একই খাবার আর খাবো না — আল-বাক্বারাহ ৬১ পর্ব ১

কল্পনা করুন: বনী ইসরাইলের কয়েকজন বসে আড্ডা দিচ্ছে। আড্ডা প্রসঙ্গে খাবারের কথা আসলো। তখন দুই জনের মধ্যে কথোপকথন শুরু হলো—

“আজকে দুপুরের মেনু কি?”
— “মান্‌ন, আর সাথে সালওয়া।”
“আচ্ছা। রাতের মেনু কি?”
— “সালওয়া, আর সাথে মান্‌ন।”

দিনের পর দিন মান্‌ন এবং সালওয়া খেয়ে তারা বিরক্ত। তাদের খাবারের মেনুতে বৈচিত্র্য দরকার। তারা নবী মূসার عليه السلام কাছে গিয়ে আপত্তি জানাল—

2_61_1

মনে করে দেখো, যখন তোমরা বলেছিলে, “মূসা, আমরা এই একই খাবার খেয়ে আর থাকতে পারব না। ” এই পৃথিবীতে জন্মায় এমন সব খাবারের জন্য তোমার প্রভুর কাছে দু’আ করো— যেমন তরকারি, শসা, রসুন, ডাল, পেঁয়াজ।

তারা মুসা নবীকে عليه السلام একেবারে পুরো বাজারের লিস্ট ধরিয়ে দিল আল্লাহর تعالى কাছ থেকে নিয়ে আসার জন্য!

fruitsalad

আপাত দৃষ্টিতে আপনার মনে হতে পারে, “ওরা তো ঠিকই করেছে। একই খাবার আর কয়দিন খাওয়া যায়? আমাকে যদি বছরের পর বছর মান্‌ন এবং সালওয়া খেতে হতো, তাহলে আমিও কি একদিন বিরক্ত হয়ে যেতাম না?”

যদি আপনার তাই মনে হয়, তাহলে এই ঘটনাটির প্রেক্ষাপট একবার চিন্তা করুন—

তৃতীয় ফিরাউন (মিশরের তখনকার রাজাদের উপাধি) যার নাম ছিল: ‘রামসিস ২’, কোনোভাবে জানতে পেরেছিল যে, বনী ইসরাইলের বংশে একটি ছেলে জন্মাবে, যে বড় হয়ে তার রাজত্ব এবং ক্ষমতা কেড়ে নেবে। তা প্রতিহত করতে সে প্রতি বছর বনী ইসরাইলিদের নবজাতক ছেলে শিশুদের জবাই করে বা শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলা শুরু করেছিল।[৪][১] শুধু তাই না, সে তাদের মেয়েদেরকে বাঁচিয়ে রাখত, যেন তাদের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়ে তাদের মুখ কালো করে দিতে পারে। বনী ইসরাইলিরা যেন বংশ বৃদ্ধি করে শক্তিশালী হয়ে যেতে না পারে, তার জন্য সব ধরনের বীভৎস ব্যবস্থা সে করে রেখেছিল।

আল্লাহ تعالى বনী ইসরাইলিদেরকে ফিরাউনের এই ভয়ঙ্কর অত্যাচার থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা করলেন। তিনি তাদেরকে স্বাধীন করে এক নতুন দেশের দিকে নিয়ে গেলেন। যাওয়ার পথে মরুভূমিতে যখন তাদের খাবারের দরকার পড়ল, তখন তিনি তাদেরকে আকাশ থেকে এমন এক অসাধারণ খাবার মান্‌ন[২০] পাঠালেন, যেটা তাদেরকে কষ্ট করে চাষ করতে হতো না, মাঠ থেকে তুলে এনে রান্না করেও খেতে হতো না, এমনকি খাওয়ার পর পরিত্যক্ত খাবার ডাস্টবিনে গিয়েও ফেলতে হতো না — তা নিজেই উবে যেত।[১][২০] মরুভূমিটা তাদের জন্য ব্যুফে সার্ভিস হয়ে গিয়েছিল। হেঁটে হেঁটে থালায় করে ইচ্ছেমতো মান্‌ন সংগ্রহ করে, আরামে বসে খাওয়া, আর গল্প করা ছাড়া তাদের আর কোনো কষ্টই করতে হতো না।

