যারা বিশ্বাস করেছে এবং ভালো কাজ করেছে, তারাই হচ্ছে সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ —আল-বাইয়িনাহ

চৌধুরী সাহেব দিনরাত ইন্টারনেট ঘেঁটে আর অমুসলিমদের লেখা কিছু বই পড়ে নিশ্চিত হয়েছেন যে, ইসলামে অনেক ঘাপলা আছে। তাকে ধর্মের কথা বলতে গেলেই তিনি তার সংগ্রহ করা ‘কুর‘আনের শত ভুল’-এর লিস্ট ধরিয়ে মানুষকে ঘাবড়ে দেন। দাঁড়িওলা কাউকে পাশে পেলে গম্ভীর হয়ে জিজ্ঞেস করেন, “ভাই, কুর‘আনে অমুক অমুক আয়াতে তো ব্যাকরণ ভুল আছে। তাহলে কুর‘আন সত্য হয় কীভাবে? আবার দেখেন এই এক আয়াতে বলা আছে অমুক ঘটেছে, কিন্তু আরেক আয়াতে বলা আছে তমুক ঘটেছে। ঘটনা তো মিললো না? তারপর দেখেন কুর‘আনের আবার কতগুলো ভার্সন আছে। একদল এক আয়াত একভাবে পড়ে, আবার আরেকদল সেই আয়াত অন্যভাবে পড়ে। তাহলে তো কুর‘আন একটা না, কয়েকটা?”

—এরকম শত বছর ধরে চলে আসা কিছু বহুল প্রচলিত অপপ্রচারনা সম্প্রতি আবিষ্কার করে তিনি তার উৎসাহ ঢেকে রাখতে পারছেন না। কারণ ইসলাম সত্য না হলে তাকে আর ঠেকায় কে? এবার তিনি নিঃসংকোচে যাবতীয় ফুর্তি করতে পারবেন। কেউ কিছু বলতে এলেই তাকে এইসব দলিল ধরিয়ে দিয়ে চুপ করিয়ে দেবেন।

এখন, তাকে যদি কেউ দেখায় যে, কুর‘আন যখন এসেছে তখন আরবি ব্যাকরণই ছিল না। শত বছর পরে কুর‘আন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই আরবেরা আরবি ব্যাকরণ দাঁড় করিয়েছে। তাহলে কীভাবে কুর‘আনে ব্যাকরণ ভুল থাকতে পারে? আর সে যেই ভুলগুলো দাবি করছে, সেগুলো আরবির উচ্চতর ভাবের প্রয়োগ। স্কুলের ব্যাকরণ দিয়ে কুর‘আনকে দেখলে মনে হবে ভুল। যেমন কিনা ইংরেজির ব্যাকরণ অনুসারে শেক্সপিয়ারের গদ্যে অনেক ভুল আছে। কিন্তু আসলে সেগুলো ভাবের উচ্চতর প্রয়োগ ছাড়া আর কিছু নয়।[৩৯৯]

একইভাবে, তাকে যদি দেখানো হয় যে, কুর‘আনে একটি বড় ধারাবাহিক ঘটনাকে বিভিন্ন ক্যামেরা এঙ্গেলে একেক সুরায় একেকভাবে দেখানো হয়, আসলে সব ঘটনা একই। বা তাকে যদি দেখানো হয় যে, কুর‘আনের তিলায়াতের যাবতীয় পার্থক্য হচ্ছে হয় আঞ্চলিক উচ্চারণের পার্থক্য, না হয় এমন কিছু নগণ্য পার্থক্য যার কারণে কখনই আয়াতের মূল অর্থ বদলে যায় না।[৪০০] যেমন, এক এলাকার মানুষরা তিলাওয়াত করে, “তাকে মার দেওয়া হবে”, যেটা অন্য এলাকার মানুষরা তিলাওয়াত করে, “হইরে ফিটান দেয়া হইব” — মূল অর্থের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই —তাহলেও কোনো লাভ হয় না। তার সন্দেহ তখনও যায় না।

যখন তাকে পরিষ্কার সব প্রমাণ দেখিয়ে ভুল প্রমাণ করা হয়, তখন সে তাড়াতাড়ি ভোল পাল্টে ফেলে বলে, “তাহলে এমন কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটে না কেন যে, মানুষের ইসলাম নিয়ে সব সন্দেহ দূর হয়ে যায়? একটা ফেরেশতা এসে মানুষকে ইসলামের কথা বললেই তো সবাই ইসলাম মেনে নিত?” —হাজার হাজার বছর ধরে এই চৌধুরী সাহেবরা একই কথা বলে আসছেন, যা কিনা সূরাহ আল-বাইয়িনাহ-তে বলা হয়েছে—  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

