আমি কি তাকে ভালো-মন্দের পরিষ্কার দুটো পথ দেখিয়ে দেইনি? —আল-বালাদ পর্ব ২

আমি কি তাকে ভালো-মন্দের পরিষ্কার দুটো পথ দেখিয়ে দেইনি? এরপরও সে কঠিন পথে চলার চেষ্টা করেনি। জানো সে কঠিন পথ কী? তা হচ্ছে, দাসকে মুক্তি দেওয়া। অথবা, কঠিন অভাবের দিনে খাবার দান করা, নিকটাত্মীয় এতিমদের এবং দারিদ্রের আঘাতে নিষ্পেষিত অসহায় মানুষকে। তারপর এমন সব মানুষদের একজন হয়ে যাওয়া, যারা গভীর বিশ্বাস করেছে এবং একে অন্যকে ধৈর্য ধারণ করতে তাগাদা দেয় এবং একে অন্যকে দয়া-মমতার প্রতি তাগাদা দেয়। তারাই তো সৌভাগ্যবান দল।

কিন্তু এরপরেও যারা আমার বাণী অস্বীকার করেছে, তারা হতভাগার দল। এদেরকে চারিদিক থেকে আগুন ঘিরে ফেলবে। —আল-বালাদ

আমি কি তাকে ভালো-মন্দের পরিষ্কার দুটো পথ দেখিয়ে দেইনি?

সুধীবৃন্দরা প্রশ্ন করেন, “কেন মানুষকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়ে আবার তাদেরকে এত সব নিয়ম দেওয়া হলো? একদিকে স্রস্টা মানুষকে চিন্তাভাবনার স্বাধীনতা দেবে, নিজের ভালমন্দ বোঝার ক্ষমতা দেবে, আবার অন্যদিকে বলে দেবে যে, এটা করা যাবে না, ওটা খাওয়া যাবে না, এটা দেখা যাবে না, ওটা শোনা যাবে না। —স্বাধীনতা দিয়ে আবার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া—এটা কি স্ববিরোধী কাজ নয়? এরকম স্ববিরোধী কাজ একজন স্রস্টা কীভাবে করতে পারে?”  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার জন্য — আল-বালাদ পর্ব ১

না! আমি শপথ করছি এই শহরের। এমন এক শহরের যার নাগরিক স্বয়ং তুমি। শপথ করছি জন্মদাতার এবং যা সে জন্ম দেয়। নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার জন্য। সে কি মনে করে যে, তার উপরে কারও ক্ষমতা নেই? বলে কিনা, “অনেক টাকা উড়িয়ে দিলাম।” সে কি মনে করে যে, তাকে কেউ দেখছে না?
আমি কি তাকে দুটো চোখ বানিয়ে দেইনি? একটা জিভ, দুটো ঠোঁট? আমি কি তাকে ভালো-মন্দের পরিষ্কার দুটো পথ দেখিয়ে দেইনি? — আল-বালাদ

শপথ করছি জন্মদাতার এবং যা সে জন্ম দেয়

কুর‘আনে যখন আল্লাহ تعالى কোনো কিছুর শপথ নেন, তার মানে সেটা কোনো বিরাট ব্যাপার। মানুষ যেন তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করে। এই সুরাহ’য় আল্লাহ تعالى আমাদেরকে পৃথিবীতে যে প্রাণ জন্ম দেওয়ার পদ্ধতি রয়েছে, তা লক্ষ্য করতে বলছেন। আমরা কি চিন্তা করে দেখেছি, আজকে জন্ম দেওয়ার যে পদ্ধতি আল্লাহ تعالى দিয়েছেন, তার থেকে ভালো কোনো পদ্ধতি কিছু হতে পারে কিনা? যদি কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী তার জন্মদাতা ছাড়াই এমনিতেই জন্ম হতো, তাহলে কী অবস্থা হতো? প্রথম জন্মদাতাকে কে জন্ম দিয়েছিল?