শুধু তাই না, তিনি তাদেরকে সালওয়া নামক একধরনের পাখি পাঠিয়ে দিলেন। এই পাখিগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে এসে তাদের সামনে মাটিতে বসে থাকত, ধরতে গেলেও পালিয়ে যেত না।[১][৪] একেবারে বিনামূল্য মাংসের হোম ডেলিভারি! একটু কষ্ট করে আগুনে ঝলসিয়ে খেলেই হলো।

কিন্তু এই দুটি সম্পূর্ণ ফ্রি, স্বাস্থ্যকর, ঝামেলাবিহীন খাবার খেয়ে তাদের বেশিদিন মন ভরল না। একসময় তারা খাবারের মেন্যুতে আরও বৈচিত্র্যের জন্য আবদার জানানো শুরু করল এবং তারা মিশরে থাকার সময় সেখানকার রান্না করা স্বাভাবিক খাবারের জন্য দাবি করা শুরু করল। মিশরের খাবারের কথা মনে করাটা যে কী বড় ধরনের অকৃতজ্ঞতার প্রমাণ, সেটা বুঝতে হলে নিচের উদাহরণটি দেখুন—

ধরুন একজন লোক ত্রিশ বছর জেল খেটে আসলো। সে বাসায় আসার পর তার স্ত্রী–যে কিনা তার জন্য ত্রিশ বছর ধৈর্য ধরে একা সংসার আগলে রেখেছিল–সে তাকে গভীর ভালবাসায় নিজের হাতে রান্না করে কত কিছু খাওয়াচ্ছে! কিন্তু একদিন স্ত্রীর রান্না করা ডাল খেতে খেতে লোকটা আফসোস করে বলল, “আহারে! জেলের বাবুর্চিটার ডালটা কী মজাই না ছিল। ঘন ডাল, একদম ঠিকমত পেঁয়াজ-লবণ দেওয়া। তেলের পরিমাণটাও ছিল পারফেক্ট। ইস্‌, সেই ঘন ডালটা এখন খেতে খুব ইচ্ছে করছে।”

একটা মানুষ কত বড় অকৃতজ্ঞ হলে এধরনের কথা বলতে পারে? কেউ যদি একসময় জেলের খাবারের জন্য আফসোস করা শুরু করে, তার মানে দাঁড়ায় সে আসলে জেলের জীবনটার জন্যই আফসোস করছে।

মানুষ অভ্যাসের দাস। সে যখন দীর্ঘদিন নিম্নমানের কিছু একটা পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন তার মধ্যে একধরনের মানসিক দাসত্ব চলে আসে। সে তখন ভালো কিছু পেলেও সেটাকে আর ধরে রাখার চেষ্টা করে না। এই দোষটা শুধু বনী ইসরাইলিদেরই নয়, আজকের যুগের মানুষের মধ্যেও রয়েছে। আমরা আমাদের আশেপাশের ‘সুশীল সমাজ’, ভারতীয় এবং পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি, পাশ্চাত্যের ব্যক্তিত্ব — এদের প্রতি একধরনের অন্ধ আনুগত্য করি। জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই আমরা এদেরকে আদর্শ হিসেবে নিয়ে অনুকরণ করা শুরু করি, অথচ আমাদের ঘরে আলমারির উপরে ধুলা জমে থাকা কু’রআনে দেওয়া মহান সৃষ্টিকর্তার বাণী থেকে উপদেশ নেওয়ার তাগাদা অনুভব করি না।

আরেকটি ব্যাপার লক্ষ্য করুন, খাবারের আবদার তারা নিজেরা করেনি। আল্লাহর কাছে হাত তুলে আরও খাবারের জন্য দু’আ করার মতো মানসিকতা তাদের নেই। কারণ তারা জানে যে, তারা পেছনে পেছনে আল্লাহর تعالى নামে কত বাজে কথা বলে, কত অন্যায় করে। তারা বুঝে গেছে যে, তারা জীবনে এত পাপ করেছে যে, এখন তারা যদি আল্লাহর تعالى কাছে সরাসরি হাত তুলে কোনোকিছু চায়, তাহলে আল্লাহ تعالى তাদের দু’আ শুনবেন না। তাই তারা নবী মূসাকে عليه السلام গিয়ে বলল তাদের হয়ে আল্লাহর تعالى কাছে দু’আ করতে।