মানুষ হতভম্ব হয়ে বলবে, “কী হচ্ছে এর!” —আয-যালযালাহ

পৃথিবীকে যখন ভীষণভাবে ঝাঁকানো হবে এবং পৃথিবী তার সব বোঝা বের করে দেবে। আর মানুষ হতভম্ব হয়ে বলবে, “কী হচ্ছে এর!” সেদিন সে সবকিছু জানিয়ে দেবে, কারণ তোমার প্রতিপালক তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেদিন মানুষ আলাদা আলাদাভাবে বের হবে, যাতে তাদেরকে দেখানো যায় তারা কী করেছে। তারপর কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করে থাকলেও তা দেখতে পাবে। আর কেউ অণু পরিমাণ খারাপ কাজ করে থাকলেও তা দেখতে পাবে। —আয-যালযালাহ

সুধীবৃন্দরা প্রশ্ন করেন, “গত হাজার বছরে কত প্রজন্ম ‘কিয়ামত আসলো বলে!’ — এই ভয় পেয়ে জীবন পার করে গেছে। কই? কিয়ামত তো হয়নি? তাহলে কি তারা সারাজীবন এক অমূলক ভয় পেয়ে জীবন পার করে গেলো না? আমার জীবনে কিয়ামত হবে তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই? তাহলে খামোখা ভয় পেয়ে কী লাভ? মক্কার আরবদের হাজার বছর আগে কিয়ামতের এত সব ভয় দেখানো হলো, কই, কিয়ামত তো তাদের জীবনে হলো না? তাহলে এত এত সব আয়াত ফালতু ভয়?”

— তাদের এই সমস্যার উত্তর তাদের প্রশ্নের ভেতরেই রয়েছে: “ভয় দেখিয়ে কী লাভ?”    (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

মানুষ তার রবের অনুগ্রহ স্বীকার করে না —আল-আদিয়াত

শপথ ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলা অশ্ববাহিনীর। যাদের ক্ষুরের আঘাতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে। যারা ভোর বেলা আক্রমণ করে, ধুলোর মেঘ উড়িয়ে। তারপর তারা শত্রুদলের একদম ভেতরে ঢুকে পড়ে…।
মানুষ তার রবের অনুগ্রহ স্বীকার করে না। এরা নিজেরা তা ভালো করেই জানে। বেশি-বেশি পাওয়ার প্রতি এদের চরম মোহ।
এরা কি জানে না, যেদিন কবরগুলোর ভেতর থেকে সব বের করে ফেলা হবে? এদের অন্তরে কী আছে সব প্রকাশ করা হবে? সেদিন তারা দেখবে তাদের রব তাদের সম্পর্কে সবই জানেন। —আল-আদিয়াত

দূরে দিগন্তে ঘোড়ায় চড়ে একদল যোদ্ধা ধুলোর মেঘ উড়িয়ে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে আসছে আক্রমণ করতে। ঘোড়াগুলো ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছে। তাদের পায়ের খুরের আঘাতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠছে। শত্রুপক্ষের প্রতি তাদের একটুও ভয় নেই। একারণে রাতের বেলা গোপনে আক্রমণ না করে ভোরবেলাই আক্রমণ করতে এসেছে, যখন কিনা শত্রুপক্ষ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ঘোড়াবাহিনীকে আটকানোর জন্য শত্রুপক্ষ প্রতিরক্ষা দাঁড় করালো। কিন্তু ঘোড়াবাহিনী প্রচণ্ড গতিতে আঘাত করে প্রতিরক্ষা চুরমার করে একদম ভেতরে ঢুকে থেমে দাঁড়ালো। শত্রুবাহিনী এখন তাদেরকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে।…

মানুষ তার রবের অনুগ্রহ স্বীকার করে না।

মানে? কোথা থেকে কী হলো? সেই ঘোড়া বাহিনীর কী হলো? কে জিতলো?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

বেশি-বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে—আত-তাকাছুর

বেশি-বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে। যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছে যাও।
না! তোমরা একদিন জানতে পারবে।
আবারো বলছি, না! তোমরা একদিন জানতে পারবে।
সত্যিই, তোমরা যদি নিশ্চিতভাবে জানতে কী ঘটবে।
তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখতে পাবে। আবারো বলছি, তোমরা অবশ্যই নিজের চোখে তাকে দেখতে পাবে।
তারপর, সেদিন সুযোগ-সুবিধাগুলোর ব্যাপারে তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে। —আত-তাকাছুর

বেশি-বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে

“বন্ধুবান্ধব সব এতদিনে নিজের বাড়ি-গাড়ি করে ফেলেছে। আমি এখনও ভাড়াটিয়া বলে মানুষের কথা শুনছি। ওদের বাসায় বেড়াতে গেলে নিজেকে ফকির-ফকির মনে হয়। আর না। এবার বাড়ি কেনার ঋণটা নিতেই হবে।”