আমরা জানি, মুরগি ডিম পারে, তারপর ডিম থেকে মুরগি হয়। কিন্তু সর্বপ্রথম মুরগি ডিম ছাড়াই কীভাবে জন্ম নিলো? যদি সে ডিম থেকে এসে থাকে, তাহলে সেই ডিম কে পেড়েছিল?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তারপর তাকে তার অবাধ্যতা এবং বাধ্যতার বোধ দেওয়া হয়েছে — আশ-শামস

শপথ সূর্যের, তার উজ্জ্বল আলোর; চাঁদের, যখন তাকে অনুসরণ করে; দিনের, যখন তাকে প্রকাশ করে; এবং রাতের, যখন তাকে ঢেকে ফেলে। শপথ আকাশের এবং তার অসাধারণ নির্মাণের। শপথ পৃথিবীর এবং যেভাবে তা বিস্তৃত করা হয়েছে। শপথ মানবাত্নার এবং তার যথাযথ বিন্যাসের। তারপর তাকে তার অবাধ্যতা এবং বাধ্যতার বোধ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যে একে পরিশুদ্ধ করেছে, সে সফল হয়েছে। আর যে একে নষ্ট করে ফেলেছে, সে ব্যর্থ হয়েছে।

ছামুদ তাদের বিদ্রোহী মনোভাবের জন্য পুরোপুরি অবাধ্য হয়ে গিয়েছিল, যখন তাদের নিষ্ঠুরতমজন মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। তখন আল্লাহর রাসুল তাকে বললেন, “এটা আল্লাহর উট, একে পানি পান করানোর ব্যাপারে সাবধান!” কিন্তু তারা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা শুরু করলো এবং নিষ্ঠুরভাবে উটটিকে হত্যা করলো। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের সবাইকে ভীষণভাবে মেরে একেবারে মাটিতে মিশিয়ে দিলেন। তিনি পরোয়া করেন না এর পরিণতির। [আশ-শামস]

সৃষ্টিজগত-এর শপথ

কুর‘আনে আল্লাহ تعالى বহুবার সৃষ্টিজগতের নানা দিক নিয়ে শপথ করেছেন। এই শপথগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষ যেন ভালো করে সেই ব্যাপারগুলো লক্ষ্য করে। যেমন, “শপথ সূর্যের এবং তার উজ্জ্বল আলোর…” — এই আয়াতে আল্লাহ تعالى আমাদেরকে যেন বলছেন: সূর্যের দিকে লক্ষ্য করেছ? সেটা কীভাবে উজ্জ্বল আলো দেয়? কী প্রচণ্ড শক্তির উৎস এই সূর্য, যার আলো যতদূর চোখ যায় সব আলোকিত করে দেয়? কত বড় আগুনের গোলা হলে এটা এত উত্তাপ দেয় যে, বিশাল এলাকার মাটি শুকিয়ে ফেটে মরুভূমি হয়ে যায়? নদী নালার পানি বাষ্প হয়ে উবে যায়? তোমাদের বানানো কোনো আগুন পারে এর ধারে কাছে কিছু করতে?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তার সম্পদ তার পতনকে ঠেকাতে পারবে না —আল-লাইল

আজকাল অনেক আধুনিক মুসলিম ধর্ম মানার কোনো কারণ খুঁজে পান না। তারা ভাবেন যে, ধর্মীয় রীতিগুলো অনুসরণ করা, যেমন নামাজ পড়া, রোজা রাখা —এগুলো করে কী হবে? এগুলো করে কী মানুষের কোনো লাভ হচ্ছে? মানুষের কষ্ট কমছে? অভাব দূর হচ্ছে? সমাজের সংস্কার হচ্ছে? — তাদেরকে সূরাহ আল-লাইল অনুপ্রেরণা দেবে, কারণ এই সূরাহ’র মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে দান করার গুরুত্ব এবং কৃপণদের কঠিন পরিণতি।