বনী ইসরাইলের এই একই সমস্যা আজকের অনেক মুসলিম এবং অন্য ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও আছে। তারা জানে যে, আল্লাহ تعالى (বা অন্য ধর্মের সর্বোচ্চ সৃষ্টিকর্তা) হচ্ছেন Absolute Just – পরম বিচারক, পরম ন্যায়পরায়ণ। তিনি সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করবেনই। এখন তারা যে প্রতিদিন তাঁর দেওয়া নিয়ম ভাঙছে, এদিক ওদিকে ফাঁকি দিচ্ছে, নিজের সুবিধার জন্য একটু ঘুষ দিচ্ছে, একটু সুদ দিচ্ছে — এগুলোর প্রত্যেকটা যদি গুণে গুণে হিসাব করা হয় এবং প্রতিটা অপকর্মের বিচার করা হয়, তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে! জান্নাত/স্বর্গ পাওয়ার কোনো আশাই থাকবে না! তাহলে কী করা যায়?

দেখি স্রষ্টার অধীনে কাউকে হাত করা যায় কি না। তাহলে তাকে দিয়ে শেষ বিচারের দিন স্রষ্টাকে বলালে, হয়ত স্রষ্টা কিছু দোষ মাফ করে দেবেন। এই ধারণা থেকে তারা চেষ্টা করে কোনো এক পীর বাবার মুরিদ হবার, কোনো এক নবীর দিনরাত গুণগান করার, কোনো এক দেবতাকে সন্তুষ্ট করার, যাতে করে সেই পীর/নবী/দেবতা একদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে তার অপকর্মের বিচার হালকা করার জন্য তদবির করতে পারে।

এই ধরনের মানুষরা জানে যে, তারা এত বেশি অপকর্ম করেছে যে, তারা আর স্রষ্টাকে মুখ দেখাতে পারবে না। তাই তারা খুঁজে দেখে কতভাবে ফাঁকিবাজি করে  পালানো যায়। তারা নামাজ ফাঁকি দেওয়া বন্ধ করবে না, ঘুষ খাওয়া বন্ধ করবে না, অর্ধ নগ্ন হয়ে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়া ছাড়বে না। কিন্তু ঠিকই চেষ্টা করবে কীভাবে আল্লাহর تعالى ‘কাছাকাছি’ কাউকে হাত করে বিচার থেকে পালানো যায়। কীভাবে দোষগুলো অন্য কোনোভাবে ধামাচাপা দেওয়া যায়।

এভাবে মানুষ নিজেকে সংশোধন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা না করে, বরং যতসব দুই নম্বরি উপায় নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদেরকে দেখে অন্যরাও একই কাজ করা শুরু করে দেয়। শুরু হয় সমাজের এবং দেশের পতন। মাঝখান থেকে তাদের ধর্মীয় বেশভূষায় করা অপকর্মের কারণে তাদের ধর্মের ব্যাপক বদনাম হয়ে যায় এবং মানুষ সেই ধর্মের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে।

আল-বাক্বারাহর এই আয়াতে ফেরত আসা যাক। আল্লাহর تعالى পাঠানো খাবারের প্রতি বনী ইসরাইলিদের এত বড় অকৃতজ্ঞতা দেখে নবী মূসা عليه السلام রেগে গিয়ে বললেন—

2_61_2

মূসা বললেন, “তোমরা কি উত্তম কিছুকে নিম্নতর কিছু দিয়ে বদল করতে চাও?”

প্রথমত, মান্‌ন ছিল মহান আল্লাহর تعالى নিজের পাঠানো অলৌকিক খাবার। এর সাথে পৃথিবীতে উৎপন্ন হয় এমন কোনো খাবারের কোনো তুলনাই চলে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, তারা যখন মান্‌ন এবং সালওয়া খেত, তখন তাদেরকে খাবারের জন্য কোনো কষ্টই করতে হতো না। তাদের জন্য সারাটা দিন এবং রাত অবসর পড়ে থাকত আল্লাহর تعالى ইবাদত ও নিজেদের উন্নয়ন করার জন্য, জীবনকে সঠিকভাবে উপভোগ করার জন্য। ফিরাউনের অত্যাচারে বছরের পর বছর থাকার পর, তাদের মনে যে ভয়ঙ্কর মানসিক ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ক্ষত শুকানোর জন্য এর চেয়ে সুন্দর “বিনামূল্যে বিদেশ ভ্রমণ এবং তিনবেলা হোটেলে থাকা-খাওয়ার প্যাকেজ” আর কিছু হতে পারে না। আল্লাহ تعالى তাদেরকে এত বড় একটা সুযোগ দিলেন: তাদের আধ্যাত্মিক উন্নয়ন, চরিত্র গঠন, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য, যেন তারা পৃথিবীতে আল্লাহর تعالى সঠিক ধর্ম প্রচার করার জন্য যোগ্য জাতি হতে পারে।[৩] কিন্তু “বসতে দিলে, শুতে চায়” ধরনের স্বভাব থেকে, তারা এত বড় একটা সুযোগের মূল্য দিল না।

