আমাদের সাথে আল্লাহকে নিয়ে তর্ক করছ কেন? — আল-বাক্বারাহ ১৩৯

ধরুন অফিসের ক্যান্টিনে বসে আপনারা কয়েকজন গল্প করছেন। এর মধ্যে একজন বসের নামে নানা ধরনের বাজে মন্তব্য করছে। সে বলে যাচ্ছে বস ফাঁকিবাজ, অফিসে দেরি করে আসে। অফিসের রিসিপশনিস্টের সাথে বেশি মেলামেশা করে। লোকটা দেখতেও বদখৎ। কয়েকদিন আগে নতুন গাড়ি কিনল। নিশ্চয়ই ঘুষের টাকায় কেনা। গুলশানে নাকি একটা বাড়ি আছে। মনে হয় জালিয়াতি করে কিনেছে…

হঠাৎ করে তার পেছন থেকে বসের গম্ভীর গলা শোনা গেল, “চৌধুরী সাহেব! এদিকে তাকান। কী বলছিলেন আমাকে নিয়ে?” সাথে সাথে চৌধুরী সাহেবের চোখ বড় হয়ে, মুখ রক্তশূন্য হয়ে ফ্যাঁকাসে হয়ে গেল। সে কাঁপতে কাঁপতে ঘুরে তাকিয়ে দেখল, বস ঠিক তার পেছনের চেয়ারেই এতক্ষণ বসে ছিলেন।

যদি চৌধুরী সাহেব জানতেন বস পেছনে বসে আছেন, সব কথা শুনতে পাচ্ছেন, তাহলে কি তিনি কখনো বসকে নিয়ে এধরনের কথা বলতেন? বলতেন না, হাজার হলেও তার চাকরির মায়া আছে।  আমাদের উপর কারো ক্ষমতা আছে এমন কাউকে নিয়ে আমরা কখনো তাকে শুনিয়ে তার নামে আজেবাজে কথা বলি না।

অথচ আল্লাহ تعالى আমাদের সব কথা শুনতে পাচ্ছেন, আমাদের সব কাজ দেখতে পাচ্ছেন, আমরা তাকে নিয়ে কী বলছি, কী লিখছি, কী পড়ছি —সব তিনি দেখছেন। কিন্তু তারপরেও আমরা ঠিকমতো পড়াশুনা না করে তাঁকে নিয়ে যা মনে হয় বলি। যা মনে হয় লিখি। নানা ধরনের আপত্তিকর বই, আর্টিকেল পড়ি, কার্টুন, চলচ্চিত্র দেখি, যেখানে তাঁর সম্পর্কে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর, এমনকি অশালীন কথাও লেখা থাকে। দলের স্বার্থ ঠিক রাখার জন্য নিজেদের মতকে আল্লাহর تعالى নির্দেশ বলে চালিয়ে দেই। অন্য দলের মানুষরা সঠিক কথা বলছে জানার পরেও নিজের দলকে খুশি রাখার জন্য অন্যায় তর্ক করি।

শুধু তাই না, আজকাল অনেক ‘আধুনিক মুসলিম’দের ধর্ম নিয়ে, আল্লাহর تعالى অস্তিত্ব নিয়ে নানা ধরনের ফিলসফিকাল যুক্তিতর্ক করতে শোনা যায়। এদের প্রতি আমাদের জবাব—

2_139_title

2_139বলো, “আমাদের সাথে আল্লাহকে নিয়ে তর্ক করছ কেন, যেখানে কিনা তিনি আমাদের প্রভু, তোমাদেরও প্রভু?” আমরা যা করি, তা আমাদের হবে, তোমরা যা করো, তা তোমাদের হবে। আমরা শুধুমাত্র তাঁরই প্রতি একান্ত নিবেদিত। [আল-বাক্বারাহ ১৩৯]

এই আয়াতে আল্লাহ تعالى ইহুদি, খ্রিস্টানদেরকে চ্যালেঞ্জ করতে বলছেন যে, ইসলাম যে প্রভুর উপাসনা করতে বলছে, তিনি তো তাদেরও প্রভু। মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদিরা একই আল্লাহকেই  تعالى তো উপাসনা করে। এই তিন ধর্মের স্রষ্টা তো কোনো ভিন্ন স্রষ্টা নন। আরবি বাইবেলে তো গড লেখা নেই, লেখা আছে আল্লাহ تعالى। আরব দেশগুলোর আরব খ্রিস্টানরা তো আল্লাহকে تعالى গড ডাকেন না, আল্লাহই تعالى ডাকেন। এমনকি যীশু, তার ভাষা আরামাইক-এ, তিনি আল্লাহকে تعالى আল্লাহ تعالى নামেই ডাকতেন। একারণেই কু’রআনে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে: যাকে নিয়ে তারা মুসলিমদের সাথে তর্ক করছে, তিনি তো তাদেরও প্রভু। তাদের কি একটা বারও আত্মা কাঁপে না আল্লাহর تعالى সম্পর্কে বানিয়ে কথা বলতে? আল্লাহর تعالى কিতাবকে নিজেদের সুবিধা মতো পরিবর্তন করে নিতে?

এই আয়াতে আল্লাহ تعالى বিশেষভাবে ‘রব্ব’ – প্রভু শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেননি খালিক্ক বা সৃষ্টিকর্তা। কারণ একজন সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেই দায়িত্ব ছেড়ে দিতেন পারেন। তার সৃষ্টির উপর কোনো অধিকার নাও থাকতে পারে, এবং তিনি সৃষ্টির দেখাশুনা নাও করতে পারেন। যেমন, যেই জাপানি কোম্পানি আমার গাড়ি বানিয়েছে, তাদের আমার গাড়ির উপর কোনো অধিকার নেই। এখন সেই গাড়ির মালিক আমি। এই গাড়ি নিয়ে এখন আমি যা খুশি করতে পারি। গাড়ি যদি আমার কথামতো না চলে, তাহলে তাকে ধোলাইখালে নিয়ে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে বিক্রিও করে দিতে পারি।

একইভাবে রব্ব (প্রভু) তাঁর সৃষ্টির উপর সম্পূর্ণ অধিকার রাখেন। সমস্ত সৃষ্টি সেই রাব্ব-এর দাস, তাঁর আদেশ মানতে বাধ্য। তিনি তাঁর সৃষ্টিকে নিয়ে যা খুশি করতে পারেন। আল্লাহকে تعالى নিয়ে মুখ খোলার আগে আমাদের এই ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে যে, আমরা তাঁর মামুলি দাস, তিনি আমাদের প্রভু। তিনি শুনছেন আমরা কী বলছি, কেন বলছি, বলে কী ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছি।

