কারণ তারা বার বার আমার অবাধ্যতা করছিল – আল-বাক্বারাহ ৫৯

একটা লোক একসময় খুব গরিব, অসহায় ছিল। সে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে বেড়াত, মানুষের হাতে প্রায়ই মার খেত। একদিন একজন সহৃদয়বান মানুষ তার অবস্থা দেখে লোকটাকে আশ্রয় দিলেন, তার খাবারের ব্যবস্থা করে দিলেন। লোকটা বহু বছর তার আশ্রয়ে থাকল। একসময় তিনি গরিব লোকটার জন্য তার নিজের দোকানে চাকরির ব্যবস্থাও করে দিলেন, যাতে করে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি লোকটার জন্য এত করলেন, কিন্তু তারপরেও লোকটা সেজন্যে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখানো তো দূরের কথা, সুযোগ পেলেই ভালো মানুষটার নামে বদনাম করত — কেন তাকে মাসে মাসে আরও বেশি করে টাকা দিত না, কেন তাকে থাকার জন্য আরেকটা ভালো বাসা খুঁজে দিত না, এসব নিয়ে লোকজনের কাছে কানাঘুষা করে বেড়াত।

একদিন গরিব লোকটা সেই ভালো মানুষটার দোকান থেকে চুরি করে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে গেল। খবর পেয়ে সেই ভালো মানুষটাই তাকে আবার বাঁচাতে ছুটে আসলেন। তিনি লোকটাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার পর, তাকে বার বার সাবধান করে দিয়ে বললেন যেন লোকটা ভবিষ্যতে আর কখনো এই কাজ না করে। তিনি তাকে ধর্মের কিছু নীতিকথা শোনালেন, তাকে সৎ পথে ফিরে আসার জন্য তাগাদা দিলেন। এসব শুনে লোকটা ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে ভালো মানুষটার কথা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা শুরু করল। তার নীতিকথাগুলো নিয়ে তামাশা করতে থাকল।

এরকম একজন চরম অকৃতজ্ঞ মানুষকে কী করা দরকার?

2_59

কিন্তু যারা অন্যায় করত, তাদেরকে যে বাণী দেওয়া হয়েছিল, তারা সেটার কথা পাল্টে ফেলেছিল। তখন আমি আকাশ থেকে অন্যায়কারীদের উপর এক বীভৎস মহামারি পাঠিয়েছিলাম, কারণ তারা বার বার আমার অবাধ্যতা করছিল। [আল-বাক্বারাহ ৫৯]

আপনি যদি সূরা আল-বাক্বারাহ-এর আগের কয়েকটি আয়াত পড়েন, দেখবেন বনী ইসরাইলিরা আল্লাহর تعالى প্রতি কী ধরনের চরম অকৃতজ্ঞতা এবং আস্পর্ধা দেখিয়েছিল। ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম অত্যাচারের শিকার গাজা, ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গারা নয়, বরং তারা ছিল বনী ইসরাইল। ফিরাউন তাদেরকে শুধু দাসের মতো খাটিয়েই মারত না, একসময় সে তাদের ছেলে শিশুদেরকে জঘন্যভাবে হত্যা করা শুরু করেছিল এবং নারীদেরকে বাঁচিয়ে রাখত তাদের সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়ার জন্য। আল্লাহ تعالى বনী ইসরাইলিদেরকে ফিরাউনের সেই জঘন্য অত্যাচার থেকে বাঁচালেন। তাদের জন্য তিনি تعالى মহাবিশ্বের স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙ্গে সমুদ্র দুই ফাঁক করে দিলেন, ফিরাউনকে ডুবিয়ে মারলেন। তারপর তাদেরকে মরুভূমির ভয়ংকর গরমে বেঁচে থাকার জন্য মেঘ দিয়ে আরামদায়ক ছায়া দিলেন। তাদেরকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, অফুরন্ত খাবার মান্‌ন এবং সালওয়া দিলেন। কিন্তু তারপর একসময় তারা শুধু মান্‌ন এবং সালওয়ার মেন্যুতে বিরক্ত হয়ে গেল এবং আগের মিশরের খাবারের মেন্যুর জন্য আবদার করা শুরু করল। তখন আল্লাহ تعالى তাদেরকে একটি শহরের উপর দখল দিয়ে দিলেন, যেন তারা সেখানে তাদের ইচ্ছামত খাবার তৈরি করে খেতে পারে।