আজকের দিনে এরকম একটা জীবন আমরা জান্নাত ছাড়া এই দুনিয়াতে চিন্তাও করতে পারি না। আজকে আমাদের জীবনের এক তৃতীয়াংশের বেশি সময় ব্যয় হয় খাবার জোগাড় করতে গিয়ে। প্রথমে আমাদেরকে বছরের পর বছর পড়ালেখা করতে হয়, যেন একদিন চাকরি-ব্যবসা করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারি। তারপর একদিন পড়ালেখা শেষ করে চাকরি-ব্যবসার পিছনে দিনরাত ছুটতে হয় খাবার কেনার জন্য টাকা জোগাড় করতে গিয়ে। তারপর সেই টাকা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় জামে পড়ে বাজার করতে হয়। তারপর সেই বাজার বাসায় এনে ধুয়ে, কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রান্না করে খেতে হয়। তারপর বাকি খাবার বেড়ে ফ্রিজে যত্ন করে তুলে রাখতে হয়। খাবারের উচ্ছিষ্ট ডাস্টবিনে গিয়ে ফেলতে হয়। তারপর থালা বাসন ধুয়ে রাখতে হয়। এভাবে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের জীবনের একটা বিরাট অংশ ব্যয় হয় খাবারের পেছনে।

যদি আমাদেরকে কেউ এসে প্রতিদিন ফ্রি খাবার দিয়ে যেত, তাহলে আমাদের জীবনের একটা বিরাট সময় আমরা আল্লাহর تعالى ইবাদতে, নিজেদের উন্নয়নে, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায়, সঠিক, সুন্দর বিনোদনে ব্যয় করতে পারতাম। আজকে যদি আমাদেরকে কেউ মান্‌ন এবং সালওয়া ধরনের স্বাস্থ্যকর, ঝামেলাবিহীন ফ্রি খাবারের প্রস্তাব দেয় এবং সেই ফ্রি খাবারের মেনুতে যদি মাত্র দুটা আইটেমও থাকে, তারপরেও আমরা অনেকেই সানন্দে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাব। আর সেটা যদি হয় ফিরাউনের মতো কোনো দেশের সরকারের ভয়ঙ্কর অত্যাচার বছরের পর বছর সহ্য করার পর, তাহলে তো কথাই নেই!

আল্লাহর تعالى দেওয়া উন্নততর খাবারের প্রতি সন্তুষ্ট না থেকে, নিকৃষ্ট খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা শুধু বনী ইসরাইলিদেরই নয়, আজকের যুগের অনেক মানুষের মধ্যেও আছে। আল্লাহ تعالى আমাদেরকে প্রকৃতিতে হাজার রকমের পানীয় দিয়েছেন—ডাবের পানি, তালের রস, আখের রস; আপেল-কমলা-আঙ্গুরসহ শত ফলের জুস; গ্রিন-টি, হারবাল-টিসহ শত ধরণের স্বাদের চা, কফি—কিন্তু তারপরেও ক্ষতিকর কোক, পেপসি, বিয়ার, হুইস্কি পান করার জন্য আমাদের অন্তর খাঁ খাঁ করতে থাকে। প্রকৃতিতে কয়েক হাজার রকমের স্বাস্থ্যকর, সুস্বাদু পানীয় পেয়েও আমাদের মন ভরে না। প্রকৃতির দেওয়া স্বাস্থ্যকর ফলগুলোকে বিকৃত করে, গাঁজিয়ে, বেশি করে চিনি এবং কেমিক্যাল দিয়ে বিষাক্ত কক্টেইল বানিয়ে পান করে আমাদের মন ভরাতে হয়।

