যারা পেছনে কথা লাগায়, সামনাসামনি অপমান করে —এরা সব শেষ হয়ে যাক —আল-হুমাযাহ

যারা পেছনে কথা লাগায়, সামনাসামনি অপমান করে —এরা সব শেষ হয়ে যাক। যে সম্পদ জমা করে গুণেগুণে রেখে মনে করে যে, তার সম্পদ তাকে অমর করে রাখবে। কখনই না! তাকে ছুড়ে ফেলা হবে এক চূর্ণবিচূর্ণকারীর ভেতরে। জানো সেটা কী? সেটা আল্লাহর আগুন, লেলিহান শিখা। এটা মানুষের হৃদয়-মনকে জ্বালিয়ে দিয়ে আসে। এটা তাদের উপর ঘিরে আসবে। উঁচু উঁচু থামে। —আল-হুমাযাহ

হুমাযাহ হচ্ছে কারও পেছনে কথা লাগানো, গীবত করা। আর লুমাযাহ হচ্ছে কাউকে সামনা-সামনি দোষ ধরে অপমান করা, বাজে আচরণ করা।[৫] কিছু উদাহরণ দেই—

ফোন এসেছে। ওপাশ থেকে বলছে, “ভাবী, কেমন আছেন? আপনাকে অনেকদিন ফোন করে পাই না।” ভাবী উত্তর দিলেন, “আমার ফোনটা নষ্ট ছিল। ঠিক করতে দিয়েছিলাম।” ওপাশ থেকে, “ঠিক করতে? কেন ভাইসাহেব কি আপনাকে নতুন ফোন কিনে দেয় না? আজকাল সবার হাতে আমি-ফোন ৭। আমাকে ও নতুন মডেল বের হলেই কিনে দেয়। আপনারটা তো বোধহয় এখনও আমি-ফোন ৪ তাই না?” ভাবী বললেন, “না, না, অবশ্যই দেয়। আমি নিজেই কিনি না। আগেরটা তো চলছেই।” ওপাশ থেকে, “এটা কেমন কথা হলো? আপনি ঘরের সব কাজ করেন। বাচ্চাদের পালেন। আবার আপনাকে ভাঙ্গা ফোনও চালাতে হবে? ভাই মনে হচ্ছে আপনাকে ঠিকমতো কদর করেন না।”

ব্যাস, ভাবীর মাথায় ঢুকে গেলো, “ভাই আপনাকে ঠিকমতো কদর করেন না।” প্রথমে একটু মন খারাপ হলো। তারপর অভিমান। অভিমান বাড়তে বাড়তে রাগে পরিণত হলো। রাগ থেকে ঘৃণা। সন্ধ্যায় স্বামী যখন ঘরে ঢুকল, তখন থমথমে অবস্থা। স্বামী যখন বলল, “ইয়ে, খুব ক্ষুধা লেগেছে, একটু নাস্তা দেবে?”, সাথে সাথে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ!

—ফোন যে করেছিল, সে হচ্ছে হুমাযাহ। এরা মানুষে মানুষে কথা লাগায়। কানা-ঘুষা করে। অন্যের চরকায় তেল দেওয়া হচ্ছে এদের জীবিকা। এরা তাদের লিকলিকে জিভ দিয়ে অন্যের অন্তরে বিষ ঢেলে দেয়।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তুমি কি দেখোনি তোমার প্রভু হাতিওয়ালাদের কী অবস্থা করেছিলেন? —আল-ফীল

তুমি কি দেখোনি তোমার প্রভু হাতিওয়ালাদের কী অবস্থা করেছিলেন? তিনি কি তাদের পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেননি? তাদের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন। যারা ওদেরকে পোড়া মাটির পাথর ছুরে মারলো। তারপর ওরা চিবানো খড়কুটোর মতো পড়ে রইল। —আল-ফীল

রাসুল عليه السلام জন্ম হওয়ার কয়েক বছর আগে ইয়েমেনের একজন গভর্নর আবরাহা দেখল যে, মক্কায় কা’বাকে ঘিরে ব্যাপক ব্যবসা-বাণিজ্য হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ মানুষ হাজ্জ করতে আসে। সে সুযোগে মক্কাবাসীরা হাজিদের সাথে ব্যবসা করে অনেক সম্পদের অধিকারী হয়ে যায়। তখন সে ভাবল যে, সে-ও একটা বিরাট গির্জা তৈরি করবে এবং হাজ্জের মতো সেই গির্জাতে তীর্থযাত্রা করার প্রচলন করবে। কিন্তু তার পরিকল্পনা কাজে লাগলো না। তার সাধের গির্জাতে বেশি মানুষ আসলো না। শুধু তাই না, কিছু আরব গিয়ে তার গির্জায় আগুন লাগিয়ে দিলো। তখন সে মহা ক্ষেপে গিয়ে তার বাহিনী নিয়ে মক্কায় গেল কা’বা ধ্বংস করে দিতে।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

যিনি তাদেরকে ক্ষুধার সময় খাবার দিয়েছেন, ভয়ের সময় নিরাপত্তা দিয়েছেন —আল-কুরাইশ

কুরাইশদের স্বাচ্ছন্দের জন্যই তো! শীত, গ্রীষ্মে ওদের বাণিজ্য ভ্রমণের স্বাচ্ছন্দের জন্য। তাহলে তারা যেন এই ঘরের রবের ইবাদত করে। যিনি তাদেরকে ক্ষুধার সময় খাবার দিয়েছেন, ভয়ের সময় নিরাপত্তা দিয়েছেন। [আল-কুরাইশ]

আমরা যদি মক্কার অবস্থান দেখি, তাহলে দেখবো, এই শহরটা টিকে থাকার কোনো কারণ নেই। এখানে কোনো উর্বর জমি নেই চাষ করার মতো। কোনো নদী-নালা নেই সেচের জন্য। ফসল উৎপাদন করার কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো মনমুগ্ধকর বাগান বা বেড়াবার জায়গাও নেই। পাহাড়গুলোও এমন যে, সেখানে কোনো দুর্লভ খনিজ পাওয়া যায় না, যা বিক্রি করে মক্কাবাসীরা ধনী হয়ে যেতে পারে। চারিদিকে ধুধু মরুভূমি, শক্ত পাথর এবং দুর্গম পাহাড়ে ঘেরা। শুকনো, ধুসর এক মৃত জায়গা। সবদিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মক্কা এমন এক জায়গায় রয়েছে, যেখানে কোনো সভ্যতা টীকে থাকতে পারার কথা না। অথচ মক্কা শুধুই যে টিকে আছে তা নয়, সেখানে পুরো আরবের সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত এবং অন্যতম ধনী কুরাইশ জাতি রাজত্ব করে গেছে। গত হাজার বছরে মক্কা এক অভিজাত নগরীতে পরিণত হয়েছে। আরবদের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের চরম নিদর্শন সেখানে দেখা যাচ্ছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে আল্লাহর تعالى বিশেষ অনুগ্রহে। মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হতো না মক্কার মতো একটা বিরান জায়গায় সভ্যতা গড়ে তোলার।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তাই, নামাজিরা শেষ হয়ে যাক —আল-মাউন

যেলোকটা বিচারদিনকে অস্বীকার করে তাকে খেয়াল করেছ? এরা এতিমদেরকে তাড়িয়ে দেয়। অভাবীদের খাবার  তাদেরকে দিতে উৎসাহও দেয় না। তাই, নামাজিরা শেষ হয়ে যাক। যারা নামাজের ব্যাপারে খামখেয়ালী। যারা লোক দেখিয়ে করে। ছোটখাটো উপকার করতেও তারা মানা করে। [আল-মাউন]

এরা এতিমদেরকে তাড়িয়ে দেয়

আমাদের যাদের ছোট বাচ্চা আছে, তারা জানি দিনের মধ্যে কতবার তারা বাবা-মাকে ডাকে। বাবা-মা কিছুক্ষণের জন্য চোখের আড়াল হলেই তারা অস্থির হয়ে ‘বাবা! মা! কোথায় তোমরা?’ ডাকাডাকি শুরু করে। আর আজকের নিষ্ঠুর সমাজে অল্প বয়সে বাবা-মা হারিয়ে ফেলা একটি ছোট বাচ্চা কীভাবে একা বেঁচে থাকে, কী খায়, কোথায় ঘুমায়, জ্বর হলে কে তাকে মাথায় পানি ঢেলে দেয়, রাতের বেলা কে তাকে কোলে নিয়ে হেঁটে ঘুম পাড়ায়? —এগুলো নিয়ে আমরা কতখানি ভাবি? সারাদিন আমাদের মনের কোনায় চিন্তা চলতে থাকে: নিজের বাচ্চাকে কী খাওয়াবো, কখন ঘুম পাড়াবো, কোথায় পড়াবো, কোথায় ঘুরতে নিয়ে যাবো, কী খেলনা কিনে দেবো — আর ওদিকে লক্ষ লক্ষ ছোট বাচ্চারা বাবা-মা ছাড়া একা বড় হচ্ছে চরম অবহেলা, অনাদরে, মানুষের নিষ্ঠুর ব্যবহার সহ্য করে। আমাদের চারপাশের এই ভয়ংকর কঠিন বাস্তবতাকে আমরা কোনো কারণে যতটা পারি ভুলে থাকার চেষ্টা করি। নিজের জীবনের সব সাধ-আহ্লাদ কীভাবে পূরণ করা যায়, সেটা নিয়েই ব্যস্ত থাকি।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তাই তুমি তোমার প্রভুর প্রতি সালাত পড়ো, আর বড় কুরবানি করো —আল-কাউছার

আমি তোমাকে আল-কাউছার উপহার দিয়ে দিয়েছি, তাই তুমি তোমার প্রভুর প্রতি সালাত পড়ো, আর বড় কুরবানি করো। তোমার শত্রুরাই তো নির্বংশ। [আল-কাউছার]

একদিন আমাদের বাবা-মাকে কবরে শুইয়ে দিয়ে আসতে হবে, এই নিয়তি মেনে নেওয়াটা বড় কষ্টের। প্রত্যেক বিবেকবান মানুষের জন্য সেদিন এক ভীষণ কষ্টের দিন। কিন্তু নিজের সন্তানকে কোনোদিন নিজের হাতে কাফনে জড়িয়ে কবরে শুইয়ে দিয়ে আসবো, এই চিন্তা কোনো বাবা-মা’র পক্ষে করা সম্ভব নয়। আদরের ছোট শিশু সন্তানকে কবর দেওয়ার মত কষ্টের অভিজ্ঞতা পৃথিবীতে আর একটিও নেই। রাসুল عليه السلام এর সাতটি সন্তান ছিল। ছয়টি সন্তানই অল্প বয়সে মারা গিয়েছিল, শুধুই ফাতিমা (রা) বেঁচে ছিলেন। রাসুল عليه السلام নিজের হাতে ছয়-ছয়টি সন্তানকে কবর দিয়েছেন।

আমরা কেউ কোনোদিন কল্পনাও করতে পারবো না সেটা কত কষ্টের অভিজ্ঞতা হতে পারে। একজন বাবা-মার পক্ষে সারাজীবনেও কোনোদিন সেই অভিজ্ঞতা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। একটি সন্তানের মৃত্যু হয়ত সামলানো যায়। দুটো, তিনটে হলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়া শুরু হয়। আর ছয়-ছয়টা সন্তানের মৃত্যু কী ভয়ংকর কষ্টের ব্যাপার হতে পারে, আমরা কোনোদিন কল্পনাও করতে পারবো না। বিশেষ করে তার শিশু সন্তান আব্দাল্লাহ এর মৃত্যুর অভিজ্ঞতা ছিল অনেক বেশি কষ্টের।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)