তিনি তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন —আল-বাক্বারাহ ২৪৫

2_245

কে আছে যে আল্লাহকে تعالى ধার দেবে? তাহলে তিনি তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন। আল্লাহই تعالى কমিয়ে দেন এবং বাড়িয়ে দেন। তাঁর কাছেই তোমরা ফিরে যাবে। [আল-বাক্বারাহ ২৪৫]

এই আয়াত পড়ে যে কোনো মুসলিমের লজ্জা পাওয়া উচিত। আল্লাহ تعالى আমার কাছে ধার চাইছেন? আমি দুনিয়ার লোভে এতটাই স্বার্থপর হয়ে গেছি যে, তিনি تعالى এই ভাষা ব্যবহার করে আমাকে বলছেন তাঁর পথে খরচ করতে?

ধরুন, আপনার মা ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে কাজ করে আপনাকে বড় করেছেন,  আপনার পড়ালেখার খরচ যোগান করেছেন। তিনি আপনাকে একটুও কষ্ট করতে দেননি, যেন আপনার পড়াশুনায় কোনো ক্ষতি না হয়, যেন আপনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। আপনার মায়ের এই বিরাট আত্মত্যাগের জন্য আপনি বড় হয়ে শিক্ষিত হলেন, ডিগ্রি অর্জন করলেন, যথেষ্ট সম্পত্তির মালিকও হলেন। আপনার মা আপনার যত এত কষ্ট না করলে আপনি এত উপরে উঠতে পারতেন না। একদিন তিনি আপনাকে অনুরোধ করছেন, ‘বাবা, আমাকে কিছু টাকা ধার দেবে? আমি আগামী বছরই ফেরত দিয়ে দেবো। আর আমি তোমাকে ধারের টাকার দ্বিগুণ ফেরত দেবো। কোনো চিন্তা করো না বাবা। একটু ধার দেবে?’ —যখন মা তাকে এই ভাষায় অনুরোধ করছেন, দ্বিগুণ ফেরত দেওয়ার কথা বলছেন, এথেকেই বোঝা যায়, সে ছেলে হিসেবে কতটা নীচে নেমেছে, কতটা লোভী হয়ে গেছে যে, তাকে এভাবে বোঝাতে হচ্ছে।   (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংসের পথে ছুঁড়ে দেবে না — আল-বাক্বারাহ ১৯৫

সূরা বাক্বারাহ’র এই আয়াতে আল্লাহ تعالى আমাদেরকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেবেন, যা প্রতিটি মুসলিমের উচিত প্রতিদিন সকালে উঠে নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া। দরকার হলে মোবাইল ফোনে, কম্পিউটারে ওয়ালপেপার সেট করে রাখা। এই আয়াতগুলো আমাদেরকে বিরাট সব শিক্ষা দেয়, যা মুসলিম জাতি যদি নিজেদের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে পারতো, তাহলে আজকে তাদের এত হতাশাকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না—

2_195_title

2_195

আল্লাহর تعالى পথে খরচ করো। আর নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংসের পথে ছুঁড়ে দেবে না। ভালো কাজ সুন্দরভাবে করো। যারা ভালো কাজ সুন্দরভাবে করে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ تعالى তাদেরকে ভালবাসেন। [আল-বাক্বারাহ ১৯৫]

আল্লাহর تعالى পথে খরচ করো

আল্লাহর تعالى পথে খরচ বহুভাবে করা যায়। ইসলামের প্রচারে সাহায্য করতে খরচ করা, নিজে ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করতে খরচ করা, অভাবী প্রতিবেশী, আত্মীয়, এতিম, অসহায় মানুষদের জন্য খরচ করা, পরিবারের জন্য খরচ করা[৩৩৭] — এসব কিছুই আল্লাহর تعالى পথে খরচ করার অন্তর্ভুক্ত। একইসাথে দেশে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করে এমন সত্যিকারের ইসলামি দলকে সাহায্য করা, মানুষকে ইসলামের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন দিতে আগ্রহী করা ইত্যাদি নানা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও খরচ করা যায়। মুসলিমদেরকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করতে, অত্যাচারিত মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতে খরচ করাও আল্লাহর تعالى পথে খরচ করার অন্তর্ভুক্ত।[১১]