আমরা যেন কারো সাথে তর্ক করতে গিয়ে শুধুই তর্কে জেতার জন্য তাঁর নামে বানিয়ে কথা না বলি। আমরা যেন ইসলামিক দলের কাছ থেকে ফান্ড পাওয়ার জন্য আল্লাহকে تعالى নিয়ে দলের স্বার্থ মতো বই না লিখি, অন্যের সমালোচনা না করি। মালয়েশিয়া, সৌদি আরবে পড়াশুনার স্কলারশিপ চলে যাবে, এই ভয়ে ‘বড় হুজুর’ যা লিখতে বলেন, যা প্রচার করতে বলেন, সেটাই যেন না করি। নিজের দলের, মাযহাবের, হুজুরের ভুল দেখেও মুখ বন্ধ করে না থাকি —পাছে আমার নাম, চাকরি, মর্যাদা, স্কলারশিপ চলে যায়। আমরা কার ব্যাপারে কথা বলছি, কলম ধরছি, দুনিয়ার লোভে সেটা ভুলে গেলে হবে না।

“আমরা যা করি, তা আমাদের, তোমরা যা করো, তা তোমাদের।”

অনেকে এই আয়াত পড়ে মনে করেন যে, মানুষ যে যার মতো যা খুশি করুক, কোনো সমস্যা নেই। কুরআনের এই আয়াতে মানুষকে তার ইচ্ছামত চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। — না, এটি ভুল ধারণা। এই আয়াতে সেই কথা বলা হয়নি, বরং বলা হচ্ছে: আমরা ভালো, খারাপ যা-ই করছি, তা আমাদের হিসাবের খাতায় লেখা হচ্ছে। সেগুলোর জন্য জবাব আমরা দেবো, ভালো কাজের পুরষ্কার আমরা পাবো, আমাদের অন্যায়ের শাস্তি আমরা পাবো। একইভাবে অন্যেরা যা করছে, তা তাদের হিসাবের খাতায় লেখা হচ্ছে। সেগুলোর দায়িত্ব তারা নেবে। তাদের কাজের জবাব আমরা দেবো না। সুতরাং নাস্তিক, সেক্যুলার, ‘আধুনিক মুসলিম’, ইহুদি, খ্রিস্টান ভাই-বোনেরা সাবধান! “আমরা যা করি, তা আমাদের, তোমরা যা করো, তা তোমাদের” হবে।

আমরা শুধুমাত্র তারই প্রতি একান্ত নিবেদিত

এই আয়াতের শেষটা খুব সুন্দর। যারা পুরোপুরি আল্লাহর تعالى প্রতি নিবেদিত, তারা বলে, “وَنَحْنُ لَهُۥ مُخْلِصُونَ”। মুখলিসুন এসেছে ইখলাস থেকে, যার অর্থ একান্ত নিবেদিত, আন্তরিক, পরিষ্কার, পবিত্র হওয়া। যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে, সে মুখলিস।[৪] এটি এমন পরিশুদ্ধতা যে এর মধ্যে খারাপ কিছু মিশে নেই। যখন আমাদের কাছে একবিন্দু তরল থাকে, যা এতটাই বিশুদ্ধ যে, তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অবিশুদ্ধতা নেই, সেটা মুখলিস।[১১] এর আরেকটি অর্থ হলো, কেউ যখন লোকজনদের মধ্য থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে, লোকে কী বলল তার পরোয়া করে না, একান্ত নিবেদিতভাবে আল্লাহর تعالى ইবাদত করে —এরা হলো মুখলিসুন।[১১] আল্লাহ تعالى আশা করেন আমরা এদের মতো হই।

একজন মুখলিস কখনো পরোয়া করেন না মানুষ তাকে দাড়িওয়ালা, সন্ত্রাসী, অশিক্ষিত, আনস্মার্ট বলল কিনা। মানুষ তাকে তাবলীগী, জামাতি, সালাফি, ওয়াহাবি, আহলে হাদিস, আহলে কুরআন ইত্যাদি লেবেল দিলেও তিনি পাত্তা দেন না। একজন মুখলিস পরোয়া করেন না ফেইসবুকে তাকে নিয়ে মানুষ কীসব কুৎসা রটাচ্ছে। তিনি একান্ত নিবেদিতভাবে আল্লাহর تعالى প্রতি শ্রদ্ধায়, ভালবাসায় ডুবে থেকে তাঁর ইবাদতে মগ্ন থাকেন।

তার কথা, চিন্তায়, কল্পনায় শুধুই আল্লাহ تعالى। তিনি বই পড়লে বেশিরভাগ সময় আল্লাহকে تعالى নিয়ে বই পড়েন। তিনি কথা বললে ঘুরে ফিরে আল্লাহকে تعالى নিয়েই কথা বলেন। তিনি কোনো গল্পের আসরে বসলে আল্লাহ تعالى ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে কথা শুরু হলে, আস্তে করে উঠে চলে যান। তিনি কোনো অনুষ্ঠানে গেলে মানুষের মাঝে আল্লাহর تعالى কথা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ ছেড়ে দেন না। আশেপাশের মানুষের কথা, লেখা, কটূক্তি; টিভিতে খেলা, তারকা শো, টক শো; কম্পিউটারে, মোবাইলে ফেইসবুক, ভিডিও গেম সহ নানা প্রলোভন —কোনো কিছুই তাকে তার উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। তার এবং আল্লাহর تعالى মাঝে খুব সুন্দর একটা সম্পর্ক রয়েছে, যা শুধু আল্লাহ تعالى এবং তিনিই জানেন, আর কেউ জানে না।

আল্লাহ تعالى আমাদেরকে এই আয়াতে একদল মুসলিমের উদাহরণ দিয়েছেন, যারা এক কঠিন স্ট্যান্ডার্ড অর্জন করতে পেরেছে। তিনি চান আমরা তাদের মতো ইখলাস অর্জন করি, মুখলিসুনদের একজন হয়ে যাই। আসুন আমরা সবাই চেষ্টা করি: এই স্ট্যান্ডার্ড অর্জন করে জান্নাতে গিয়ে তাঁকে সামনা-সামনি দেখতে পাওয়ার বিরাট সন্মান অর্জন করতে। তাঁর সাথে প্রাণ খুলে কথা বলতে পাওয়ার বিরাট সন্মান অর্জন করতে। আমাদের রব্বকে, যাকে নিয়ে আমরা সারাজীবন কত সাধনা করেছি, কত চিন্তা করেছি, কত কল্পনা করেছি, একদিন তাঁকে সামনাসামনি দেখতে পাবো, তাঁর কথা শুনতে পাবো, তাঁর সাথে কথা বলতে পারবো —এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে!

এটা যে কত বড় ব্যাপার, তা একজন মুখলিস ঠিকই ধরতে পারেন। তখন তিনি আরও উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়েন ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করতে, নিজেকে পরিবর্তন করতে, আন্তরিকভাবে তাওবাহ করতে, লোকজন এবং আশেপাশের নানা প্রলোভন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে একান্তভাবে আল্লাহর تعالى প্রতি নিবেদিত হয়ে যেতে।

সূত্র:

  • [১] নওমান আলি খানের সূরা আল-বাকারাহ এর উপর লেকচার এবং বাইয়িনাহ এর কু’রআনের তাফসীর।
  • [২] ম্যাসেজ অফ দা কু’রআন — মুহাম্মাদ আসাদ।
  • [৩] তাফহিমুল কু’রআন — মাওলানা মাওদুদি।
  • [৪] মা’রিফুল কু’রআন — মুফতি শাফি উসমানী।
  • [৫] মুহাম্মাদ মোহার আলি — A Word for Word Meaning of The Quran
  • [৬] সৈয়দ কুতব — In the Shade of the Quran
  • [৭] তাদাব্বুরে কু’রআন – আমিন আহসান ইসলাহি।
  • [৮] তাফসিরে তাওযীহুল কু’রআন — মুফতি তাক্বি উসমানী।
  • [৯] বায়ান আল কু’রআন — ড: ইসরার আহমেদ।
  • [১০] তাফসীর উল কু’রআন — মাওলানা আব্দুল মাজিদ দারিয়াবাদি
  • [১১] কু’রআন তাফসীর — আব্দুর রাহিম আস-সারানবি
  • [১২] আত-তাবারি-এর তাফসীরের অনুবাদ।
  • [১৩] তাফসির ইবন আব্বাস।
  • [১৪] তাফসির আল কুরতুবি।
  • [১৫] তাফসির আল জালালাইন।

আল্লাহর চেয়ে সুন্দর রঙ আর কে দিতে পারে? — আল-বাক্বারাহ ১৩৮

হাজার বছর ধরে মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক থেকে নানা রঙের নানা ধরনের মাহাত্ম্য বের হয়েছে। হিন্দু ধর্মে লাল পবিত্রতার প্রতীক, তাই বিভিন্ন উৎসবে লাল রঙের ব্যবহার দেখা যায়, যেমন বিয়ে, শিশু জন্ম। হলুদ হচ্ছে জ্ঞান এবং শিক্ষার রঙ, তাই বিষ্ণু এবং গণেশ হলুদ রঙের কাপড় পড়ে। নীল স্থিরতা, সাহসিকতা, একনিষ্ঠতার রঙ, তাই রাম, কৃষ্ণর রঙ নীল।[২৭২]

খ্রিস্টানরা কোনো ব্যক্তিকে খ্রিস্ট ধর্মের দীক্ষা দেওয়ার সময় হলুদ রঙের পানিতে গোসল করায়। একইভাবে নবজাতক শিশুকেও, যে কিনা জন্ম হয়েছে পাপী হয়ে, তাকে হলুদ রঙের পানি দিয়ে ‘বাপটাইজ’ করানো হয়। তখন সে যীশুর জীবন দানের ফলে মানুষের সব পাপ কেটে যাওয়ার দাবীদার হয়ে যায়।[৮]

এভাবে যুগে যুগে নানা ধর্মে, বিভিন্ন রঙের বিভিন্ন মাহাত্ম্য বের হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবগুলোতে নানা রঙের ছড়াছড়ি দেখা যায়।[৮] একইসাথে মুসলিমদের মধ্যে নানা রঙ নিয়ে নানা ধরনের কুসংস্কার চলে এসেছে। কু’রআনে এই সব ফালতু ধারণাকে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে—

2_138_title

2_138আমরা আল্লাহর تعالى রঙে রঞ্জিত। আল্লাহর تعالى চেয়ে সুন্দর রঙ আর কে দিতে পারে? আমরা শুধুমাত্র তাঁরই দাস। [আল-বাক্বারাহ ১৩৮]

অনেকে এই আয়াতের অনুবাদ পড়ে ভাবেন, “আল্লাহর تعالى আবার রঙ আছে নাকি? আস্তাগফিরুল্লাহ! কী সব কুফরি কথাবার্তা!” এই আয়াতে ‘আল্লাহর تعالى রঙ’ বলতে একধরনের প্রতীকী অর্থে বোঝানো হয়েছে। আমরা যেমন বলি “তার হৃদয়ে বসন্তের হাওয়া লেগেছে” তখন কিন্তু আমরা ধরে নেই না যে, তার হৃদপিণ্ডে বসন্তের বাতাস ঢুকেছে। এই কথাটা কেউ গ্রীষ্মকালেও বলতে পারে, আবার শীতকালেও বলতে পারে, এর সাথে বসন্ত ঋতুর কোনো সম্পর্ক নেই। একইভাবে এই আয়াতে আক্ষরিক অর্থে কোনো রঙ বোঝানো হয়নি, এটি একটি আরবি প্রবাদ বাক্য। এমনকি যারা কু’রআনে আল্লাহর تعالى সিফাত-এর আক্ষরিক অর্থ করেন, যেমন আল্লাহর تعالى হাত বলতে আক্ষরিক অর্থে হাতই বোঝান, তারাও এই আয়াতে রঙ বলতে আক্ষরিক অর্থে রঙ দাবি করেননি।

এই আয়াতে صِبْغَة বা রঙ-এর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। রঙ যেমন দেখলেই সনাক্ত করা যায়, ঠিক একইভাবে যাদের খাঁটি ঈমান রয়েছে, তাদের কথাবার্তা, কাজ, আচরণ দেখলেই তাকে সনাক্ত করা যায়। একজন প্রকৃত মুসলিমকে দেখলেই বোঝা যায় যে, সে আল্লাহর تعالى রঙে রঞ্জিত।[৪] যদি কোনো মুসলিম-এর কথা-কাজ-আচরণ দেখে কোনোভাবেই বোঝা না যায় যে, সে একজন মুসলিম, তাহলে তার ভেতরে তাওহীদের অভাব রয়েছে। সে এখনো আল্লাহর تعالى রঙে রঞ্জিত হতে পারেনি।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তিনি বিশুদ্ধ বিশ্বাসের অধিকারী ছিলেন — আল-বাক্বারাহ ১৩৫-১৩৭

ইহুদি, খ্রিস্টানরা রাসুল মুহাম্মাদ عليه السلام-কে মানুষ হিসেবে বেশ পছন্দই করতো। তারা জানতো: তিনি একজন সৎ, বিনয়ী মানুষ, কোনো অন্যায় করেন না, ধনী-গরিব পার্থক্য করেন না। এমনকি তারা রাসুলের عليه السلام কাছে নিজেদের সম্পদ আমানত হিসেবেও রেখে যেত। সবদিক থেকে তারা রাসুলকে عليه السلام একজন অনুসরণ করার মত আদর্শ মানুষ হিসেবেই মানতো। কিন্তু তারপরেও যখন রাসুল عليه السلام তাদেরকে হাজারো যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে, তারা ভুল পথে আছে, তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো বিকৃত হয়ে গেছে, তখন তারা আর রাসুলের عليه السلام কথা শুনত না। বরং উলটো বলতো—

2_135_title

2_135ওরা বলে, “তোমরা ইহুদি কিংবা খ্রিস্টান হয়ে যাও, তাহলেই পথ পাবে।” বলে দাও, “আমরা বরং ইব্রাহিমের পথ অনুসরণ করবো, তিনি বিশুদ্ধ বিশ্বাসের অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনই আল্লাহর تعالى সাথে শিরককারীদের একজন ছিলেন না।” [আল-বাক্বারাহ ১৩৫]

প্রথমে আমাদের বোঝা দরকার: তারা যখন বলছে ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে যেতে, তারা আসলে কোন ধর্মের দিকে ডাকছে।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তোমাদেরকে ওদের কাজের জন্য জিজ্ঞেস করা হবে না — আল-বাক্বারাহ ১৩৪

আমাদের অনেকের একটি স্বভাব হলো: আমরা যেখানেই যাই, চেষ্টা করি আমাদের মামা-চাচা-খালুর গরম দেখানোর। সেটা স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে চাকরি, ব্যবসা, পাসপোর্টের লাইন, এমনকি বিয়ের পাত্র-পাত্রী দেখার সময়ও আমরা চেষ্টা করি জানিয়ে দেওয়ার: আমাদের চৌদ্দগুষ্টিতে বড় কারা আছে, আমাদের পূর্বপুরুষরা কত বিখ্যাত ছিলেন, আপনারা কোন কোন ব্যাপারে আমাদের থেকে পিছিয়ে আছেন। একইসাথে কোনো কাজে গেলে আমাদের মধ্যে একটা চেস্টা থাকে: কীভাবে সবার জন্য যে নিয়ম, সেটা পাশ কাটিয়ে অন্যের থেকে বেশি সুবিধা আদায় করা যায়।

কু’রআনে এই ধরনের বংশগৌরব, পূর্বপুরুষ নিয়ে বড়াইকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসাথে কু’রআনে পূর্বপুরুষদের অপকর্ম নিয়ে অনুশোচনা করতে মানা করা হয়েছে, কারণ আমরা প্রত্যেকে নিজের কাজের জন্য জবাব দেবো। আমাদের বাপদাদারা মানুষের কত বড় সর্বনাশ করে গেছেন, কত গরিব লোককে অত্যাচার করে গেছেন, তা নিয়ে নিজেদেরকে দোষী মনে করার কোনো কারণ নেই—

2_134_title

2_134ওই সম্প্রদায় চলে গেছে। ওরা যা অর্জন করেছে, তা ওদেরই থাকবে, আর তোমরা যা অর্জন করেছ, তা তোমাদের হবে। তোমাদেরকে ওদের কাজের জন্য জিজ্ঞেস করা হবে না। [আল-বাক্বারাহ ১৩৪]

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

খবরদার, মুসলিম না থাকা অবস্থায় যেন মারা যেও না — আল-বাক্বারাহ ১৩২-১৩৩

আজকে যদি আপনাকে ডাক্তার বলে: আপনার রক্তে ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং আপনি আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মারা যাবেন, সিঙ্গাপুরে গিয়েও লাভ হবে না—আপনি তখন কী করবেন? আপনি কি তখন কাঁথা জড়িয়ে টিভির সামনে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফালতু তারকা শো, টক শো, হিন্দি সিরিয়াল দেখবেন? আপনি কি পরদিন অফিসে গিয়ে কলিগদের সাথে শেষ বারের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা মারবেন? আপনি কি আপনার ছেলেমেয়েকে শেষ বারের মতো একটু খুশি করার জন্য ভিডিও গেম কিনে দিবেন, যেখানে তারা রামদা-ছুরি নিয়ে একপাল অর্ধ মৃত, রক্তাক্ত জম্বিকে মেরে কোনো এক বিকৃত কারণে বড়ই আনন্দ পায়? আপনি কি এই অবস্থায় আপনার মেয়েকে নৃত্য শিল্পী বানাবেন, ছেলেকে ব্যান্ডের দলে যোগ দেওয়াবেন, যেন তারা সেগুলো করে আপনার মৃত্যুর পরে আপনার জন্য ‘অশেষ সওয়াব’ অর্জন করে?

না, আপনি তখন এগুলোর কিছুই করবেন না। অথচ আজকে আপনি ঠিকই সেগুলো করে যাচ্ছেন, এটা ভালো করে জেনে যে: আপনি আজকে হোক, কালকে হোক, একদিন না একদিন মারা যাবেনই। তারপর একসময় আপনাকে আবার জাগিয়ে তোলা হবে এবং তারপর আপনাকে ধরে নিয়ে বিশ্বজগতের সর্বোচ্চ ক্ষমতাবানের সামনে দাঁড় করানো হবে: আপনার জীবনের প্রতি মুহূর্তের হিসাব দেওয়ার জন্য। সেদিন তাঁর সামনে মাথা নিচু করে আপনি তাঁকে কী বলবেন—সেটা কি ঠিক করে রেখেছেন?

কোনো কারণে আমরা এই ব্যাপারটা নিয়ে বেশি চিন্তা করতে চাই না। এরকম চিন্তা মাথায় এলেই আমাদের কেমন যেন অস্বস্তি লাগে। আমরা দ্রুত চিন্তার টপিক পাল্টে ফেলি। যদি আমাদের কোনো বন্ধু বা আত্মীয় আমাদেরকে এই ব্যাপারটি নিয়ে কিছু বলা শুরু করে, আমরা জলদি তাকে বলি, “কী বলছেন এইসব! এই সব মরা-টরার কথা শুনতে ভালো লাগছে না। বাদ দেন। আসেন অন্য কিছু নিয়ে কথা বলি।”

আমরা কোনো এক অদ্ভুত কারণে নিজেদেরকে একধরনের সেলফ ডিলিউশনে (মতিবিভ্রমে) ডুবিয়ে রাখি যে, আগামি কয়েক সেকেন্ড পরে আমি যে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যাব না, বা কালকে আমি যে বাসায় ফেরার পথে অ্যাকসিডেন্ট করে মারা যাব না—এ ব্যাপারে আমি একশ ভাগ নিশ্চিত। আল্লাহর সাথে আমার একধরনের চুক্তি আছে: তিনি আমাকে সত্তর-আশি বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখবেনই। তাই জীবনে অনেক সময় আছে ধর্ম-টর্ম করার। এখন আগে যত পারি চাকরি, ব্যবসা, পার্টি করে; মুভি, হিন্দি সিরিয়াল দেখে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা মার্কেটে ঘুরে, লক্ষ টাকা খরচ করে বেড়িয়ে এসে, যত পারি জীবনটা উপভোগ করে নেই। বলা তো যায় না, যদি মরে যাই? তাহলে তো এসব আর করা হবে না।

2_132_title

2_132

ইব্রাহিম এবং ইয়াকুব যখন তাদের সন্তানদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, “বাবারা, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দীনকে বেছে নিয়েছেন। তাই খবরদার, আল্লাহর تعالى প্রতি পুরোপুরি অনুগত (মুসলিম) না থাকা অবস্থায় যেন মারা যেও না।” [আল-বাক্বারাহ ১৩২]

এই আয়াতে আমরা দেখতে পাই: দু’জন নবী তাদের সন্তানদেরকে ঠিক একই ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছিলেন: তারা যেন সবসময় আল্লাহর تعالى প্রতি অনুগত অবস্থায় থাকে, যেন যে কোনো সময় মৃত্যু এসে হাজির হলে, তাদের মৃত্যুটা হয় ‘মুসলিম’ অর্থাৎ আল্লাহর تعالى প্রতি পুরোপুরি অনুগত অবস্থায়। তারা যেন কখনো এমন অবস্থায়, এমন একটা কাজ করতে গিয়ে মারা না যায়, যখন তারা আল্লাহর تعالى প্রতি পুরোপুরি অনুগত (মুসলিম) ছিল না।

এই আয়াতটি আমাদের জন্য একটা ভয়ঙ্কর সাবধান বাণী। আমরা যতই নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, যাকাত দেই, ইসলামের দাওয়াহ দেই, আমাদের মৃত্যু যেন কখনো এমন অবস্থায় না হয়, যখন আমি আল্লাহর تعالى প্রতি অনুগত ছিলাম না। এমন একটা কাজ করছিলাম, বা এমন এক অবস্থায় চলে গিয়েছিলাম, যা আল্লাহ تعالى ঘৃণা করেন।

আমি যেন কখনো রাত তিনটার সময় ইন্টারনেটে একটা বাজে ভিডিও দেখা অবস্থায় মারা না যাই। আমি যেন কখনো ব্যাংকে হারাম লোণের কাগজে সই করার সময় হার্ট অ্যাটাক করে মারা না যাই। বন্ধু-বান্ধবের সাথে পার্টি করতে গিয়ে মারা না যাই। বিয়ের দাওয়াতে অর্ধ-নগ্ন ভাবে সেজে বাড়ি ফেরার সময় গাড়ি এক্সিডেন্ট করে মারা না যাই। ঘুষের টাকায় কেনা হারাম বাড়িতে, হারাম বিছানায় শুয়ে মারা না যাই। —এরকম একটা মৃত্যু হবে আল্লাহর تعالى কঠিন নির্দেশের বিরুদ্ধে অন্যায় করা অবস্থায় — আল্লাহর প্রতি চরম অবাধ্য অবস্থায়। এরকম ভয়ঙ্কর লজ্জাজনক, দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু আমার যেন না হয়।

তাই রাত দুইটার সময় ফেইসবুকে একজনের শেয়ার করা একটা ভিডিওতে ক্লিক করার আগে দশবার ভাবি: “যদি এই বাজে ভিডিওটা দেখার সময় আমি মারা যাই?” বন্ধুদের সাথে পার্টিতে যাওয়ার আগে একবার চিন্তা করি: “যদি পার্টিতে যাওয়ার সময় গাড়ি এক্সিডেন্ট করে মারা যাই?” আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াতে সেজেগুজে যাওয়ার আগে একবার আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করি: “এই সাজে, এই কাপড়ে আল্লাহর تعالى সামনে দাঁড়াতে পারবো?”  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

আমি সমর্পণ করলাম সকল সৃষ্টির প্রভুর প্রতি — আল-বাক্বারাহ ১৩১

সুধীবৃন্দদেরকে যখন বলা হয় ধর্মে বিশ্বাস করতে, তখন তারা প্রশ্ন করেন: কেন? কীজন্য আমাদের আল্লাহকে تعالى মানতে হবে? আল্লাহ تعالى আছে প্রমাণ কী? তোমরা নিজেদের ইচ্ছামত নিয়মকানুন বানিয়ে আমাদেরকে মানানোর চেষ্টা করছ, যাতে করে আমরা তোমাদের কথা মতো চলি। আর তখন আমাদেরকে তোমরা ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে পারো। শুধু তোমাদের কথার উপর ভরসা করে আমরা আমাদের জীবন পালটিয়ে ফেলতে পারবো না। আমাদেরকে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেখাতে হবে। একদম নিজের চোখে কিছু একটা দেখাতে হবে, যা আমাদের সব সন্দেহ দূর করে দেবে।

নবী ইব্রাহিমকে عليه السلام যখন বলা হয়েছিল আল্লাহর تعالى প্রতি সমর্পণ করতে, তখন তিনি কী বলেছিলেন দেখা যাক—

2_131_title

2_131

যখন তাকে তার প্রভু বললেন, “সমর্পণ করো”, তিনি সাথে সাথে বললেন, “আমি সমর্পণ করলাম সকল সৃষ্টির প্রভুর প্রতি।” [আল-বাক্বারাহ ১৩১]

একজন নবী হচ্ছেন সেই যুগের সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষদের একজন। একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সুযোগ্য মানুষ ছাড়া আর কারো পক্ষে কোনো দেশের দাগী আসামী, রাজনীতিবিদ, জমিদার, মাতব্বরদেরকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সুধীবৃন্দরা অনেকে দাবি করেন: নবীরা ছিলেন মানসিক রোগী, তাদের মতিবিভ্রম হতো, তাই তারা গায়েবী বাণী শুনতেন। আবার অনেকে দাবি করেন: নবীরা ছিলেন আসলে অত্যন্ত চালাক ক্ষমতা লোভী প্রতারক, যারা ক্ষমতার জন্য মানুষকে ধোঁকা দিয়ে গেছেন। দেখা যাক এই দাবিগুলো কতখানি যুক্তিযুক্ত—  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

যে ওদেরকে আপানার আয়াত শোনাবে — আল-বাক্বারাহ ১২৯-১৩০

মানুষকে ইসলামের দাওয়াহ দেওয়ার সময় যারা দাওয়াহ দেন, তাদেরকে তিনটি বাঁধা পার করতে হয়—
১) তুমি কে? তোমার কথা আমি কেন শুনবো?
২) তোমার ধর্ম কি আমার ধর্মের থেকে বেশি সঠিক? তুমি কি মনে করো: তুমি সঠিক পথে আছে, আর আমরা সবাই ভুল পথে আছি?
৩) আমাদেরকে কেন তোমাদের মতই হতে হবে?