এতকিছু করার পরেও তাদের অকৃতজ্ঞতা, অবিশ্বাস, অন্যায় আচরণ করার জন্য আল্লাহ تعالى যখন তাদেরকে বললেন তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে, এবং তাদেরকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য কী ভাষা ব্যবহার করতে হবে, সেটাও তিনি শিখিয়ে দিলেন, তখন তারা সেই ভাষা পাল্টিয়ে ঠাট্টা করে অন্য ভাষা ব্যবহার করা শুরু করল। আল্লাহ تعالى তাদেরকে শেখালেন বলতে: حِطَّةٌ হিত্তাতুন, অর্থাৎ “আমাদের পাপের বোঝা হালকা করে দিন”, কিন্তু ওরা ঠাট্টা করে স্লোগান দেওয়া শুরু করল: حِنطةٌ হিন্তাতুন: “গম চাই, গম!”[১][৮][৯] তাদেরকে বলা হলো ক্ষমা চাইতে, আর তারা আরও খাবার চাওয়া শুরু করল!

আল্লাহর تعالى বাণীকে নিয়ে তামাশা করাটা শুধু বনী ইসরাইলিদেরই অভ্যাস ছিল না, বরং আজকের যুগের অনেক মুসলিমদের মধ্যেও এই সমস্যা রয়েছে। কু’রআনের বাণীর অর্থকে পরিবর্তন করে, নিজেদের সুবিধামত বুঝে নিয়ে, নিজের সংস্কৃতি, জীবন যাত্রার সাথে মেলানোর জন্য হাজারো চেষ্টা অনেকে করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে। আল্লাহর تعالى বাণীকে নিয়ে অহরহ তামাশা করার একটা উদাহরণ হচ্ছে: হিজাব। কু’রআনে হিজাব বলতে মেয়েদেরকে মাথাসহ সারা শরীর ঠিকমতো ঢেকে, এমনভাবে পোশাক পড়তে বলা হয়েছে, যেটা দেখে যেন ছেলেদের কামনা নিয়ে তাকানোর আগ্রহ না হয় এবং মেয়েরা আপত্তিকর পরিস্থিতিতে না পড়ে। [সূরা আন-নূর ২৪:৩১] কিন্তু আজকে হিজাবকে অনেক আধুনিক মুসলিমাহ শুধুই একটা মাথার স্কার্ফ বানিয়ে ফেলেছে। তারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে ‘হিজাব’ (আসলে আরবিতে ‘খিমার’, যার অর্থ মাথা ঢাকার কাপড়) এমনভাবে পড়ে, যেন একটা চুলও দেখা না যায়; কিন্তু সেই স্কার্ফের নিচে বাকি শরীরের উপর থাকে আঁটসাঁট টি-শার্ট বা কামিজ, এবং নিচে টাইট জিন্সের প্যান্ট বা চিপা সালোয়ার। আপনি যদি দূর থেকে কাউকে সেই ‘হিজাবে’ দেখেন এবং কোনো কারণে তার স্কার্ফঢাকা মাথা দেখতে না পান, তাহলে তার বাকি কাপড় দেখে আপনি বলতে পারবেন না: যে দাঁড়িয়ে আছে সে কোনো সন্মানিত মুসলিমাহ বোন, নাকি রাস্তার আর দশজন মেয়ের মধ্যে একজন। এই আজব ‘হিজাব’ কীভাবে স্টাইল করে পড়তে হয়, তার জন্য আবার ইউটিউবে শত শত ভিডিও পাওয়া যায়, যেগুলো শুধু মেয়েরাই নয়, হাজার হাজার ছেলেরাও হাঁ করে তাকিয়ে দেখে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আরেক তামাশা শুরু হয়েছে, যেখানে এমন ভয়ংকর বোরকা বের হয়েছে, যার মধ্যে দিয়ে ভেতরের সবকিছু বোঝা যায়, এবং সেই বোরকা পড়ে মেয়েরা যখন চলাফেরা করে তখন ছেলেরা তাদের থেকে আর চোখ ফেরাতে পারে না। এভাবে আল্লাহর تعالى সাবধান বাণীকে একটা মশকরার ব্যাপার বানিয়ে আজকে হিজাব হয়ে গেছে একটা ‘ফ্যাশন’, যেখানে মেয়েরা নিজেদেরকে এমন আবেদনময়ী করে উপস্থাপন করে যে, তাদেরকে দেখে ছেলেদের চোখ নামিয়ে ফেলা তো দূরের কথা, উল্টো চোখ বড় বড় হয়ে যায়।