শপথ রাতের যখন তা আধারে ঢেকে যায়। শপথ দিনের যখন তা আলোয় উদ্ভাসিত হয়। শপথ তাঁর নর-নারী সৃষ্টির। তোমাদের চেষ্টাগুলো কতই না ভিন্ন। তবে, যে দান করে এবং আল্লাহকে ভয় পায়, আর ভালো কাজের পরিণামে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সহজকে পাওয়া সহজ করে দেবো। আর যে কৃপণ, মনে করে যে, তার সবই আছে এবং ভালো কাজের পরিণামে অস্বীকার করে, আমি তার জন্য কষ্টের দিকে যাওয়া সহজ করে দেবো। তার সম্পদ তার পতনকে ঠেকাতে পারবে না। —আমার উপরই নির্ভর করে কে সঠিক পথ পাবে। এই দুনিয়া এবং আখিরাত শুধুই আমার।

তাই আমি তোমাদেরকে এক জ্বলন্ত আগুন সম্পর্কে সাবধান করে দিচ্ছি। এটা শুধু কঠিন পাপীদেরকে পুড়িয়ে ছারখার করে, যারা সত্য অস্বীকার করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু যে আল্লাহর প্রতি সাবধান, তাকে এটা থেকে দূরে রাখা হবে। যে তার সম্পদ দান করেছে নিজেকে পবিত্র করার জন্য। যে অন্য কারও কাছ থেকে প্রতিদান পাওয়ার জন্য দান করে না। শুধুই তার সুমহান রবকে পাওয়ার আশায় সে তা করে। অচিরেই এরা সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।  —আল-লাইল

পৃথিবীর মূল ধর্মগুলোর মধ্যে ইসলাম হচ্ছে একমাত্র ধর্ম, যেখানে মানুষের জন্য খরচ করা বাধ্যতামূলক। ইসলামে শুধু মানুষের জন্য খরচ করার নির্দেশই দেওয়া হয়নি, একই সাথে কার জন্য কীভাবে খরচ করতে হবে, সেটাও সুন্দরভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। ইসলামই একমাত্র ধর্ম, যেখানে বিশ্বাসের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে একটি হলো বাধ্যতামূলক দান। যারা মনে করেন: মানব ধর্মই আসল ধর্ম, মানুষের উপকার করতে পারাটাই আসল কথা, নামাজ, রোজা করে কী হবে? —তারা হয়তো জানেন না যে, মানব ধর্মের যে সব ব্যাপার তাদের কাছে এত ভালো লাগে, সেগুলো ইসলামের অংশ মাত্র। একজন প্রকৃত মুসলিম শুধুই একজন নিয়মিত নামাজী, রোজাদার নন, একই সাথে তিনি একজন দানশীল, চরিত্রবান, আইনের প্রতি অনুগত, আদর্শ, বিবেকবান নাগরিক। যিনি সহমর্মিতার এক অনুসরণীয় উদাহরণ।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তোমার রব তোমার উপর যা অনুগ্রহ করেছেন, তা অন্যকে জানাতে থাকো। —আদ-দুহা

শপথ আলোকোজ্জ্বল দিনের। শপথ রাতের, যখন তা স্থির হয়ে যায়। তোমার প্রতিপালক মোটেও তোমাকে ছেড়ে যাননি, বা রাগ করেননি। বরং তোমার জন্য আগামী দিনগুলো হবে আগের দিনগুলোর থেকেও ভালো। অচিরেই তোমার রব তোমাকে যা দেবেন তাতে তুমি সন্তুষ্ট হবে। তিনি কি তোমাকে এতিম অবস্থায় পেয়ে আশ্রয় দেননি? পথ হারা পেয়ে পথ দেখাননি? অভাবী পেয়ে অভাবমুক্ত করেননি? তাই, এতিমদের প্রতি কঠোর হবে না। কেউ কিছু চাইতে আসলে তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেবে না। আর তোমার রব তোমার উপর যা অনুগ্রহ করেছেন, তা অন্যকে জানাতে থাকো। —আদ-দুহা

সুরাহ আদ-দুহা একটি বিখ্যাত সুরা। হাজার বছর আগে এই সূরাহ’য় আল্লাহ تعالى রাসুলকে عليه السلام ভীষণ কষ্টের সময় সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। তারপর গত হাজার বছরে অগণিত মুসলিম এই সূরাহ’র মধ্যে ধৈর্য ধরে কষ্টের সময় পার করার সান্ত্বনা খুঁজে পেয়েছেন। সুরাহ আদ-দুহা মুসলিমদের জন্য হতাশা, অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়ার নিরাময়।

