্যবস্থা করেছিলাম, তোমাদেরকে উপর থেকে মান্না এবং সালওয়া পাঠিয়েছিলাম—“তোমাদেরকে ভালো এবং পবিত্র যা কিছু খেতে দিয়েছি, সেটা খাও।” আর ওরা আমার উপর কোনোই অন্যায় করেনি, বরং ওরা নিজেদের সাথেই অন্যায় করছিল। [বাকারাহ ৫৭]

আরবি গামাম (غمام) হচ্ছে ঘন মেঘ, কিন্তু সেটা ঝড়ের মেঘের মতো ভয়ংকর মেঘ নয়, বরং ছায়া দেয়, এমন ঘন প্রশান্তিকর, হাসিখুশি মেঘ।[১] মরুভুমিতে বনি ইসরাইলিদের কোনো বাড়িঘর ছিল না। এত গাছপালাও ছিল না যেখানে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারে। যদি আল্লাহ تعالى তাদের জন্য দিনের বেলা মেঘ দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা না করে দিতেন, তাহলে তারা হিট স্ট্রোক করে মারা যেত।[৩]  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো – বাকারাহ ৫৬

এর আগের আয়াতে নবী মুসা عليه السلام বনি ইসরাইলিদের একদল প্রতিনিধিকে নিয়ে পাহাড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তাদেরকে আল্লাহর تعالى দেওয়া শারি‘আহ সম্পর্কে জানান। এবং শারী‘আহর মূলনীতি লেখা পাথরের ফলকগুলো দেখান। কিন্তু প্রতিনিধিরা বলল যে, তারা শুধু মুসা عليه السلام-এর মুখের কথায় এত বড় একটা ব্যাপার মেনে নেবে না, তারা আল্লাহকে تعالى নিজের চোখে দেখতে চায়, নিজের কানে শুনতে চায়।[৩] তখন তাদের উপরে এক ভয়ংকর বজ্রপাত হলো এবং তারা নিষ্প্রাণ হয়ে গেল—

ThunderStrike

2_56

তারপর তোমাদেরকে নিষ্প্রাণ অবস্থা থেকে আবার প্রাণ দেওয়া হলো, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো। [আল-বাকারাহ ৫৬]

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আল্লাহকে নিজের চোখে দেখছি—বাকারাহ ৫৫

আল্লাহ تعالى বনি ইসরাইলিদেরকে ফিরাউনের হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা করেছিলেন,  তিনি তাদের জন্য সমুদ্রের পানি দুইভাগ করে দিয়েছিলেন, যেন তারা ফিরাউনের হাত থেকে নিরাপদে সরে যেতে পারে। তারপর তিনি ফিরাউনকে বনি ইসরাইলিদের চোখের সামনেই পানিতে ডুবিয়ে দিলেন, যেন ফিরাউনের মৃত্যু নিয়ে তাদের কোনো ধরনের সন্দেহ না থাকে। এত কিছুর পরেও যে-ই নবী মুসা عليه السلام আল্লাহর تعالى কাছ থেকে শারি’আহ নিয়ে এলেন এবং বনী ইসরাইলিদেরকে বললেন তাদের ভুল বিশ্বাস, শিরকের অভ্যাস, এবং নষ্ট সংস্কৃতিকে বর্জন করে, সেই শারিয়াহ অনুসারে তাদের জীবন-যাপন করতে, তখন শুরু হয়ে গেল তাদের নানা ধরনের টালবাহানা—

2_55

মনে করে দেখো, যখন তোমরা বলেছিলে, “মুসা, আমরা তোমার কথা বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে নিজের চোখে সামনাসামনি দেখছি।” ঠিক তখন তোমাদের উপরে বজ্রপাত হলো, যখন তোমরা স্পষ্ট ভাবে তাকিয়ে ছিলে। [বাকারাহ ৫৫]

Lightning

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তিনি বারবার ক্ষমা করেন – বাকারাহ ৫৩-৫৪