এই আয়াতের আগের কয়েকটি আয়াত যুদ্ধ সম্পর্কিত। এখানে আল্লাহ تعالى আমাদেরকে তাঁর تعالى পথে খরচ করতে বলছেন, কারণ যুদ্ধ করতে গেলে সম্পদের দরকার। যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জাম তৈরি করতে এবং কিনতে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হয়। একই সাথে যুদ্ধ চলাকালীন সময়েও প্রতিদিন প্রচুর খরচ করতে হয় বাহিনীর খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা, অস্ত্র, যানবাহনের যোগান দিতে। যদি মুসলিমরা যুদ্ধের জন্য অর্থ খরচ না করে, তাহলে যুদ্ধ চলবে কীভাবে?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

এরাই সত্যিকারের তাকওয়া অর্জন করতে পেরেছে —আল-বাক্বারাহ ১৭৭

আমাদের সমাজে কিছু মুসলিম আছেন যাদেরকে বাইরে থেকে দেখতে অত্যন্ত ধার্মিক মনে হয়। এরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পড়তে কপালে দাগ ফেলে দিয়েছেন। মসজিদে তাদেরকে নিয়মিত দেখা যায়। কিন্তু গরিব আত্মীয়রা তাদের কাছে বার বার সাহায্য চেয়ে “আগামী রমজান আসুক” শুনে ফিরে যায়। এলাকার এতিমখানায় কোনোদিন তাদের দান করতে দেখা যায় না। মসজিদে দান বাক্স তাদের কাছে আসতে শুরু করলে হঠাৎ করে তারা চোখ বন্ধ করে গভীর জিকিরে মগ্ন হয়ে যান, বাক্সটা তাদের সামনে দিয়ে চলে যায়। এরা ব্যবসায় কাস্টমারকে অভিনব পদ্ধতিতে বেশি দামে কম মাল দেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত পারদর্শী। কর্মীদেরকে কত উপায়ে কম বেতন, কম বোনাস দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে তাদের অসামান্য প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। তারপর যখন তাদের কোনো বড় ধরনের বিপদ হয়, তখন তাদের প্রলাপ শুরু হয়— “হায় আল্লাহ تعالى! আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, রমজানে রোজা রাখি, যাকাত দেই। আমি আপনার কত খাস বান্দা। তারপরেও আমার কেন বিপদ হয়?”

এধরনের মানুষদের জন্য আল-বাক্বারাহ’র এই আয়াতটি চিন্তার বিষয়, কারণ আল্লাহ تعالى এই আয়াতে বলছেন যে, আমরা যদি শুধু নামাজ পড়ি, কিন্তু অন্য কোনো ভালো কাজ না করি, তাহলে তাতে কোনো পুণ্য নেই—

2_177_title

2_177 (1)পূর্ব-পশ্চিমে মুখ ফেরালেই সেটা ধার্মিকের মতো কাজ হয়ে গেল না। বরং সত্যিকারের ধার্মিকতা হচ্ছে: যারা আল্লাহর تعالى প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং বিচারের দিন, ফেরেশতাগন, সব কিতাব এবং নবীদের প্রতি বিশ্বাস রাখে। যারা নিজেদের সম্পদকে ভালোবাসার পরেও তা দান করে নিকটজনকে, এতিম, মিসকিনকে, বিপদে পড়া ভ্রমণকারীদেরকে, যারা সাহায্য চায় তাদেরকে এবং দাস-যুদ্ধবন্দিদের মুক্ত করার জন্য দান করে। যারা সালাত প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে, কথা দিয়ে কথা রাখে; দুর্দশা-দারিদ্রতা, অসুস্থতা-কষ্ট এবং ভীষণ কঠিন সময়েও ধৈর্যধারণকারী। —এরাই নিজেদেরকে প্রমাণ করেছে, আর এরাই সত্যিকারের তাকওয়া অর্জন করতে পেরেছে। [আল-বাক্বারাহ ১৭৭]

এখানে পূর্ব-পশ্চিম দিকে মুখ করা বলতে কিবলা পরিবর্তের পরে মক্কার দিকে, আর কিবলা পরিবর্তনের আগে বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ ফিরিয়ে নামাজ পড়া বোঝানো হয়েছে।[১২]  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)