আলো ঝলমল সকাল। সকালের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাস্তায় মানুষের হট্টগোল শোনা যাচ্ছে। বাজার বসেছে। পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে। চারিদিকে প্রাণের বন্যা। সবাই ব্যস্ত তাদের জীবিকার সন্ধানে।

রাতের অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে। বাচ্চারা, বড়রা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। শান্ত, স্থির প্রকৃতি। যারা জেগে আছে, তারা গভীর চিন্তায় আত্মমগ্ন। জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভেবে দেখার সঠিক সময় এটা।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

অবশ্যই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি —আল-ইনশিরাহ

আমি কি তোমার অন্তর প্রশস্ত-প্রশান্ত করে দেইনি? তোমার উপর থেকে ভীষণ বোঝা নামিয়ে দিয়েছি, যা তোমার পিঠ ভেঙ্গে দিচ্ছিল? তোমার মান-সম্মান উঁচু করেছি? তাহলে অবশ্যই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। অবশ্যই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। তাই যখনি কোনো কাজ থেকে অবসর পাও, তখনি নিবেদিত হও, তোমার প্রভুকে পাওয়ার জন্য তাঁর দিকে ফিরে যাও। —আল-ইনশিরাহ

আমি কি তোমার অন্তর প্রশস্ত-প্রশান্ত করে দেইনি?

ধরুন, আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আপনি কাজের পাশাপাশি সন্ধ্যায় ইউনিভারসিটি গিয়ে পার্টটাইম মাস্টার্স বা পিএইচডি করবেন। আপনার পরিবার আপনার এই সিদ্ধান্ত শুনে বড়ই খুশি হবে। বংশে একজন মাস্টার্স/পিএইচডি করা ছেলে/মেয়ে থাকবে, কী সৌভাগ্যের ব্যাপার! ক্লাসে যাওয়ার আগে আপনার জন্য নাস্তা টেবিলে রাখা থাকবে। ক্লাস করে এসে আপনি যেন শান্তিতে ঘুমোতে পারেন, সেজন্য বাচ্চাদেরকে আগেই ঘুম পাড়িয়ে রাখা হবে। মেহমানরা বেড়াতে এসে যেন আপনার পড়াশুনায় ক্ষতি না করে, সেজন্য চৌদ্দগুষ্টিতে সাবধান নোটিস চলে যাবে। কেউ যদি এসেও পড়ে, আপনি দেখা করতে না আসলে কোনো সমস্যা নেই, কারণ আপনার পরীক্ষা চলছে। আপনার পরীক্ষার সময় বাড়িতে কারফিউ পড়ে যাবে। কেউ জোরে টিভি ছাড়বে না, ফোনে গল্প করবে না। কিছুক্ষণ পরপর চা, নাস্তা আসতে থাকবে। আপনাকে যথাসাধ্য সবরকম শান্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। একসময় আপনি মাস্টার্স/পিএইচডি শেষ করবেন। আপনার স্বামী-স্ত্রী-বাবা-মা গর্ব করে সবার কাছে আপনার অর্জনের কথা বলবে।

কিন্তু ধরুন, আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, কাজের পাশাপাশি একটা ইসলামিক ডিগ্রির জন্য পড়াশুনা করবেন, বা এলাকার মুসলিম ভাইবোনদের সাথে নিয়মিত ইসলামি আলোচনায় অংশ নেবেন, বা কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যোগ দেবেন। আপনার পরিবারের সদস্যরা এই কথা শোনার পর আপনার উপর শুরু হবে তাদের যাবতীয় দাবি এবং অভিযোগের বৃষ্টি। এমনিতেই কাজের বাইরে আপনাকে কম পাওয়া যায়, এখন কেন আরও কম পাওয়া যাবে? যেই কাজ করতে আপনি বাধ্য নন, কেন আপনি সেই কাজের পিছনে এত সময় দেবেন? এগুলো না করে শুধু নামাজ-রোজা করলে ক্ষতি কী হবে? আমরা কী মুসলিম না? এগুলো না করলে কি জান্নাতে যাওয়া যায় না?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

এরপরও কীভাবে তুমি বিচার দিনকে অস্বীকার করতে পারো? — আত-তীন পর্ব ২

শপথ ডুমুর এবং জলপাই ফলের। শপথ সিনিন এলাকার তুর পর্বতের। আর এই নিরাপদ শহরের। নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর খাঁড়া গঠনে সৃষ্টি করেছি। তারপর আমি তাকে নিকৃষ্টতম পর্যায়ে নেমে যেতে দেই। তবে তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে এবং সঠিক কাজ করেছে। তাদের জন্য এমন সুন্দর প্রতিদান রয়েছে, যা কখনও শেষ হবে না। এরপরও কীভাবে তুমি বিচার দিনকে অস্বীকার করতে পারো? আল্লাহ কি অন্য সব বিচারকের থেকে বড় বিচারক নন? — আত-ত্বীন

নাস্তিকরা প্রশ্ন করে: যদি সত্যিই সৃষ্টিকর্তা থাকে, তাহলে কীভাবে যুদ্ধ, খুন, ধর্ষণ হয়? কীভাবে স্রস্টা মানুষকে শিশু ধর্ষণের মত বিকৃত সব অপরাধ করতে দেয়? একজন দয়ালু, বুদ্ধিমান, বিবেকবান সৃষ্টিকর্তা কীভাবে মানুষ নামের এরকম হিংস্র, ধ্বংসাত্মক, নিষ্ঠুর একটা প্রাণী তৈরি করতে পারে? মানুষের অস্তিত্বই কী সবচেয়ে বড় প্রমাণ নয় যে, সৃষ্টিকর্তা বলে আসলে কিছু নেই? সবই হচ্ছে স্বার্থপর বিবর্তনের ফসল?

অন্যদিকে, অনেক মুসলিমরা প্রশ্ন করেন: মানুষকে জাহান্নামে এমন সব ভয়ংকর, নিষ্ঠুর শাস্তি কেন দেওয়া হবে? মানুষের অপরাধ আর কতই বা বড় হয় যে, তাকে লক্ষ কোটি বছর আগুনে পোড়াতে হবে? একজন ন্যায়বান স্রস্টা কীভাবে মানুষকে এত শাস্তি দিতে পারে? আর মানুষকে এমনভাবে বানানো হলো কেন যে, সে এত অপরাধ করতে পারে? মানুষকে কি আরেকটু ভালো করে বানানো যেত না?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর খাঁড়া গঠনে সৃষ্টি করেছি —আত-ত্বীন পর্ব ১

শপথ ডুমুর এবং জলপাই ফলের। শপথ সিনিন এলাকার তুর পর্বতের। আর এই নিরাপদ শহরের। নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর খাঁড়া গঠনে সৃষ্টি করেছি। তারপর আমি তাকে নিকৃষ্টতম পর্যায়ে নেমে যেতে দেই। তবে তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে এবং সঠিক কাজ করেছে। তাদের জন্য এমন সুন্দর প্রতিদান রয়েছে, যা কখনও শেষ হবে না। এরপরও কীভাবে তুমি বিচার দিনকে অস্বীকার করতে পারো? আল্লাহ কি অন্য সব বিচারকের থেকে বড় বিচারক নন?  — আত-তীন

শপথ ডুমুর এবং জলপাই ফলের। শপথ তুর পর্বতের। আর এই নিরাপদ শহরের।

আল্লাহ تعالى যখন কোনো কিছুর শপথ করেন, তা নিশ্চয়ই খুবই গুরুত্বপূর্ণ? একারণে অনেকেই গবেষণা করেছেন ডুমুর এবং জলপাই ফলের মধ্যে এমন কী রহস্য রয়েছে যে, কুর‘আনে এই দুটি ফলের নাম দেওয়া হলো? গবেষণা থেকে যদিও এসব ফলের অনেক উপকারিতা বেড়িয়ে এসেছে, কিন্তু আল্লাহর تعالى সৃষ্টি প্রতিটি ফলেরই বিরাট সব উপকারিতা রয়েছে। এক কলা’র বিশাল গুণ নিয়ে একটি প্রবন্ধ লেখা যাবে। তাই আমাদেরকে দেখতে হবে এইসব ফলের নাম এবং তারপর ধারাবাহিকভাবে দুটি জায়গার নাম উল্লেখ করার মধ্যে আর কোনো কারণ আছে কিনা।