আল্লাহর تعالى বাণীকে নিয়ে তামাশা করার জন্য এবং দিনের পর দিন অন্যায় আচরণ এবং অবাধ্যতার জন্য আল্লাহ تعالى বনী ইসরাইলদেরকে এক বীভৎস মহামারি رِجْز (রিজয্‌) দিলেন।[৯][৭][১] رِجْز এর আভিধানিক অর্থ ভয়ংকর: উট যখন কোনো বীভৎস অসুখের যন্ত্রণায় বারবার কাতরাতে থাকে, উঠে বসতে চেষ্টা করে, কিন্তু পা কাঁপতে কাঁপতে আবার পড়ে যায়, সেরকম এক কঠিন বিকৃত অসুখ।[১০] বনী ইসরাইলিদেরকে আল্লাহ تعالى সাধারণ কোনো প্রাকৃতিক মহামারি দেননি, বরং এটি এসেছিল আকাশ থেকে من  ٱلسَّمَآء, তাদের জন্য বিশেষভাবে পাঠানো এক ভয়ংকর অসুখ।[১] এই অসুখে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল।[৩]

Hurricane-Sandy-US

এই আয়াতের শেষটি গুরুত্বপূর্ণ بِمَا كَانُوا۟ يَفْسُقُونَ — কারণ তারা ক্রমাগত ফিস্‌ক্ব (অবাধ্যতা) করত। আল্লাহ تعالى শুধু তাঁর বাণীকে নিয়ে তামাশা করার জন্যই তাদের উপরে সেই ভয়ংকর মহামারি দেননি, বরং তারা ক্রমাগত ফিস্‌ক্ব করত দেখেই, তিনি তাদেরকে রিজয্‌ দিয়েছিলেন। তামাশা করাটা ছিল তাদের অবাধ্যতার শেষ পর্যায়।[১] ফিস্‌ক্ব-এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে: কোনো কিছুর ভেতর থেকে বাজে একটা কিছু বের হয়ে আসা;[১১] নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে যাওয়া।[৪] কু’রআনে ফিস্‌ক্ব বলতে নৈতিকতা এবং সামাজিক আদর্শের বিরুদ্ধে যায় এমন কাজ করা, বিশেষ করে ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থি কিছু করাকে বোঝানো হয়েছে।[১১]

ফিস্‌ক্বের পরিধি ব্যাপক: এটি আল্লাহর تعالى অস্তিত্বকে অস্বীকার করার মতো ভয়াবহ পাপ থেকে শুরু করে, কোনো নারীর দিকে লালসা নিয়ে তাকানোর মতো সাধারণ (আমাদের দৃষ্টিতে) ব্যাপারও ফিস্‌ক্বের মধ্যে পড়ে।[১১] যেমন: কুফরি হচ্ছে একধরনের ফিস্‌ক্ব। কিন্তু সব ফিস্‌ক্ব আবার কুফরি নয়।[১১] ফিস্‌ক্ব হচ্ছে সাধারণভাবে আল্লাহর تعالى আদেশের প্রতি অবাধ্যতা। আর যারা আল্লাহর تعالى অবাধ্যতা করে, তাদেরকে বলা হয় ফাসিক্ব। শারিয়াহ এর ভাষায়: কেউ যদি একটা বড় গুনাহ করে, কিন্তু ক্ষমা না চায়; অথবা কেউ যদি ছোট গুনাহ করতে থাকে এবং সেটা তার অভ্যাসে পরিণত হয় — তাহলে ফুকাহাদের (ইসলামিক আইনবিদ) ভাষায় তাকে ফাসিক্ব বলা হয়।[৪][১৩]

ইসলাম নিয়ে যারা অল্প বিস্তর পড়াশুনা করেছেন, তারা অনেক সময় তাদের চারিদিকে তাকিয়ে সবাইকে ফাসিক্ব হিসেবে দেখা শুরু করেন—

“আরে! ওকে তো নামাজ পড়তে দেখলাম না। ও মনে হয় একটা ফাসিক্ব।”
“এখন পর্যন্ত ওকে তো কোনোদিন মসজিদে যেতে দেখলাম না। ও নিশ্চয়ই একটা ফাসিক্ব।”
“জানো, ওকে আমি একদিন দাঁড়ি শেভ করতে দেখেছি! ও আসলে একটা ফাসিক্ব।”

কাউকে ইসলামের কোনো আদেশ মানতে না দেখলেই, তারা তখন তাদেরকে ‘ফাসিক্ব’ লেবেল দেওয়া শুরু করে দেয়। তাদের জন্য এই হাদিসটি চিন্তার খোরাক দিবে—

কেউ যদি কাউকে ফুসুক্বের অভিযোগ করে, বা কুফরির অভিযোগ করে, এবং যাকে অভিযোগ করা হচ্ছে সে যদি নির্দোষ হয়, তাহলে অভিযোগকারী সেই অভিযোগে অভিযুক্ত হবে। —সাহিহ আল-বুখারি[১৪]

কাউকে ফাসিক্ব বা কাফির বলাটা একটা ভয়ংকর অভিযোগ। এই ধরনের দাবি করার জন্য যথেষ্ট যোগ্যতা দরকার, যেটা অর্জন করতে হয়। যারা যত্রতত্র মানুষকে ফাসিক্ব বা কাফির লেবেল দিয়ে বেড়াচ্ছেন, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এই হাদীসের আলোকে হাজার বার চিন্তা করুন। কারো ভেতরে ফিস্‌ক্ব বা কুফরির কোনো কাজ দেখা গেলে এতটুকুই বলা নিরাপদ যে, সে একটি কুফরি করেছে, বা তার অমুক কাজটি ফিস্‌ক্ব। যেমন, নিচের হাদিস অনুসারে: যে ব্যক্তি এক ওয়াক্ত ফরজ সালাত ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেবে, সে কুফরি করল—

ব্যক্তি ও কুফর, শিরকের মাঝে পার্থক্যরেখা হলো সালাত।— সাহিহ মুসলিম[১৫]

এখন কুফরি করল মানেই সে কাফির হয়ে গেল, এমনটা নয়।[১৫] মোটকথা, কাজটি অবশ্যই ফিস্‌ক্ব, কুফরি বা শিরক। তবে যে করল, সে অবশ্যম্ভাবীরূপে ফাসিক্ব, কাফির বা মুশরিক নাও হতে পারে। বরং সতর্কতা হলো: এমনটি না বলা। আমাদের প্রচলিত প্রবাদটি এক্ষেত্রে সার্থক: “পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়।”

কু’রআন পড়ার সময় যেখানেই আমরা ফাসিক্বদের কথা পাব, আমাদেরকে সাবধানে খেয়াল করে দেখতে হবে যে, সেখানে ফিস্‌ক্ব বলতে আসলে কী পর্যায়ের অবাধ্যতার কথা বলা হয়েছে। সব ফাসিক্ব এক নয়। কোনো আয়াতে যদি ফাসিক্বদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদ করতে বলা হয়, তবে সেই ফাসিক্বরা নিশ্চয়ই তারা নয়, যারা নারীদের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। বরং আয়াতের প্রেক্ষাপট অনুসারে বুঝতে হবে, সেই ফাসিক্বরা কারা এবং কী ধরনের অবাধ্যতা তারা করেছে।

এই আয়াতে আমাদের একটি ব্যাপার উপলব্ধি করতে হবে: যেই জাতিকে আল্লাহ تعالى এত অনুগ্রহ করেছিলেন, যাদেরকে তিনি মহাবিশ্বের স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙ্গে সমুদ্র দুই ভাগ করে ফিরাউনের কবল থেকে উদ্ধার করেছিলেন, অলৌকিকভাবে মরুভূমিতে ঘন ছায়া দেওয়া মেঘ এবং অফুরন্ত খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন, একটি সম্পদশালী শহরের উপর দখল দিয়ে দিয়েছিলেন, সেই একই জাতিকে তিনি এক বীভৎস মহামারি রোগ দিয়েছেন, যখন কিনা তারা ক্রমাগত অন্যায়ে ডুবে গিয়েছিল। আল্লাহ تعالى বারবার অন্যায় করা সহ্য করেন না। কাউকে তিনি বিশেষ অনুগ্রহ করলে, সে যদি তাঁর অনুগ্রহের মর্যাদা না দেয়, তাঁর অবাধ্য হয়, তখন তাকে তিনি যথাযথ শাস্তি দেন।

অনেকে বনী ইসরাইলিদের উপর আল্লাহর تعالى এত সব অনুগ্রহের ঘটনা পড়ে অনেক সময় তাঁর সম্পর্কে ভুল ধারণা করে ফেলেন যে, “আল্লাহ تعالى আমাদেরকে শাস্তি দেবেন? এটা হতেই পারে না! যত পারো মৌজ, মাস্তি করে যাও। আল্লাহ تعالى যদি বনী ইসরাইলের মতো এত খারাপ মানুষদেরকে এতবার ক্ষমা করতে পারেন, আমরা তো তাদের তুলনায় কিছুই না। আমাদেরকে আল্লাহ تعالى ঠিকই মাফ করে দেবেন।” তাদের জন্য এই আয়াতটি একটা সাবধান বাণী: যদি ক্রমাগত অন্যায় করতে থাকি, তাহলে একদিন আমাদের উপরও দুর্যোগ আসবে। আল্লাহ تعالى অত্যন্ত ধৈর্যশীল, ক্ষমাশীল ও দয়ালু সন্দেহ নেই, কিন্তু একই সাথে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তিও অত্যন্ত কঠোর। ক্রমাগত সীমালঙ্ঘন তাঁর শাস্তিকেই ত্বরান্বিত করবে।

নতুন আর্টিকেল বের হলে জানতে চাইলে কু’রআনের কথা ফেইসবুক পেইজে লাইক করে রাখুন—


ডাউনলোড করুন কুর‘আনের কথা অ্যাপ

2 thoughts on “কারণ তারা বার বার আমার অবাধ্যতা করছিল – আল-বাক্বারাহ ৫৯”

  1. শ্রদ্ধেয়, আমি আপনার লেখাটি মনোযোগের সহিত পড়লাম। বর্তমান সময়ের নিরিখে এই লেখাটি বড়ই উপযুক্ত। আপনার বিশ্লেষণে কাফির শব্দ টির বিষয়ে কিছু লিখতে চাই কিছু মতামত পাওয়ার উদ্দেশ্যে।
    আমি ইসলামের একজন অনুসন্ধানী ছাত্র। সমাজে মুসলমানদের মধ্যে এত বাধ- বিবাদ নিজেকে যেন খুজে পেতে খুব কষ্ট হয় যে আমি কোথায় আছি? প্রসঙ্গ কাফির ও আহমদিয়া সম্প্রদায় ওরফে কাদিয়ানী সম্প্রদায়। সামাজিক, প্রকাশনা জগতের সহ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতেও তাদের থেকে সতর্ক করা হয়ে থাকে কারন তারা নাকি কাফের। কৌতূহল ও অনুসন্ধান এর কারনেই আমি এদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। এলাকার ইমামদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে এই বিষয়ে তারা এড়িয়ে যায় এবং এরা কাফের বলে আখ্যা দেয়। এদের মধ্যে এক জন বলেছেন এরা শুধু কাফের ই নয় এরা বাটপার কাফের। কিন্তু আমি তাদের কে নামাজ, রোজা তথা একজন মুসলমানের জন্য করনীয় ইসলামী আমল আকিদা সমুহ যথারীতি পালন করে থাকতে দেখেছি। ইসলামী দ্বীন পালনে তাদের পালিত জীবন যাপন ও ইসলামের পক্ষে প্রদত্ত যুক্তি বরং আমাদের আলেম,মাওলানাদের চাইতে অনেক বেশি প্রমান ও যুক্তি সাপেক্ষ। এরপর ও এদের কাফের বলা হয়, এই বিষয়ে আপনার বিশ্লেষণী দৃষ্টি কামনা করছি।

    1. ভাই, আহমেদিয়াদের ব্যাপারে আমার অবস্থান হলো: তাদের আক্বিদায় কিছু মৌলিক সমস্যা আছে। এছাড়া তারা ইসলামের ব্যাপারে আমাদের মতোই সিরিয়াস এবং তারা ইসলামের প্রচারে, মানুষের কল্যাণে অনেক অবদান রেখে গেছে। আমি মনে করি: তারা হচ্ছে আমাদের পথ-হারা প্রায়-মুসলিম ভাই-বোন, যাদেরকে ‘কাফির’, ‘শয়তান’, ‘মুশ্‌রিক’ এইসব টাইটেল দিয়ে গালিগালাজ না করে, ভালো করে বোঝালে তারা ঠিকই বুঝতে পারবে তাদের সমস্যা কোথায়। আমরা তাদেরকে সঠিক আক্বিদার বই, লেকচার ধরিয়ে দিলে, তারা সেগুলো পড়ে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখলে বুঝে যাবে বলে আমি মনে করি। সমস্যা হচ্ছে আহমেদিয়াদের লেখা বইগুলো অসাধারণ, এবং আহমেদিয়াদের জনকল্যাণ মূলক কাজ, ইসলামের প্রচারণা এতো চমৎকার যে, তাদেরকে দেখে অনুপ্রাণিত না হয়ে থাকা যায় না। আমরা যারা আহলে-সুন্নাহ-ওয়া-আল জামাহ এর অনুসারী, তারা যদি ওদের মতো এত জনকল্যাণ মূলক কাজ করতাম, এত ভালো ভালো বই লিখতাম, তাহলে আহমেদিয়াদের প্রচার অনেকাংশে কমে যেত।
      যাই হোক,এগুলো সবই আমার ধারণা। আমার ভুল থাকতেই পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *