মানুষ হতভম্ব হয়ে বলবে, “কী হচ্ছে এর!” —আয-যালযালাহ

পৃথিবীকে যখন ভীষণভাবে ঝাঁকানো হবে এবং পৃথিবী তার সব বোঝা বের করে দেবে। আর মানুষ হতভম্ব হয়ে বলবে, “কী হচ্ছে এর!” সেদিন সে সবকিছু জানিয়ে দেবে, কারণ তোমার প্রতিপালক তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেদিন মানুষ আলাদা আলাদাভাবে বের হবে, যাতে তাদেরকে দেখানো যায় তারা কী করেছে। তারপর কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করে থাকলেও তা দেখতে পাবে। আর কেউ অণু পরিমাণ খারাপ কাজ করে থাকলেও তা দেখতে পাবে। —আয-যালযালাহ

সুধীবৃন্দরা প্রশ্ন করেন, “গত হাজার বছরে কত প্রজন্ম ‘কিয়ামত আসলো বলে!’ — এই ভয় পেয়ে জীবন পার করে গেছে। কই? কিয়ামত তো হয়নি? তাহলে কি তারা সারাজীবন এক অমূলক ভয় পেয়ে জীবন পার করে গেলো না? আমার জীবনে কিয়ামত হবে তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই? তাহলে খামোখা ভয় পেয়ে কী লাভ? মক্কার আরবদের হাজার বছর আগে কিয়ামতের এত সব ভয় দেখানো হলো, কই, কিয়ামত তো তাদের জীবনে হলো না? তাহলে এত এত সব আয়াত ফালতু ভয়?”

— তাদের এই সমস্যার উত্তর তাদের প্রশ্নের ভেতরেই রয়েছে: “ভয় দেখিয়ে কী লাভ?”    (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

মানুষ তার রবের অনুগ্রহ স্বীকার করে না —আল-আদিয়াত

শপথ ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলা অশ্ববাহিনীর। যাদের ক্ষুরের আঘাতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে। যারা ভোর বেলা আক্রমণ করে, ধুলোর মেঘ উড়িয়ে। তারপর তারা শত্রুদলের একদম ভেতরে ঢুকে পড়ে…।
মানুষ তার রবের অনুগ্রহ স্বীকার করে না। এরা নিজেরা তা ভালো করেই জানে। বেশি-বেশি পাওয়ার প্রতি এদের চরম মোহ।
এরা কি জানে না, যেদিন কবরগুলোর ভেতর থেকে সব বের করে ফেলা হবে? এদের অন্তরে কী আছে সব প্রকাশ করা হবে? সেদিন তারা দেখবে তাদের রব তাদের সম্পর্কে সবই জানেন। —আল-আদিয়াত

দূরে দিগন্তে ঘোড়ায় চড়ে একদল যোদ্ধা ধুলোর মেঘ উড়িয়ে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে আসছে আক্রমণ করতে। ঘোড়াগুলো ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছে। তাদের পায়ের খুরের আঘাতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠছে। শত্রুপক্ষের প্রতি তাদের একটুও ভয় নেই। একারণে রাতের বেলা গোপনে আক্রমণ না করে ভোরবেলাই আক্রমণ করতে এসেছে, যখন কিনা শত্রুপক্ষ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ঘোড়াবাহিনীকে আটকানোর জন্য শত্রুপক্ষ প্রতিরক্ষা দাঁড় করালো। কিন্তু ঘোড়াবাহিনী প্রচণ্ড গতিতে আঘাত করে প্রতিরক্ষা চুরমার করে একদম ভেতরে ঢুকে থেমে দাঁড়ালো। শত্রুবাহিনী এখন তাদেরকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে।…

মানুষ তার রবের অনুগ্রহ স্বীকার করে না।

মানে? কোথা থেকে কী হলো? সেই ঘোড়া বাহিনীর কী হলো? কে জিতলো?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

কে তোমাকে ধারনা দেবে সেই ভীষণ আঘাত সম্পর্কে?—আল-ক্বারিআহ

এক ভীষণ আঘাত! কী সেই ভীষণ আঘাত? কে তোমাকে ধারনা দেবে সেই ভীষণ আঘাত সম্পর্কে?
একদিন মানুষ বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো ছোটাছুটি করবে। আর পর্বতগুলো হয়ে যাবে ধুনা পশমের মতো।
তারপর যার ভালো কাজের পাল্লাগুলো ভারি হবে, সে থাকবে আরাম-আয়েসে, সুখে-শান্তিতে। আর যার পাল্লাগুলো হালকা হবে, তাকে গ্রাস করবে এক গভীর গর্ত।
কে তোমাকে ধারনা দেবে সেটা কী? সেটা এক লেলিহান শিখার আগুন।
—আল-ক্বারিআহ

এক ভীষণ আঘাত! কী সেই ভীষণ আঘাত?

আল-ক্বারিআহ الْقَارِعَة এসেছে ক্বারাআ قرع  থেকে, যার অর্থ এমনভাবে বারি দেওয়া, যার আওয়াজ শুনে মনে আতংকের সৃষ্টি হয়। যেমন, কেউ রাতের বেলা এসে ধুম ধুম করে দরজায় বারি মারছে।[৭] আপনি আতংকিত হয়ে গেলেন, পুলিশ এলো নাকি? এই ধরণের বারি হচ্ছে ক্বারাআ, যা মানুষের মনে আতংক তৈরি করে। ক্বারিআহ হচ্ছে ক্বারাআ-এর চরম রূপ —এক ভীষণ বারি, যা শুনে মনে ত্রাসের সৃষ্টি হয়। এমন এক বারি, যা ভেঙ্গে সব তছনছ করে দেয়।[১]

কিয়ামতের আগমন হবে এক ভীষণ বারির মাধ্যমে। রাতের বেলা কেউ এসে দরজায় বারি দিলে ঘরের ভেতরে সবাই যেমন আতংকিত হয়ে যায়, তেমনি এই ভয়ংকর বারির শব্দে সবাই চরম আতংকিত হয়ে যাবে। এই ভীষণ বারি পুরো মহাবিশ্বে মহাপ্রলয় ঘটানো শুরু করে দেবে।[৭]  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

বেশি-বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে—আত-তাকাছুর

বেশি-বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে। যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছে যাও।
না! তোমরা একদিন জানতে পারবে।
আবারো বলছি, না! তোমরা একদিন জানতে পারবে।
সত্যিই, তোমরা যদি নিশ্চিতভাবে জানতে কী ঘটবে।
তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখতে পাবে। আবারো বলছি, তোমরা অবশ্যই নিজের চোখে তাকে দেখতে পাবে।
তারপর, সেদিন সুযোগ-সুবিধাগুলোর ব্যাপারে তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে। —আত-তাকাছুর

বেশি-বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে

“বন্ধুবান্ধব সব এতদিনে নিজের বাড়ি-গাড়ি করে ফেলেছে। আমি এখনও ভাড়াটিয়া বলে মানুষের কথা শুনছি। ওদের বাসায় বেড়াতে গেলে নিজেকে ফকির-ফকির মনে হয়। আর না। এবার বাড়ি কেনার ঋণটা নিতেই হবে।”

“অনেক হয়েছে, আর না। পুরনো গাড়িটা ফেলে দিয়ে এবার একটা নতুন গাড়ি কিনবোই। প্রতিবেশির বড় গাড়িটার পাশে আমার গাড়িটাকে একটা টেম্প্যু মনে হয়।”

“আমার পুরনো আমি-ফোনটা মানুষের সামনে বের করতে লজ্জা লাগে। সবাই যেন কেমন-কেমন করে তাকায়। আজকাল সবার হাতে আমি-ফোন ৭। পাশের বাড়ির কাজের মেয়েটার হাতেও আমার থেকে নতুন মডেলের ফোন!”

এই যে লোক দেখানোর প্রতিযোগিতার মানসিকতা—অন্যদের থেকে ভালো বাড়ি, গাড়ি কিনতে হবে। সব দামি ব্রান্ডের জিনিস ব্যবহার করি দেখাতে হবে—বেশি-বেশি পাওয়ার এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা হচ্ছে আত-তাকাছুর (التَّكَاثُر)।[১][৪]

একসময় আমরা অনেক কাটখোর পুড়িয়ে বাড়ি কিনি। মানুষকে গর্ব করে দেখাই নতুন কেনা দামি আসবাবপত্র, ঝকঝকে বাথরুম। কিন্তু কয়েক বছর না যেতেই সেই স্বপ্নের বাড়ির উপর থেকে মন উঠে যায়। বেড়াতে গিয়ে অন্যের বাড়ির আসবাবপত্র, বাথরুম দেখে আফসোস শুরু হয়। আবার হয়তবা একদিন শখের ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনি। মানুষকে বলে বেড়াই, “এবার গাড়িটা কিনেই ফেললাম। বেশি না, মাত্র ৩৫ লাখ। সস্তায় পেয়ে গেছি, কী বলেন?” তারপর কয়েক বছর না যেতেই বন্ধুর নতুন গাড়ির সামনে সেটাকে লক্কড় মনে হয়। একসময় সবাইকে গর্ব করে দেখিয়ে বেড়ানো নতুন মোবাইল ফোনটা দুই বছর না যেতেই টেবিল থেকে সরিয়ে পকেটে লুকিয়ে রাখতে হয়। এত চেষ্টা করে এতসব পাওয়ার পরেও বেশিদিন প্রাপ্তির সুখ ধরে রাখা যায় না। শুরু হয় আবার প্রতিযোগিতার দৌড়।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

একে অন্যকে সত্যের প্রতি তাগাদা দেয় এবং ধৈর্য-নিষ্ঠ হতে তাগাদা দেয়—আল-আসর

ফুরিয়ে যাওয়া সময়ের শপথ। মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা নয়, যারা বিশ্বাস করে, ভালো কাজ করে, একে অন্যকে সত্যের প্রতি তাগাদা দেয় এবং ধৈর্য-নিষ্ঠ হতে তাগাদা দেয়।  —আল-আসর

আপনি আরাম করে ঘুমিয়ে সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আপনার মনে হলো যে, কিছু একটা ঘাপলা আছে। এরকম তো হওয়ার কথা না। চোখ খুলে দেখলেন যে, আপনি আসলে এক অতল নীল সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছেন। উপরে সূর্যের আলোর আভা দেখা যাচ্ছে। আপনি যদি এখনি চেষ্টা করেন তাহলে সাঁতরে উপরে উঠতে পারেন। এই অবস্থায় আপনি দুটো কাজ করতে পারেন। আপনি ভাবতে পারেন, “থাক না, আরামেই তো ঘুমিয়ে ছিলাম। আবার ঘুম দেই।” চোখ বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে গেলেন। সুন্দর স্বপ্ন দেখা শুরু করলেন। একসময় আপনি তলিয়ে গেলেন।

অথবা আপনি প্রাণপণে হাত-পা ছুড়ে সাঁতরে উপরে উঠতে লাগলেন। কিন্তু কিছুদূর না যেতেই আপনার পায়ে বাঁধা একটা শিকলে টান লাগলো। নীচে তাকিয়ে দেখলেন যে, আপনার পায়ের সাথে শিকল দিয়ে আপনার ঘুমন্ত ভাইয়ের পা আটকানো। সেও আপনার মতো ঘুমে তলিয়ে যাচ্ছে। আপনি একা কোনোভাবেই সাঁতরে উপরে উঠতে পারবেন না। তখন আপনি জলদি সাঁতরে ভাইয়ের কাছে গিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ডাকতে লাগলেন। সে একসময় জেগে উঠলো। আপনার ডাক শুনে, পরিস্থিতি উপলব্ধি করে সেও জলদি সাঁতরে উপরে উঠতে লাগলো। কিন্তু কিছুদূর না যেতেই আপনারা দুজনেই আবার পায়ের শিকলে টান লেগে আটকে গেলেন। নীচে তাকিয়ে দেখলেন এক লম্বা শিকলে আপনার বাবা, মা, আত্মীয়, সমাজের অন্য মানুষরা সবাই বাঁধা। সবাই ঘুমিয়ে আছে। গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে। আপনার বাঁচার তখন একটাই পথ খোলা: একে একে সবাইকে ডেকে তুলে একসাথে সাঁতরে উপরে ওঠার চেষ্টা করা। কিন্তু সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। আপনার দম শেষ হয়ে যাচ্ছে…[১]  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

যারা পেছনে কথা লাগায়, সামনাসামনি অপমান করে —এরা সব শেষ হয়ে যাক —আল-হুমাযাহ

যারা পেছনে কথা লাগায়, সামনাসামনি অপমান করে —এরা সব শেষ হয়ে যাক। যে সম্পদ জমা করে গুণেগুণে রেখে মনে করে যে, তার সম্পদ তাকে অমর করে রাখবে। কখনই না! তাকে ছুড়ে ফেলা হবে এক চূর্ণবিচূর্ণকারীর ভেতরে। জানো সেটা কী? সেটা আল্লাহর আগুন, লেলিহান শিখা। এটা মানুষের হৃদয়-মনকে জ্বালিয়ে দিয়ে আসে। এটা তাদের উপর ঘিরে আসবে। উঁচু উঁচু থামে। —আল-হুমাযাহ

হুমাযাহ হচ্ছে কারও পেছনে কথা লাগানো, গীবত করা। আর লুমাযাহ হচ্ছে কাউকে সামনা-সামনি দোষ ধরে অপমান করা, বাজে আচরণ করা।[৫][১৮] কিছু উদাহরণ দেই—

ফোন এসেছে। ওপাশ থেকে বলছে, “ভাবী, কেমন আছেন? আপনাকে অনেকদিন ফোন করে পাই না।” ভাবী উত্তর দিলেন, “আমার ফোনটা নষ্ট ছিল। ঠিক করতে দিয়েছিলাম।” ওপাশ থেকে, “ঠিক করতে? কেন ভাইসাহেব কি আপনাকে নতুন ফোন কিনে দেয় না? আজকাল সবার হাতে আমি-ফোন ৭। আমাকে ও নতুন মডেল বের হলেই কিনে দেয়। আপনারটা তো বোধহয় এখনও আমি-ফোন ৪ তাই না?” ভাবী বললেন, “না, না, অবশ্যই দেয়। আমি নিজেই কিনি না। আগেরটা তো চলছেই।” ওপাশ থেকে, “এটা কেমন কথা হলো? আপনি ঘরের সব কাজ করেন। বাচ্চাদের পালেন। আবার আপনাকে ভাঙ্গা ফোনও চালাতে হবে? ভাই মনে হচ্ছে আপনাকে ঠিকমতো কদর করেন না।”

ব্যাস, ভাবীর মাথায় ঢুকে গেলো, “ভাই আপনাকে ঠিকমতো কদর করেন না।” প্রথমে একটু মন খারাপ হলো। তারপর অভিমান। অভিমান বাড়তে বাড়তে রাগে পরিণত হলো। রাগ থেকে ঘৃণা। সন্ধ্যায় স্বামী যখন ঘরে ঢুকল, তখন থমথমে অবস্থা। স্বামী যখন বলল, “ইয়ে, খুব ক্ষুধা লেগেছে, একটু নাস্তা দেবে?”, সাথে সাথে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ!

—ফোন যে করেছিল, সে হচ্ছে হুমাযাহ। এরা মানুষে মানুষে কথা লাগায়। কানা-ঘুষা করে। অন্যের চরকায় তেল দেওয়া হচ্ছে এদের জীবিকা। এরা তাদের লিকলিকে জিভ দিয়ে অন্যের অন্তরে বিষ ঢেলে দেয়।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তুমি কি দেখোনি তোমার প্রভু হাতিওয়ালাদের কী অবস্থা করেছিলেন? —আল-ফীল

তুমি কি দেখোনি তোমার প্রভু হাতিওয়ালাদের কী অবস্থা করেছিলেন? তিনি কি তাদের পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেননি? তাদের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন। যারা ওদেরকে পোড়া মাটির পাথর ছুরে মারলো। তারপর ওরা চিবানো খড়কুটোর মতো পড়ে রইল। —আল-ফীল

রাসুল عليه السلام জন্ম হওয়ার কয়েক বছর আগে ইয়েমেনের একজন গভর্নর আবরাহা দেখল যে, মক্কায় কা’বাকে ঘিরে ব্যাপক ব্যবসা-বাণিজ্য হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ মানুষ হাজ্জ করতে আসে। সে সুযোগে মক্কাবাসীরা হাজিদের সাথে ব্যবসা করে অনেক সম্পদের অধিকারী হয়ে যায়। তখন সে ভাবল যে, সে-ও একটা বিরাট গির্জা তৈরি করবে এবং হাজ্জের মতো সেই গির্জাতে তীর্থযাত্রা করার প্রচলন করবে। কিন্তু তার পরিকল্পনা কাজে লাগলো না। তার সাধের গির্জাতে বেশি মানুষ আসলো না। শুধু তাই না, কিছু আরব গিয়ে তার গির্জায় আগুন লাগিয়ে দিলো। তখন সে মহা ক্ষেপে গিয়ে তার বাহিনী নিয়ে মক্কায় গেল কা’বা ধ্বংস করে দিতে।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

যিনি তাদেরকে ক্ষুধার সময় খাবার দিয়েছেন, ভয়ের সময় নিরাপত্তা দিয়েছেন —আল-কুরাইশ

কুরাইশদের স্বাচ্ছন্দের জন্যই তো! শীত, গ্রীষ্মে ওদের বাণিজ্য ভ্রমণের স্বাচ্ছন্দের জন্য। তাহলে তারা যেন এই ঘরের রবের ইবাদত করে। যিনি তাদেরকে ক্ষুধার সময় খাবার দিয়েছেন, ভয়ের সময় নিরাপত্তা দিয়েছেন। [আল-কুরাইশ]

আমরা যদি মক্কার অবস্থান দেখি, তাহলে দেখবো, এই শহরটা টিকে থাকার কোনো কারণ নেই। এখানে কোনো উর্বর জমি নেই চাষ করার মতো। কোনো নদী-নালা নেই সেচের জন্য। ফসল উৎপাদন করার কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো মনমুগ্ধকর বাগান বা বেড়াবার জায়গাও নেই। পাহাড়গুলোও এমন যে, সেখানে কোনো দুর্লভ খনিজ পাওয়া যায় না, যা বিক্রি করে মক্কাবাসীরা ধনী হয়ে যেতে পারে। চারিদিকে ধুধু মরুভূমি, শক্ত পাথর এবং দুর্গম পাহাড়ে ঘেরা। শুকনো, ধুসর এক মৃত জায়গা। সবদিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মক্কা এমন এক জায়গায় রয়েছে, যেখানে কোনো সভ্যতা টীকে থাকতে পারার কথা না। অথচ মক্কা শুধুই যে টিকে আছে তা নয়, সেখানে পুরো আরবের সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত এবং অন্যতম ধনী কুরাইশ জাতি রাজত্ব করে গেছে। গত হাজার বছরে মক্কা এক অভিজাত নগরীতে পরিণত হয়েছে। আরবদের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের চরম নিদর্শন সেখানে দেখা যাচ্ছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে আল্লাহর تعالى বিশেষ অনুগ্রহে। মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হতো না মক্কার মতো একটা বিরান জায়গায় সভ্যতা গড়ে তোলার।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তাই, নামাজিরা শেষ হয়ে যাক —আল-মাউন

যেলোকটা বিচারদিনকে অস্বীকার করে তাকে খেয়াল করেছ? এরা এতিমদেরকে তাড়িয়ে দেয়। অভাবীদের খাবার  তাদেরকে দিতে উৎসাহও দেয় না। তাই, নামাজিরা শেষ হয়ে যাক। যারা নামাজের ব্যাপারে খামখেয়ালী। যারা লোক দেখিয়ে করে। ছোটখাটো উপকার করতেও তারা মানা করে। [আল-মাউন]

এরা এতিমদেরকে তাড়িয়ে দেয়

আমাদের যাদের ছোট বাচ্চা আছে, তারা জানি দিনের মধ্যে কতবার তারা বাবা-মাকে ডাকে। বাবা-মা কিছুক্ষণের জন্য চোখের আড়াল হলেই তারা অস্থির হয়ে ‘বাবা! মা! কোথায় তোমরা?’ ডাকাডাকি শুরু করে। আর আজকের নিষ্ঠুর সমাজে অল্প বয়সে বাবা-মা হারিয়ে ফেলা একটি ছোট বাচ্চা কীভাবে একা বেঁচে থাকে, কী খায়, কোথায় ঘুমায়, জ্বর হলে কে তাকে মাথায় পানি ঢেলে দেয়, রাতের বেলা কে তাকে কোলে নিয়ে হেঁটে ঘুম পাড়ায়? —এগুলো নিয়ে আমরা কতখানি ভাবি? সারাদিন আমাদের মনের কোনায় চিন্তা চলতে থাকে: নিজের বাচ্চাকে কী খাওয়াবো, কখন ঘুম পাড়াবো, কোথায় পড়াবো, কোথায় ঘুরতে নিয়ে যাবো, কী খেলনা কিনে দেবো — আর ওদিকে লক্ষ লক্ষ ছোট বাচ্চারা বাবা-মা ছাড়া একা বড় হচ্ছে চরম অবহেলা, অনাদরে, মানুষের নিষ্ঠুর ব্যবহার সহ্য করে। আমাদের চারপাশের এই ভয়ংকর কঠিন বাস্তবতাকে আমরা কোনো কারণে যতটা পারি ভুলে থাকার চেষ্টা করি। নিজের জীবনের সব সাধ-আহ্লাদ কীভাবে পূরণ করা যায়, সেটা নিয়েই ব্যস্ত থাকি।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তাই তুমি তোমার প্রভুর প্রতি সালাত পড়ো, আর বড় কুরবানি করো —আল-কাউছার

আমি তোমাকে আল-কাউছার উপহার দিয়ে দিয়েছি, তাই তুমি তোমার প্রভুর প্রতি সালাত পড়ো, আর বড় কুরবানি করো। তোমার শত্রুরাই তো নির্বংশ। [আল-কাউছার]

একদিন আমাদের বাবা-মাকে কবরে শুইয়ে দিয়ে আসতে হবে, এই নিয়তি মেনে নেওয়াটা বড় কষ্টের। প্রত্যেক বিবেকবান মানুষের জন্য সেদিন এক ভীষণ কষ্টের দিন। কিন্তু নিজের সন্তানকে কোনোদিন নিজের হাতে কাফনে জড়িয়ে কবরে শুইয়ে দিয়ে আসবো, এই চিন্তা কোনো বাবা-মা’র পক্ষে করা সম্ভব নয়। আদরের ছোট শিশু সন্তানকে কবর দেওয়ার মত কষ্টের অভিজ্ঞতা পৃথিবীতে আর একটিও নেই। রাসুল عليه السلام এর সাতটি সন্তান ছিল। ছয়টি সন্তানই অল্প বয়সে মারা গিয়েছিল, শুধুই ফাতিমা (রা) বেঁচে ছিলেন। রাসুল عليه السلام নিজের হাতে ছয়-ছয়টি সন্তানকে কবর দিয়েছেন।

আমরা কেউ কোনোদিন কল্পনাও করতে পারবো না সেটা কত কষ্টের অভিজ্ঞতা হতে পারে। একজন বাবা-মার পক্ষে সারাজীবনেও কোনোদিন সেই অভিজ্ঞতা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। একটি সন্তানের মৃত্যু হয়ত সামলানো যায়। দুটো, তিনটে হলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়া শুরু হয়। আর ছয়-ছয়টা সন্তানের মৃত্যু কী ভয়ংকর কষ্টের ব্যাপার হতে পারে, আমরা কোনোদিন কল্পনাও করতে পারবো না। বিশেষ করে তার শিশু সন্তান আব্দাল্লাহ এর মৃত্যুর অভিজ্ঞতা ছিল অনেক বেশি কষ্টের।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)