অনেকে মনে করেন, ইসলাম হচ্ছে নবী মুহাম্মাদ عليه السلام প্রচারিত একটি নতুন ধর্ম। এটি একটি ভুল ধারণা। ইব্রাহিম, ইয়াকুব, মুসা, ঈসা, মুহাম্মাদ (আল্লাহ تعالى তাদের সবার উপরে শান্তি দিন) — সকল নবীই একই ধর্ম প্রচার করে গেছেন: ইসলাম।[৬] ইসলাম শব্দের অর্থ: আল্লাহর تعالى ইচ্ছার কাছে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করা। আজকের যুগের মুসলিমদের মতো বনি ইসরাইলিদেরকেও নবী মুসা عليه السلام-এর মাধ্যমে আল্লাহ تعالى সম্পূর্ণ ধর্মীয় বিধান বা শারি‘আহ দিয়েছিলেন। বনি ইসরাইলিরা ছিল সেই যুগের মুসলিম—

2_53

মনে করে দেখো, যখন আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম—যা এক সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী—যাতে করে তোমরা সঠিক পথে চলতে পারো। [বাকারাহ ৫৩]

justiceআল্লাহ تعالى বনি ইসরাইলকে নবী মুসা عليه السلام এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ শারি‘আহ দিয়েছিলেন, যেন তারা সঠিকভাবে সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি পরিচালনা করতে পারে। এই আয়াতের শেষে تَهْتَدُونَ ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ সাধারণত করা হয়, “সঠিক পথ পাও।” কিন্তু এটি এসেছে اهتدى থেকে, যার অর্থ হচ্ছে: দেখানো সঠিক পথে চলার জন্য নিজে থেকে আন্তরিক চেষ্টা করা।[৮] এখানে একটি খুব সূক্ষ্ম ভাষাগত পার্থক্য আছে। আল্লাহ تعالى মানুষকে সঠিক পথে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘাড় ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন না, বরং তিনি মানুষকে সঠিক পথ কোনটা সেটা দেখিয়ে দেন, তারপর মানুষের কাজ হচ্ছে সেই সঠিক পথে চলার চেষ্টা করা। মানুষকে সেই চেষ্টাটা করতে হবে, চেষ্টা ছাড়া কেউ সঠিক পথ পাবে না এবং চেষ্টা ছাড়া কেউ সঠিক পথে টিকেও থাকতে পারবে না।[১] যারা ফিলসফিকাল তর্ক দেখায়, “আল্লাহ যদি চাইতেন, তাহলে তো আমি সবসময় ভালোই থাকতাম। তিনি চাননি দেখেই তো আমি ভালো থাকতে পারিনি…”—তাদেরকে اهتدى এর মানে ঠিকভাবে বুঝতে হবে।

একটা উদাহরণ দেই—

আপনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন, একসময় একটা চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে একটা সাইন বোর্ড দেখলেন: “চট্টগ্রাম ৫০ মাইল”, কিন্তু আপনি সেদিকে না গিয়ে দূরে একটা সিনেমা হল দেখা যাচ্ছে, সেদিকে যাওয়া শুরু করলেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ঠিকই আপনাকে সঠিক পথ দেখিয়েছিল, কিন্তু আপনি اهتدى (সঠিক পথে চলার চেষ্টা) করেননি।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে দুই ভাগ করেছিলাম—বাকারাহ ৫০-৫২

বনি ইসরাইলের এক বিশাল কাফেলা নিয়ে নবী মুসা عليه السلام হেঁটে যাচ্ছেন—তাদেরকে এক নতুন দেশে পৌঁছে দিতে। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে যেতে দিতে রাজি হয়েছে ফিরাউন। কিন্তু এদিকে হঠাৎ ফিরাউন তার মত পাল্টাল: মুসা عليه السلام এর কারণে সে তার রাজত্ব হারিয়ে ফেলেছে—সেই যন্ত্রণায় পুড়ছে সে। শেষ পর্যন্ত আর থাকতে না পেরে ফিরাউন ঠিক করল মুসা عليه السلام সহ বনি ইসরাইলদের সবাইকে মেরে ফেলবে। সে তার বাহিনীকে একসাথে জড়ো করে ছুটে গেল তাদেরকে হত্যা করার জন্য।

ওদিকে মুসা عليه السلام তার কাফেলাকে নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে এগিয়ে যাচ্ছেন। যেতে যেতে আটকে গেলেন—সামনে এক বিশাল সমুদ্র, এগোবার উপায় নেই আর। পিছনে ফিরে দেখলেন: ফিরাউন তার বাহিনী নিয়ে ছুটে আসছে তাদেরকে হত্যা করার জন্য। বাঁচার কোনো আশা নেই বনি ইসরাইলিদের: সামনে এগোলে সমুদ্রে ডুবে মারা যাবে, আর পেছনে ফিরে গেলে ফিরাউনের বাহিনী তাদেরকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করবে। দুই দিকেই ভয়ঙ্কর মৃত্যু দেখে বনি ইসরাইলিরা ভয়ে-আতঙ্কে-হতবিহবল হয়ে মুসা عليه السلام এর কাছে ছুটে গেল—কীভাবে বাঁচবে তারা এখন?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

এটা ছিল এক ভীষণ কঠিন পরীক্ষা—বাকারাহ ৪৯

চারিদিকে মুসলিমদের এতো দুঃখ, কষ্ট। মুসলিম দেশগুলোতে এতো অভাব, রক্তারক্তি, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি— এসব দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে: কেন শুধু মুসলিমদেরই এতো কষ্ট? ইসলাম মেনে আমরা কি ভুল করছি? কেন আজকে মুসলিম দেশগুলোতে মুসলিমদেরকে এভাবে মেরে শেষ করে ফেলা হচ্ছে? এত অভাব, অপমান, মারামারি দেখে আর থাকতে না পেরে অনেকেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন, তাদের অন্তরে ঈমানের প্রদীপ নিভু নিভু হয়ে যেতে থাকে, এমনকি অনেকে শেষ পর্যন্ত ধর্ম ছেড়ে দেন। তাদের জন্য বাকারাহ-এর এই আয়াতটি চিন্তার খোরাক দিবে, কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম অপমান এবং অত্যাচারের শিকার সিরিয়া, গাজা, প্যালেস্টাইন, মায়ানমারের মুসলিমরা নয়, বরং তারা ছিল বনি ইসরাইল—

2_49

মনে পড়ে, আমি তোমাদেরকে ফিরাউনের লোকদের কবল থেকে বার বার বাঁচিয়েছিলাম, যারা তোমাদেরকে জঘন্য রকমের কষ্ট দিত: তোমাদের ছেলে সন্তানদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করত, আর তোমাদের নারীদেরকে ইচ্ছা করে বাঁচিয়ে রাখত—এটা ছিল তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এক ভীষণ কঠিন পরীক্ষা। [বাকারাহ ৪৯]

syria

এই আয়াতে আল্লাহ تعالى মুসলিমদেরকে মানসিকভাবে তৈরি করছেন যে, মুসলিমরা যদি মনে করে থাকে যে তারাই সবচেয়ে কষ্ট ও অপমানের জীবন পার করছে, তাদের আর কোনো আশা নেই, তাহলে তারা বনি ইসরাইলিদের ভয়াবহ ইতিহাসের কথা আরেকবার ভেবে দেখুক। কী অসম্ভব অবস্থার মধ্য থেকে তাদেরকে তিনি একসময় বের করে এনেছিলেন। কী ভয়ঙ্কর দুঃখ কষ্টের মধ্যেও সেই জাতিটি শেষ পর্যন্ত টিকে থেকেছিল এবং একসময় পৃথিবীতে অন্যতম সন্মানিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বনি ইসরাইলিদের ইতিহাস থেকে মুসলিমদের জন্য আর কিছু না হোক, অন্তত কিছুটা হলেও শান্তি এবং মনোবল পাওয়া যায়: তাদেরকে যদি আল্লাহ تعالى সেই ভয়ঙ্কর জীবন থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন, তাহলে আমাদেরকেও নিশ্চয়ই একদিন মুক্তি দেবেন।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)