আল্লাহ تعالى আমাদেরকে প্রকৃতিতে হাঁস-মুরগি-গরু-ছাগল-ভেড়া, নদীতে হাজারো প্রজাতির মাছ, সমুদ্রে লক্ষ প্রজাতির সামুদ্রিক খাবার ও অনেক রকমের পাখি দিয়েছেন খাওয়ার জন্য। কিন্তু তারপরেও একদল মানুষ শুকরের মাংসের স্বাদের জন্য পাগল। যেই বীভৎস প্রাণীটি ঘিঞ্জি ফার্মে থেকে নিজের মল খায়, নিজের মৃত বাচ্চা এবং অন্যের টিউমার কামড়ে খায়[২৩], যার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ভাইরাল এবং পরজীবীবাহিত রোগ ছড়ায়[২৪], যার মাংস আজকে পৃথিবীতে সবচেয়ে দূষিত[২৫], যেই প্রাণীর মাংস খেতে তাওরাত, ইঞ্জিল, কু’রআন তিনটি মূল ধর্মীয় বইয়েই[২৬] কঠোরভাবে নিষেধ করা আছে, সেই প্রাণী আজকে অনেক দেশে গরু-ছাগল-ভেড়ার থেকে বেশি খাওয়া হয়।

আল্লাহ تعالى আমাদেরকে প্রকৃতিতে স্বাস্থ্যকর শস্য, যেমন আলু, গম, চাল দিয়েছেন। আমরা সেগুলোকে রুটি, ভাত বানিয়ে খেতে পারি। কিন্তু না, আমাদের দরকার তিন দিনের বাসি তেলে ভাজা, ফ্যাট ভর্তি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পুড়িয়ে শেষ করে ফেলা তেলতেলে চিকেন ব্রোস্ট, গলগলে পনিরভর্তি পিঁৎজা — যেগুলো খেয়ে আমাদের পেটের মধ্যে থলথলে চর্বি জমে, লিভার নষ্ট হয়ে যায়, রক্ত চাপ বেড়ে যায়। তারপর অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে বছরের পর বছর কোঁকাতে হয়। নিকৃষ্ট জিনিসের প্রতি কেন জানি আমাদের আজন্ম আগ্রহ। বনী ইসরাইলিদের এই বদঅভ্যাস হাজার বছর পরেও আমাদের মধ্যে থেকে যাচ্ছে না।

সুত্র:

  • [১] নওমান আলি খানের সূরা বাকারাহ এর উপর লেকচার।
  • [২] ম্যাসেজ অফ দা কু’রআন — মুহাম্মাদ আসাদ।
  • [৩] তাফহিমুল কু’রআন — মাওলানা মাওদুদি।
  • [৪] মা’রিফুল কু’রআন — মুফতি শাফি উসমানী।
  • [৫] মুহাম্মাদ মোহার আলি — A Word for Word Meaning of The Quran
  • [৬] সৈয়দ কুতব — In the Shade of the Quran
  • [৭] তাদাব্বুরে কু’রআন — আমিন আহসান ইসলাহি।
  • [৮] তাফসিরে তাওযীহুল কু’রআন — মুফতি তাক্বি উসমানী।
  • [৯] বায়ান আল কু’রআন — ড: ইসরার আহমেদ।
  • [২০] মান্‌ন শব্দের বিস্তারিত অর্থ — http://ejtaal.net/aa/img/br/9/br-0924.png
  • [২৩] ফার্মের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বীভৎসভাবে হত্যা করা গবাদিপশু — http://www.youtube.com/watch?v=32IDVdgmzKA
  • [২৪] শুকর থেকে ছড়ানো অসুখ — http://www.oie.int/doc/ged/D9117.PDF, http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/9329109
  • [২৫] শুকরের মাংস টক্সিক — http://www.draxe.com/why-you-should-avoid-pork/, http://articles.mercola.com/sites/articles/archive/2012/12/12/eating-pork.aspx
  • [২৬] শুকরের মাংসের উপর নিষেধাজ্ঞা — Deuteronomy 14:8, Leviticus 11:7, আল-বাক্বারাহ ১৭৩

নতুন আর্টিকেল বের হলে জানতে চাইলে কু’রআনের কথা ফেইসবুক পেইজে লাইক করে রাখুন—


ডাউনলোড করুন কুর‘আনের কথা অ্যাপ

One thought on “একই খাবার আর খাবো না — আল-বাক্বারাহ ৬১ পর্ব ১”

  1. ভাই, কঠিন কথা লিখছেন। আল্লাহ আপনাকে দ্বীনের আরও প্রশস্ত বুঝ দান করুক।
    এগুলা পাশাপাশি ইংরেজি ও লিখে ফেলেন। তাহলে অনেক বড় অডিএন্স এর লাভ হবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *