আমি একে নাজিল করেছি এক মহান রাতে — আল-ক্বদর

আমি একে নাজিল করেছি এক মহান রাতে। কে তোমাকে বলতে পারবে এই মহান রাত কী? এই মহান রাত হাজার মাসের থেকেও উত্তম। এই রাতে ফেরেশতারা এবং রূহ আল্লাহর নির্দেশে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে নেমে আসে। ফজর আসা পর্যন্ত শান্তি-নিরাপত্তা বিরাজ করে। [আল-ক্বদর]

কুর‘আন তো এক রাতে নাজিল হয়নি? এটা না ২৩ বছর ধরে একটু একটু করে নাজিল হয়েছে? তাহলে কেন বলা হলো যে, কুর‘আন নাজিল হয়েছে এই রাতে?

কেন আল্লাহ নির্দিষ্ট করে বলে দিলেন না এই রাত কোনটা? এত গুরুত্বপূর্ণ একটা রাত এভাবে ধোঁয়াশা রাখা হলো কেন? মানুষকে খামোখা কষ্ট দিয়ে কী লাভ?

আর এই রাতে ‘সব সিদ্ধান্ত নিয়ে নাজিল হয়’ মানে কি যে, অন্য রাতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না? তাহলে বাকি রাতে আল্লাহর কাছে কিছু চেয়ে লাভ নেই? আল্লাহর تعالى সব সিদ্ধান্ত আগামী ক্বদর রাত না আসা পর্যন্ত আর বদলাবে না? কিন্তু কুরআনেই না অন্য জায়গায় বলা আছে যে, আল্লাহর تعالى কাছে যখনি দুআ করা হয়, তখনি তিনি শোনেন?

অনেক সময় দেখা যায় মানুষের দুআর ফল অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়া যায়? তাহলে সব সিদ্ধান্ত এই রাতে নেওয়া হলো কীভাবে?

আর এই রাতে যদি শান্তি, নিরাপত্তা থাকে, তাহলে খারাপ লোকেরা এই রাতে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ করতে পারে কেন? গাজা, ফিলিস্তিন, কাশ্মীরে মুসলিমদের হত্যা হয় কীভাবে?

—সুরা ক্বদর নিয়ে মানুষের বিভ্রান্তির শেষ নেই। এই সব বিভ্রান্তির কারণ হলো মূলত তিনটি— ১) কুর‘আনের আয়াতের অর্থ ঠিকভাবে না বোঝা, ২) ক্বদর সম্পর্কে ভুল ধারনা থাকা এবং ৩) একজন মুসলিমের কীভাবে চিন্তা করার কথা, তা বুঝতে ব্যর্থ হওয়া।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যাবে — আল-বাক্বারাহ ২১০-২১১

আজকাল সুধীবৃন্দ প্রশ্ন করেন, “সত্যিই যদি আল্লাহ বলে কেউ থাকে, তাহলে তিনি আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? আমি তো কোনোদিন কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটতে দেখলাম না? প্রমান কী যে, আল্লাহ বলে আসলেই কেউ আছেন?” প্রথমত, তাদেরকে অভিনন্দন! তারা এমন একটি জটিল, আধুনিক, যুগোপযোগী প্রশ্ন আবিষ্কার করেছেন, যা ১৪০০ বছর আগে আরবের মরুভূমিতে ঘুরে বেড়ানো যাযাবর, অশিক্ষিত, অসামাজিক বেদুইনরা রাসুলকে عليه السلام করেছিল। শুধু তাই না, তাদের আগেও নবীদেরকে একই প্রশ্ন করা হয়েছিল। এর উত্তর আল্লাহ تعالى কু’রআনেই দিয়ে দিয়েছেন—

2_210_title

2_210

ওরা কি অপেক্ষা করছে যে, ফেরেশতাদেরকে নিয়ে আল্লাহ تعالى নিজেই মেঘের ছায়ায় ওদের সামনে চলে আসবেন? —ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যাবে। সবকিছু আল্লাহরই تعالى কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। [আল-বাক্বারাহ ২১০]

যারা ঠিক করে রেখেছে যে, কোনো অলৌকিক কিছু দেখলে তবেই ইসলাম ধর্মকে সত্যি ধর্ম বলে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করবে, ঠিকমতো ধর্ম মানা শুরু করবে, তারা সাবধান! একইসাথে যারা ভাবছেন, এই শেষবারের মতো ঘুষ দিয়ে প্রমোশনটা নিয়ে নেই, তারপরে সব বন্ধ করে একদম ভালো মুসলিম হয়ে যাবো। শুধু এই বাড়িটা সুদের লোণ নিয়ে কিনে নেই, এরপরে আর কখনো কোনো খারাপ কাজ করবো না, আগামি বছরই হাজ্জ করে নেব… —এরা সাবধান! সত্যিই যেদিন ভয়ঙ্কর সব অলৌকিক ঘটনা ঘটা শুরু হবে, সেদিন অনেক দেরি হয়ে যাবে। তখন তাড়াতাড়ি করে সত্যিকারের মুসলিম হওয়ার চেষ্টা করে কোনো লাভ হবে। ঘণ্টা বেজে গেছে, পরীক্ষা শেষ। আরেকটু লেখার জন্য হাজার কাকুতি মিনতি করে কাগজ টানাটানি করে লাভ হবে না।

এই দুনিয়াটা হচ্ছে আমাদের জন্য একটা পরীক্ষা: আমরা আল্লাহকে تعالى নিজের চোখে না দেখে, তাঁর تعالى কথা নিজের কানে না শুনে, শুধুই নিজের বিবেক-বুদ্ধি খাঁটিয়ে, কুর’আন পড়ে, ইসলামকে সত্য ধর্ম হিসেবে মেনে নিতে পারি কিনা, এবং সে অনুযায়ী নিজের জীবনকে পরিবর্তন করতে পারি কিনা —সেটার পরীক্ষা। আমাদেরকে কোনো ম্যাজিক দেখানো হবে না, কোনো অলৌকিক কিছু এসে বলবে না মুসলিম হতে। কুর’আন দেওয়া হয়েছে, মাথা ভর্তি নিউরন দেওয়া হয়েছে, এগুলোই যথেষ্ট বোঝার জন্য যে, ইসলাম একটি সত্য ধর্ম, আল্লাহ تعالى সত্যিই আছেন। কেউ যদি এরপরেও প্রশ্ন করতে থাকে, “না দেখে কোনো কিছু বিশ্বাস করবো কেন? প্রমাণ কি যে ইসলাম সত্যি ধর্ম?” —তাহলে তাদের সমস্যা আসলে প্রমাণ বা কারণের অভাব নয়, সমস্যা হচ্ছে তারা নিজেদেরকে কত বড় মনে করে এবং তারা দুনিয়া কতখানি উপভোগ করতে চায়, সেখানে।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

ওরা মানুষকে জাদু শিখিয়েছিল — আল-বাক্বারাহ ১০২-১০৩

চৌধুরী সাহেব গাড়ি থেকে নেমে সাবধানে এদিক ওদিক তাকিয়ে মগবাজারে এক অন্ধকার গলির ভেতর একটা দোকানে ঢুকছেন। সেই দোকান এক বিখ্যাত মন্ত্রগুরুর। সে নাকি জাদুটোনা করে মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে দিতে পারে। চৌধুরী সাহেব তার এলাকার প্রতিদ্বন্দী হাজী সাহেবের জীবন নষ্ট করে দেওয়ার জন্য সেই মন্ত্রগুরুর কাছে এসেছেন, যাতে করে পরের মাসের ইলেকশনে হাজী সাহেবকে হারিয়ে দিতে পারেন। এই মোক্ষম সময়ে হাজী সাহেবের জীবনে নানা ঝামেলা তৈরি করতে পারলে, চৌধুরী সাহেবের জন্য ইলেকশনে জেতা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

তিনি এক অন্ধকার ঘরে মন্ত্রগুরুর সামনে গিয়ে বসলেন। তাকে তার সমস্যার কথা জানালেন। মন্ত্রগুরু তাকে বললেন, “দুশ্চিন্তা বন্ধ করুন। আমি ‘ওদেরকে’ ডাকছি। ওরা আপনার শত্রুর জীবন শেষ করে দেবে। তবে মনে রাখবেন, একবার যদি এই পথে পা বাড়ান, আর ফিরে আসার উপায় নেই।”

চৌধুরী সাহেবের তখন মনে পড়ে গেল, তার এক আত্নীয় তাকে বহুবার সাবধান করেছিলেন: এই সব জাদুটোনার মধ্যে না যেতে। এগুলো করা কুফরী। সারাজীবনের জন্য জাহান্নামে চলে যেতে হবে। কিন্তু চৌধুরী সাহেব জিদে অন্ধ হয়ে আছেন। গত তিন বছর তিনি হাজী সাহেবের কাছে ইলেকশনে হেরেছেন। এই বার আর না। যত কিছুই লাগে, তিনি এই বার ইলেকশনে জিতবেনই।

মন্ত্রগুরু এক লাখ টাকা নিয়ে তাকে এক ভয়ঙ্কর জাদু শিখিয়ে দিলেন। তিনি সেই জাদুর কাগজ আর সরঞ্জাম নিয়ে খুশি মনে বাসায় ফেরত যাচ্ছেন। এই বার ইলেকশনে তার জেতা ঠেকায় কে?

আমাদের উপমহাদেশে জাদুটোনার ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়েছে। অনেকেই আজকাল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য জাদুটোনার আশ্রয় নিচ্ছেন। হাজার বছর আগে বনী ইসরাইল ঠিক একই কাজ করে নিজেদেরকে ধ্বংস করে ফেলেছিল। আজকে অনেক মুসলিমরা ঠিক একই কাজ করে নিজেদেরকে চিরজীবনের জন্য ধ্বংস করে ফেলছেন।

2_102_1

তারা বরং সেগুলো অনুসরণ করত, যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বের নামে মিথ্যা অপপ্রচার করত। সুলাইমান কোনোদিন কুফরী করেনি, বরং ওই শয়তানগুলোই কুফরী করেছিল। ওরা মানুষকে জাদু শিখিয়েছিল। বাবিল শহরে পাঠানো দুই ফেরেশতা হারুত এবং মারুতকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছিল, তা শিখিয়েছিল। … [আল-বাক্বারাহ ১০২]

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

কেউ যদি জিবরাইলের শত্রু হয় — আল-বাক্বারাহ ৯৭-৯৮

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে একজন সন্মানিত সত্তা উপরের মহাজগত থেকে রওনা হয়েছেন নিচে মহাবিশ্বের দিকে। তার গন্তব্য ছায়াপথের বাইরের দিকে সূর্য নামের একটি বিশেষ নক্ষত্রের তৃতীয় গ্রহ পৃথিবী। এই গ্রহে মাটি থেকে তৈরি বুদ্ধিমান প্রাণীরা মারামারি, খুনাখুনি, নৈতিকভাবে জঘন্য সব কাজ করে নিজেদেরকে শেষ করে ফেলছে। তাদেরকে সংশোধন করার জন্য সর্বোচ্চ ক্ষমতাবানের কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণী এসেছে, যা তিনি নিয়ে যাচ্ছেন সেই বুদ্ধিমান প্রাণী ‘মানবজাতি’র বিশেষ একজনের কাছে পৌঁছে দিতে।

কিন্তু সেই গ্রহে আরেক ধরনের শক্তিশালী বুদ্ধিমান প্রাণী রয়েছে, যারা শক্তির তৈরি। এদের অনেকে নিজেদেরকে মাটির তৈরি প্রাণীদের থেকে উঁচু পর্যায়ের মনে করে। এরা চায় না সেই বাণী মানুষ নামের ‘নিচুস্তরের’ প্রাণীদের কাছে পৌঁছাক। হাজার বছর ধরে তারা নানা ভাবে মানুষকে প্রতারিত করেছে, ভুল পথে নিয়ে গেছে। মানব জাতিকে শেষ করে দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য।

জিন নামের শক্তির তৈরি এই প্রাণীদের মধ্যে আবার একজন আছে, যে ভয়ঙ্কর। তার নাম ইবলিস। সে একসময় এতটাই উপরে উঠে গিয়েছিল যে, এই সন্মানিত সত্তার মতো সেও একসময় মহান স্রষ্টার সাথে কথা বলতে পারত। অনেক কাল আগে সে স্রষ্টার সাথে এক ভয়ঙ্কর বেয়াদবি করে উপরের জগত থেকে বিতাড়িত হয়েছে। তখন সে স্রষ্টার কাছ থেকে অমরত্ব চেয়ে নিয়েছিল, যেন সে মানবজাতিকে সারা জীবন ভুল পথে তাড়িয়ে নিতে পারে। সে কোনোভাবেই চায় না মানুষের জন্য ভালো কিছু হোক। তাই সে তার বাহিনী নিয়ে প্রস্তুত। যেভাবেই হোক মানুষের কাছে এই বাণী পৌঁছানো আটকাতে হবে। আর পৌঁছে গেলেও, সেটা যেন মানুষের মধ্যে প্রচার না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

সেই সন্মানিত সত্তা পৃথিবীতে এসে পৌঁছালেন। ইবলিস এবং তার বাহিনীর ব্যাপারে তিনি মোটেও চিন্তিত নন, কারণ তার প্রচণ্ড ক্ষমতার কাছে ওরা কিছুই না। তিনি আরও উচ্চতর শক্তির তৈরি। সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান মহান স্রষ্টা নিজে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। সৃষ্টিজগতে দ্বিতীয় আর কেউ নেই, যে এই গুরু দায়িত্ব তাঁর থেকে ভালো ভাবে পালন করতে পারে। ইবলিস এবং তার বাহিনী হাজার চেষ্টা করেও কিছুই করতে পারল না। তিনি সেই বিশেষ মানুষটির কাছে স্রষ্টার বাণী পৌঁছে দিলেন।

এই সন্মানিত সত্তার নাম জিবরাইল। তিনি বহুবার পৃথিবীতে এসে নবীদের عليه السلام কাছে মহান আল্লাহর تعالى বাণী পৌঁছে দিয়েছেন—

2_97

বলে দাও, “কেউ যদি জিবরাইলের শত্রু হয় —যে কিনা নিঃসন্দেহে আল্লাহর অনুমতিতে কু’রআনকে নিয়ে এসেছে তোমার অন্তরে, এর আগে যা এসেছিল তাকে সত্যায়িত করে —যা একটি পথনির্দেশ এবং বিশ্বাসীদের জন্য সুসংবাদ।” [আল-বাক্বারাহ ৯৭]

cloud light 2

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে যাচ্ছি — বাকারাহ ৩০-৩৩

সন্মানিত ফেরেশতারা অপেক্ষা করছেন এক বিরাট ঘোষণার জন্য। সম্ভবত সৃষ্টিজগতের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছে। আল্লাহ تعالى তাঁর এক নতুন সৃষ্টির ব্যাপারে তাদেরকে জানাতে যাচ্ছেন, যে কিনা সৃষ্টি জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে! তিনি ফেরেশতাদের সমাবেশকে উদ্দেশ্য করে বললেন—

2_30

যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেন, “আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে যাচ্ছি।” ফেরেশতারা জিজ্ঞেস করেছিল, “আপনি কি এর মধ্যে (পৃথিবীতে) এমন একজনকে নিযুক্ত করবেন, যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে, যেখানে কিনা আমরা আপনার পবিত্রতাকে প্রশংসা ভরে বর্ণনা করছি এবং আপনার নিষ্কলুষতাকে ঘোষণা করছি?” তিনি বলেছিলেন, “আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।” [বাকারাহ ৩০]

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)