অনেক সময় কোনো জায়গার নাম হয়ে যায় সে জায়গায় জন্ম নেওয়া কোনো ফুল, ফল, ফসল বা কোনো বিশেষ ঘটনার নাম থেকে। যেমন, কেউ যদি বলে, “ফজলি আমের কসম!…” এটা শুনলে বাংলাদেশীদের মনে পড়ে রাজশাহীর কথা। একইভাবে আরবদেরকে যখন আত-তীন এবং যয়তুন-এর কথা বলা হয়, তখন তাদের মনে পড়ে বায়তুল মাকদিস-এর আশেপাশের এলাকার কথা যেখানে এই ফলগুলো প্রচুর পরিমাণে জন্মে এবং যেখানে ঈসা (আ)-এর নবুয়ত প্রাপ্তি হয়েছিল। একইভাবে তুর পর্বত হচ্ছে সেই বিশেষ জায়গা, যেখানে আল্লাহ تعالى সরাসরি মুসা عليه السلام-এর সাথে কথা বলেছিলেন। আর নিরাপদ শহর হচ্ছে মক্কা। আজকে পৃথিবীতে তিনটি বৃহত্তম ধর্ম—ইসলাম, খ্রিস্ট এবং ইয়াহুদি—এই তিন জাতির জন্যই এই তিনটি জায়গা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ঘটেছে এই তিন জায়গায়। এই বিশেষ গুরুত্বকে তুলে ধরার জন্যই সম্ভবত আল্লাহ تعالى এই শপথগুলোর উল্লেখ করেছেন।[৪][১৭][১৮]

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তিনি মানবজাতিকে শিখিয়েছেন, যা তারা জানত না — আল-আলাক্ব — পর্ব ২

যিনি মানুষকে এক ঝুলন্ত গঠন থেকে সৃষ্টি করেছেন

আল্লাহ تعالى মানুষকে লক্ষ্য করতে বলছেন এক বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক তথ্যের উপর। মানুষকে তিনি সৃষ্টি করেছেন আলাক্ব অর্থাৎ জমাট বাঁধা রক্ত বা ঝুলন্ত এক গঠন থেকে। এই বাণী যখন মানুষকে দেওয়া হয়েছিল, তখন মানুষ জানত না এই আয়াতের গভীরতা কতখানি। আজকে আমরা অত্যাধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি ভ্রূণ মায়ের গর্ভের দেওয়ালে আঁকড়ে ধরে ঝুলে থাকে। আর আলাক্ব শব্দের অর্থই হচ্ছে এমন একটা কিছু, যা আঁকড়ে ধরে ঝুলে থাকে।

আল্লাহ تعالى যখন মানুষকে তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে বলেন, তখন তার মধ্যে কিছু উদ্দেশ্য থাকে। প্রথম উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহর تعالى অসীম ক্ষমতা, সৃজনশীলতা এবং তাঁর প্রজ্ঞা সম্পর্কে মানুষকে চিন্তা করতে উৎসাহ দেওয়া। একটা মাত্র জমাট বাঁধা রক্ত থেকে একসময় চোখ, মুখ, কান, হাত, পা বের হয়ে বড় সড় একটা পরিপূর্ণ মানুষ তৈরি হয়ে যায়। জমাট বাধা রক্তের মধ্যে কোনো বিবেক, বুদ্ধি, চেতনা কিছুই নেই। এটা একটা বোধ শক্তিহীন জড় পদার্থ। অথচ এই রক্তের ফোঁটা থেকেই মহাবিশ্বের অন্যতম বুদ্ধিমান, চেতন, বিবেকবান, জটিল প্রাণীর জন্ম হয়। কীভাবে এক ফোঁটা রক্তের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণের তথ্য থাকে যে, তা মানুষের প্রতিটি অঙ্গের আকৃতি, গঠন, চামড়ার রঙ, চোখের রঙ, উচ্চতা, শারীরিক ক্ষমতা, মস্তিষ্কের মতো জটিলতম যন্ত্র গঠন করার যাবতীয় নির্দেশ সংরক্ষণ করা থাকে?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন —আল-আলাক্ব — পর্ব ১

পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে এক ঝুলন্ত গঠন থেকে সৃষ্টি করেছেন। পড়ো! তোমার প্রতিপালক বড়ই মহানুভব। তিনি কলমের মাধ্যমে শিখিয়েছেন। তিনি মানবজাতিকে শিখিয়েছেন, যা তারা জানত না।
অথচ মানুষ এমনভাবে প্রকাশ্যে অবাধ্যতা করে, যেন সে নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। যেখানে কিনা সে তোমার প্রভুর কাছে একদিন ফিরে যাবেই।
তুমি কি তাকে দেখেছ, যে আমার বান্দাকে নামাজ পড়তে মানা করে? সে কি নিজে সঠিক পথে আছে? সে কি আল্লাহর প্রতি সাবধান হতে বলে? সে কি নিজে অস্বীকার করে না? মুখ ফিরিয়ে নেয় না? সে কি জানে না যে, আল্লাহ সব দেখেন?
খবরদার! সে যদি এসব বন্ধ না করে, তাহলে আমরা তার মাথার সামনের চুলের ঝুঁটি ধরে তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাবো। মিথ্যাবাদী, পাপী মাথার সামনের ঝুঁটি। ডাকুক সে তার সাঙ্গপাঙ্গদের। আমি জাহান্নামের পাহারাদারদের ডাকবো।
না! ওর কথামত চলবে না। আমাকে সিজদা করো। আমার আরও কাছে এসো। —আল-আলাক্ব

পড়ো

কুর‘আনের প্রথম যেই শব্দটি মানবজাতির কাছে পাঠানো হয়েছে, তা হলো ‘পড়ো’। সৃষ্টিকর্তা মানবজাতিকে শেষবারের মতো তাঁর বাণী পাঠানোর সময় কেন ‘পড়ো’ শব্দটি দিয়ে শুরু করলেন, তা আমাদের বোঝা দরকার। নিশ্চয়ই এর মধ্যে এক বিরাট শিক্ষার বিষয় রয়েছে।

আল্লাহ تعالى শুরু করতে পারতেন তাঁর تعالى পরিচয় দিয়ে, যেমন “তিনি আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়”। অথবা ‘নামাজ পড়ো’, ‘সিজদা করো’ এধরনের ধর্মীয় নির্দেশ দিয়ে। কিন্তু তা না করে তিনি تعالى শুরু করেছেন ‘পড়ো’ দিয়ে।  আজকে মুসলিম জাতির দুরবস্থার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, একটি মূল কারণ হচ্ছে না পড়া। আমরা বেশিরভাগই ইসলাম শিখি শুনে। পড়ে নয়। লোকমুখে প্রচলিত নানা বিশ্বাস, ধারনা আজকে আমাদের কাছে ইসলাম হয়ে গেছে। “অমুকে বলেছে তমুক সুরা লিখে ঝুলিয়ে রাখলে নাকি দুর্ঘটনা হয় না। শুনেছি অমুক সময়ে তমুক নামাজ পড়লে নাকি ব্যবসা ভালো যায়, স্বাস্থ্য ভালো হয়। শুনেছি তমুক মাজারের মাটিতে নাকি বরকত আছে। ওখানে গিয়ে দুআ করলে দুআ কবুল হয়। আমার বাপ-দাদাকে দেখেছি অমুক করতে, নিশ্চয়ই সেটা সঠিক। তারা কি সারাজীবন ভুল করেছেন নাকি?” —এই হচ্ছে আজকে মুসলিম জাতির একটা বিরাট অংশের মানসিকতা। প্রচলিত ধ্যান-ধারনা বিশ্বাসকে পড়ে যাচাই করে দেখার মানসিকতা ও প্রয়োজনীয়তার বড়ই অভাব।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)