নবি, রাসুলদেরকে এই বাঁধাগুলো পার করতে হয়েছে। তাদেরকে এমন সব সময়ে, এমন সব মানুষের কাছে পাঠানো হয়েছিল, যারা একেবারেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। একশ্রেণীর মানুষের চরম অন্যায়ের কারণে আরেক শ্রেণীর মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে গিয়েছিল। তারপরও নবি, রাসুলরা অত্যাচারিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এই কঠিন বাঁধাগুলো অতিক্রম করে অত্যাচারী মানুষগুলোকে পথ দেখিয়ে গেছেন।

এখন, আমাদের কাছে যদি বাইরের দেশ থেকে কেউ এসে ধর্ম প্রচার করা শুরু করে, তাহলে প্রথমেই আমাদের মনে হবে: সে কোথাকার কে যে, আমাদেরকে ধর্ম শেখাতে এসেছে? সে কীভাবে বুঝবে আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের মানসিকতা, আমাদের সীমাবদ্ধতা? তার দেশে অনেক কিছু চলতে পারে, যেটা আমাদের দেশে চলবে না। আবার আমাদের অনেক কিছুই তার সংস্কৃতি অনুসারে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। আমাদেরকে কি সবদিক থেকে তার মতো, তার দেশের মানুষের মতো হতে হবে নাকি?

একারণে যখন কোনো নবি বা রাসুল, তাদের এলাকার মানুষের মাঝে বড় হয়ে, তাদেরই মাঝে ধর্ম প্রচার করতেন, তখন তাদেরকে এই সমস্যাটার সম্মুখীন হতে হতো না। তারা তাদের আশেপাশের মানুষের সংস্কৃতি, রীতিনীতি, মানসিকতা ভালো করে বুঝতেন এবং সে অনুসারে তাদেরকে ধর্ম শেখাতে পারতেন। একারণে একজন বাঙালি দাঈ যতটা না ভালোভাবে বাঙালীদের মাঝে ইসলামের শিক্ষা প্রচার করতে পারবেন, মানুষকে বোঝাতে পারবেন, মানুষের ভেতরে পরিবর্তন আনতে পারবেন, একজন আরব বা ইংরেজ দাঈ সেভাবে পারবেন না। ভাষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি, আদব-কায়দা একটা বিরাট বাঁধা হয়ে থাকবে সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার পথে।

নবি ইব্রাহিম عليه السلام এই ব্যাপারটি বুঝেছিলেন, একারণেই তিনি আল্লাহর تعالى কাছে দুআ করেছিলেন, যেন আল্লাহ تعالى তার বংশধরদের মধ্যে থেকে একজনকে রাসুল হিসেবে গড়ে তোলেন, যাকে ভাষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতির বিরাট বাঁধা অতিক্রম করতে হবে না—

2_129_title

2_129

ও আমাদের প্রভু, ওদের মধ্যে থেকে একজনকে রাসুল হিসেবে গড়ে তুলুন, যে ওদেরকে আপানার আয়াত শোনাবে, তাদেরকে আপনার বিধি-বিধান এবং প্রজ্ঞা শেখাবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। নিঃসন্দেহে আপনি সর্বোচ্চ ক্ষমতা-কর্তৃত্বের অধিকারী, পরম প্রজ্ঞাবান। [আল-বাক্বারাহ ১২৯]

এই আয়াতে নবি ইব্রাহিম عليه السلام দুআ করেছেন: ٱبْعَثْ অর্থাৎ ‘গড়ে তুলতে’। রাসুল যেন তার বংশধরদের মাঝে থেকে বড় হয়ে একজন রাসুল হন। তিনি যেন অন্য কোনো জায়গা থেকে না আসেন। এলাকার মানুষ যেন তাকে তাদেরই একজন হিসেবে গ্রহণ করে নেয়।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

নিঃসন্দেহে আপনি বার বার ক্ষমা করেন — আল-বাক্বারাহ ১২৮

আমাদের সন্তানদের কেউ যদি মেধাবী হয়, তাহলে তাকে ডাক্তার বানাই। তারচেয়ে কম মেধাবীটা হয় ইঞ্জিনিয়ার। আরেকটু কম হলে বাংলা বা ইংলিশে পড়ে। আর যেটার অবস্থা একেবারেই খারাপ, সেটাকে আমরা মাদ্রাসায় দেই, ইমাম সাব বানাই। আমাদের মধ্যে কোনো এক অদ্ভুত কারণে একটা ধারণা আছে যে, সম্পূর্ণ ইসলাম বিবর্জিত সেকুলার শিক্ষায় ছেলেমেয়েরা বড় হলে নিজেরাই সৎ, আদর্শ মানুষ হবে, দুনিয়ায় শান্তিতে থাকবে। দুনিয়ায় শান্তিতে থাকাটাই আসল কথা। পরে কী হবে তা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। ছেলেমেয়েদেরকে অত ইসলাম শেখানোর প্রয়োজন নেই। ইসলাম শিখে হবেটা কী? ইসলাম কী ছেলেমেয়েকে বাড়ি, গাড়ি, সম্পদ, সন্মান, উচ্চশিক্ষা —এসব কিছু দেবে?

তারপর তারা বড় হয়। ডাক্তারটা একসময় গিয়ে ১ লাখ টাকার অপারেশন করে ৫ লাখ টাকায়। বছর খানেকের মধ্যে কোটিপতি হয়ে বিদেশে চলে যায়। ওদিকে সেই ৫ লাখ টাকার বিল দিতে গিয়ে রোগীর পরিবার লোণে জর্জরিত হয়ে, পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রি করে, অভাবে, কষ্টে, দুশ্চিন্তায় বছরের পর বছর পার করে। ইঞ্জিনিয়ারটা বড় হয়ে বিরাট অঙ্কের ঘুষ খেয়ে প্রজেক্ট করে। সেই ঘুষের টাকা দিয়ে সে বাড়ি-গাড়ি করে, আর তার ছেলেমেয়েরা ফাইভ স্টার হোটেলে গিয়ে থার্টি-ফার্স্ট নাইটে ড্রিঙ্ক করে মাতলামি করে। বাংলা, ইংরেজিতে পড়াগুলো রাজনৈতিক দলের ক্যাডার হয়ে মারামারি, খুনাখুনি, ধর্ষণ করে। সম্পূর্ণ ইসলাম বিবর্জিত সেকুলার শিক্ষার কুফল হাড়ে হাড়ে টের পাই।

এদিকে ইমাম সাহেব মাসে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বেতন পেয়ে তার পরিবারকে নিয়ে কোনোমতে দিন পার করে হলেও তার ছেলেমেয়েকে নৈতিকতা শেখান, হাফেজ বানান। বাবা-মা অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়লে তিনি এবং তার স্ত্রী নিষ্ঠার সাথে বছরের পর বছর তাদের সেবা করেন। যেদিন বাবা-মা মারা যায়, সেদিন তিনি তার ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ভাইদেরকে ফোন করে আর পান না। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তিনি নিজেই হাজার হাজার মুসল্লিকে সাথে নিয়ে বাবা-মার জানাজা পড়েন। ইমাম সাহেবের বাবা-মা’র জানাজা, কত বিরাট সন্মানের জানাজা!

এর মানে এই নয় যে, আমরা সব সন্তানদের মাদ্রাসায় পড়াবো, ইমাম, মুয়াজ্জিন বানাবো। তাহলে মানব জাতি বিজ্ঞান, প্রযুক্তিতে আদিম যুগে বসে থাকবে। এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। কুরআনে ২০০ এর বেশি আয়াত রয়েছে বিজ্ঞান নিয়ে। সেগুলোর বাস্তবায়ন করবে কে? আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, সেকুলার শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি ইসলামের শিক্ষা যেন তারা পায়, তা নিশ্চিত করা। না হলে, ফলাফল হবে প্রতিভাবান, বুদ্ধিমান শয়তান প্রজন্ম।

আজকের প্রজন্মের একটা বড় অংশ ভয়াবহ রকমের নৈতিক অবক্ষয়ে ডুবে গেছে: তাদের বাবা-মা’দের দুনিয়ায় সম্পদ, সন্মান, আরাম-আয়েশের লোভের জন্য। সেই সব বাবা-মা’দের কাছে তাদের সন্তানরা হচ্ছে পেনশন। সেই পেনশনের মূল্য বাড়ানোর জন্য তারা যতভাবে সম্ভব চেষ্টা করেন সন্তানদেরকে দুনিয়াতে বড়লোক বানাবার। ইসলাম হচ্ছে তাদের পেনশনের মূল্য বৃদ্ধিতে একটি বাঁধা মাত্র। ছেলে ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা শুরু করলে, দাঁড়িওলা বন্ধুদের সাথে মেলামেশা শুরু করলে, তারা আতঙ্কিত হয়ে যান: এই বুঝি আমাদের পেনশন গেল!

এই ধরনের বাবা-মাদের ভেতরে এই ভয়ঙ্কর লোভ জন্ম হতে দিয়েছে তাদেরই বাবা-মা, যারা অনেকে নিজেরা ইসলাম মানলেও, তাদের সন্তানদেরকে ইসলামের পথে রাখার জন্য কোনো জোর দেননি। যার ফলে তারা তাদের বংশধরদের মধ্যে ইসলাম হারিয়ে যাওয়ার একটা চেইন রিয়াকশন শুরু করে দিয়ে গেছেন, যার ফলাফল আজকের ইসলাম ভুলে যাওয়া, নৈতিকভাবে ধ্বসে যাওয়া প্রজন্ম।

এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে এই প্রজন্ম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য একটাই উপায়— তাদেরকে আল্লাহর تعالى প্রতি অনুগত করা। তাদেরকে উপলব্ধি করানো যে, সামনে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা আসছে। আজকে তাদেরকে ‘বাস্তবতা’ বলতে যা শেখানো হচ্ছে, সেটা কয়েক বছরের মায়া মাত্র। আসল বাস্তবতা আসছে সামনে, যেখানে সময় কখনো শেষ হবে না, যেই মহাবিশ্ব কখনো ধ্বংস হবে না। নবী ইব্রাহিম عليه السلام তা উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তিনি তার সন্তান এবং বংশধরদের জন্য দু’আ করেছিলেন—

2_128

ও আমাদের প্রভু! আমাদের দুজনকে আপনার প্রতি অনুগত করে রাখুন এবং আমাদের বংশধর থেকে আপনার প্রতি অনুগত একটি জাতি তৈরি করে দিন। আমাদেরকে দেখিয়ে দিন কীভাবে ইবাদত করতে হয় এবং আমাদের ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করুন। নিঃসন্দেহে আপনি বার বার ক্ষমা করেন, নিরন্তর দয়াময়। [আল-বাক্বারাহ ১২৮]

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

সে এক জঘন্য যাওয়ার জায়গা — আল-বাক্বারাহ ১২৬-১২৭

2_126

ইব্রাহিম বলেছিলেন, “ও আমার প্রভু, এই শহরকে নিরাপদ করে দিন এবং এখানকার অধিবাসীদেরকে ফলমূল-সংস্থানের ব্যবস্থা করে দিন: যারা আল্লাহ تعالى এবং আখিরাতে বিশ্বাস রাখে তাদের জন্য।” আল্লাহ تعالى বলেছিলেন, “যারা অবিশ্বাস করবে, তাদেরকেও আমি কিছু দিনের জন্য সুখে থাকার ব্যবস্থা করে দেব, তারপর তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তিতে জোর করে ঢোকাবো— সে এক জঘন্য যাওয়ার জায়গা।” [আল-বাক্বারাহ ১২৬]

প্রশ্ন হল: কীসের শহর? নবী ইব্রাহিম عليه السلام যখন কা’বা বানাচ্ছিলেন, তখন তার চারপাশে ধুধু মরুভূমি। শহরের কোনো চিহ্ন নেই। কিন্তু তিনি তার দূরদর্শিতা থেকে ঠিকই বুঝেছিলেন: আল্লাহর تعالى এই ঘরের আশেপাশে একদিন একটা শহর হবে। মানুষ দূর দূর থেকে আসবে এখানে হাজ্জ করতে। তাই তিনি আল্লাহর تعالى কাছে দু’আ করেছিলেন, যেন এখানকার বিশ্বাসী অধিবাসীদের নিরাপত্তা এবং খাওয়ার কোনো অভাব না হয়।

তার দু’আ আল্লাহ تعالى কবুল করেছেন। মক্কায় সারাবছর কোনো ফলের অভাব হয় না। অথচ মক্কায় এবং তার আশেপাশে মরুভূমিতে খেজুর ছাড়া কোনো ফল হয় না। তারপরেও সেখানে গেলে আপনি চায়নার আপেল, মিশরের কমলা, ভারতের কলা —কোনো কিছুর অভাব দেখবেন না। নানা দেশ থেকে সব সুস্বাদু ফল সেখানে সরবরাহ হচ্ছে গত হাজার বছর ধরে।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

আমার প্রতিশ্রুতি অন্যায়কারীদের কাছে পৌঁছাবে না — আল-বাক্বারাহ ১২৪-১২৫

আপনি বহুবছর বিদেশে কাজ করে দেশে ফিরছেন। এর মধ্যে আপনার এক সন্তান হয়েছে, যাকে আপনি এর আগে কখনো দেখেননি। দেশে ফিরে আপনি তাকে প্রথম বারের মতো দেখবেন, এই খুশিতে আপনি আত্মহারা। কয়েকটা দিন সন্তানের সাথে হেসে-খেলে দিন পার করতে না করতেই, একরাতে স্বপ্ন দেখলেন: আপনি কুরবানি করছেন, আপনার হাতে রক্তাক্ত ছুড়ি, কিন্তু একি! কুরবানির পশুর জায়গায় পড়ে রয়েছে আপনার মৃত সন্তান! আপনি ঘুম ভেঙ্গে লাফ দিয়ে জেগে উঠলেন। এরকম একটা জঘন্য স্বপ্ন দেখে অস্থিরতায় ঘেমে গেলেন। স্বপ্নটা এতটা বাস্তব ছিল, মনে হচ্ছিল ভবিষ্যতের কোনো একটা ঘটনা আপনি নিজের চোখে ঘটতে দেখছেন। এত ভয়ঙ্কর বাস্তব স্বপ্ন আপনি এর আগে কখনো দেখেননি।

পরদিন আপনি ছেলের সাথে খেলছেন। কিন্তু আপনার মন বসছে না। বার বার রাতের দুঃস্বপ্নের কথাটা মনে হচ্ছে। সেদিন রাতে আবারো আপনি সেই স্বপ্নটা দেখলেন। চিৎকার দিয়ে লাফ দিয়ে জেগে উঠলেন। পরদিন আবারো একই স্বপ্ন। কয়েকদিন একই স্বপ্ন দেখার পর আপনি বুঝতে পারলেন, এটা কোনো সাধারণ স্বপ্ন নয়। আপনাকে এই ঘটনা ঘটাতে হবে। আপনাকে স্বপ্নের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এই কাজ করার।

আপনি স্ত্রীকে বলতে গেলেন। আর দশজনের মতো যদি আপনার স্ত্রী হতো, তাহলে সে চিৎকার দিয়ে উঠত, “কী! তোমার কি মাথা খারাপ? জলদি ডাক্তার দেখাও। খবরদার যদি আর কখনো এই কথা শুনি, তাহলে আমি কালকেই আমার ছেলেমেয়ে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যাব।” কিন্তু না, আপনার পরহেজগার, একান্ত নিষ্ঠাবান স্ত্রী আপনাকে বোঝালেন, “আল্লাহর تعالى নির্দেশ আমাদেরকে মানতেই হবে।”

আপনি ভাবলেন: ছেলেকে ঘটনাটা খুলে বলি, তাহলে অন্তত ছেলেটা ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করবে, কিছু একটা ঘটাবে, আর আপনাকে এই কাজটা করতে হবে না। কিন্তু ছেলেকে বলার পর সে শান্ত ভাবে আপনাকে বোঝালো, “বাবা, আল্লাহই تعالى তোমাকে এই কাজ করতে বলছেন। তোমাকে তো অবশ্যই আল্লাহর تعالى নির্দেশ মানতে হবে। চিন্তা করো না বাবা, আমি একটুও কাঁদবো না। তুমি কুরবানি করার আগে আমার চোখটা ঢেকে দিও, যাতে আমি ভয় পেয়ে সরে না যাই।” আপনার বুক ভেঙ্গে গেল। আপনি বুঝতে পারলেন, আপনাকে এই কাজটা করতে হবেই।

বহুবছর আগে আপনাকে এরকম আরেকটা কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। আপনার কাছে নির্দেশ এসেছিল: আপনার স্ত্রী এবং শিশু বাচ্চাটাকে মরুভূমিতে রেখে আসতে হবে। আপনি স্ত্রীকে বললেন, “আমার কাছে নির্দেশ এসেছে, তোমাকে এবং বাচ্চাটাকে মরুভূমিতে রেখে আসতে হবে।” আপনার স্ত্রী কিছুক্ষণ পাথরের মতো দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে নীরবে মেনে নিলেন। আপনি তাদেরকে নিয়ে উটের পিঠে চড়ে, শিশুকে বুকে নিয়ে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মরুভূমিতে চলছেন। এই ভয়ঙ্কর যাত্রায় বাচ্চাটা যে কোনো সময় মারা যেতে পারে। কিন্তু তারপরেও আপনি যাচ্ছেন।

গহীন মরুভূমিতে বহুদূর যাওয়ার পর তাদেরকে একটা জায়গায় থামতে বললেন। সেখানে তাদেরকে দাঁড় করিয়ে রেখে আপনাকে বিদায় নিতে হবে। নিজের ভেতরের কান্না আটকে রেখে, শোকে পাথর হয়ে তাদের কাছ থেকে বিদায় নিলেন। আপনার স্ত্রী বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আপনার চলে যাওয়া দেখলেন। আপনি চলে যাচ্ছেন, আর হাজারো দুশ্চিন্তা আপনার মাথায় আসছে, “ওদের কাছে যে খাবার রেখে এসেছি, সেটা তো কিছুক্ষণ পরেই শেষ হয়ে যাবে? ওরা পানি পাবে কোথা থেকে? পানি থাকা তো দূরের কথা, চারিদিকে যতদূর চোখ যায়, কোনো গাছপালাও নেই। এভাবে কতক্ষণ বেঁচে থাকবে ওরা?”

এরকম ভয়ঙ্কর কিছু পরীক্ষা, যেগুলো আমরা আমাদের জীবনে দেওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারি না, নবী ইব্রাহিম-এর عليه السلام জীবনে সত্যি সত্যিই ঘটেছিল, যার উল্লেখ এই আয়াতে এসেছে—

2_124

মনে কর দেখো, যখন ইব্রাহিমকে তার প্রভু কিছু নির্দেশ দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন, এবং তিনি তার সব পূরণ করেছিলেন।
আল্লাহ تعالى বলেন, “আমি তোমাকে মানবজাতির ইমাম করবো।”
ইব্রাহিম বলেন, “আমার বংশধরেরাও কি?”
আল্লাহ تعالى বলেন, “আমার প্রতিশ্রুতি অন্যায়কারীদের কাছে পৌঁছাবে না।” [আল-বাক্বারাহ ১২৪]

2_124_title

আমাদের যখন বাচ্চাদেরকে স্কুলে আনতে যেতে দেরি হয়, জ্যামে আটকিয়ে থাকি, পুরো সময়টা আতংকে থাকি: বাচ্চাদের কিছু হলো কিনা; কোনো ছেলেধরা এসে ধরে নিয়ে গেল কিনা। সেখানে নবী ইব্রাহিম عليه السلام নিজের হাতে তার শিশু সন্তানকে, স্ত্রীকে মরুভূমিতে রেখে এসেছিলেন। তিনি জানতেন সেখানে তাদের বাঁচার কোনোই উপায় নেই। তারা পিপাসায় কাতরাতে কাতরাতে ভীষণ কষ্ট পেয়ে মারা যাবে। তারপরেও তিনি সেই কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন, কারণ আল্লাহর تعالى আদেশের উপর কোনো কথা নেই।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)