“অনেক হয়েছে, আর না। পুরনো গাড়িটা ফেলে দিয়ে এবার একটা নতুন গাড়ি কিনবোই। প্রতিবেশির বড় গাড়িটার পাশে আমার গাড়িটাকে একটা টেম্প্যু মনে হয়।”

“আমার পুরনো আমি-ফোনটা মানুষের সামনে বের করতে লজ্জা লাগে। সবাই যেন কেমন-কেমন করে তাকায়। আজকাল সবার হাতে আমি-ফোন ৭। পাশের বাড়ির কাজের মেয়েটার হাতেও আমার থেকে নতুন মডেলের ফোন!”

এই যে লোক দেখানোর প্রতিযোগিতার মানসিকতা—অন্যদের থেকে ভালো বাড়ি, গাড়ি কিনতে হবে। সব দামি ব্রান্ডের জিনিস ব্যবহার করি দেখাতে হবে—বেশি-বেশি পাওয়ার এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা হচ্ছে আত-তাকাছুর (التَّكَاثُر)।[১][৪]

একসময় আমরা অনেক কাটখোর পুড়িয়ে বাড়ি কিনি। মানুষকে গর্ব করে দেখাই নতুন কেনা দামি আসবাবপত্র, ঝকঝকে বাথরুম। কিন্তু কয়েক বছর না যেতেই সেই স্বপ্নের বাড়ির উপর থেকে মন উঠে যায়। বেড়াতে গিয়ে অন্যের বাড়ির আসবাবপত্র, বাথরুম দেখে আফসোস শুরু হয়। আবার হয়তবা একদিন শখের ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনি। মানুষকে বলে বেড়াই, “এবার গাড়িটা কিনেই ফেললাম। বেশি না, মাত্র ৩৫ লাখ। সস্তায় পেয়ে গেছি, কী বলেন?” তারপর কয়েক বছর না যেতেই বন্ধুর নতুন গাড়ির সামনে সেটাকে লক্কড় মনে হয়। একসময় সবাইকে গর্ব করে দেখিয়ে বেড়ানো নতুন মোবাইল ফোনটা দুই বছর না যেতেই টেবিল থেকে সরিয়ে পকেটে লুকিয়ে রাখতে হয়। এত চেষ্টা করে এতসব পাওয়ার পরেও বেশিদিন প্রাপ্তির সুখ ধরে রাখা যায় না। শুরু হয় আবার প্রতিযোগিতার দৌড়।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

একে অন্যকে সত্যের প্রতি তাগাদা দেয় এবং ধৈর্য-নিষ্ঠ হতে তাগাদা দেয়—আল-আসর

ফুরিয়ে যাওয়া সময়ের শপথ। মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা নয়, যারা বিশ্বাস করে, ভালো কাজ করে, একে অন্যকে সত্যের প্রতি তাগাদা দেয় এবং ধৈর্য-নিষ্ঠ হতে তাগাদা দেয়।  —আল-আসর

আপনি আরাম করে ঘুমিয়ে সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আপনার মনে হলো যে, কিছু একটা ঘাপলা আছে। এরকম তো হওয়ার কথা না। চোখ খুলে দেখলেন যে, আপনি আসলে এক অতল নীল সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছেন। উপরে সূর্যের আলোর আভা দেখা যাচ্ছে। আপনি যদি এখনি চেষ্টা করেন তাহলে সাঁতরে উপরে উঠতে পারেন। এই অবস্থায় আপনি দুটো কাজ করতে পারেন। আপনি ভাবতে পারেন, “থাক না, আরামেই তো ঘুমিয়ে ছিলাম। আবার ঘুম দেই।” চোখ বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে গেলেন। সুন্দর স্বপ্ন দেখা শুরু করলেন। একসময় আপনি তলিয়ে গেলেন।

অথবা আপনি প্রাণপণে হাত-পা ছুড়ে সাঁতরে উপরে উঠতে লাগলেন। কিন্তু কিছুদূর না যেতেই আপনার পায়ে বাঁধা একটা শিকলে টান লাগলো। নীচে তাকিয়ে দেখলেন যে, আপনার পায়ের সাথে শিকল দিয়ে আপনার ঘুমন্ত ভাইয়ের পা আটকানো। সেও আপনার মতো ঘুমে তলিয়ে যাচ্ছে। আপনি একা কোনোভাবেই সাঁতরে উপরে উঠতে পারবেন না। তখন আপনি জলদি সাঁতরে ভাইয়ের কাছে গিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ডাকতে লাগলেন। সে একসময় জেগে উঠলো। আপনার ডাক শুনে, পরিস্থিতি উপলব্ধি করে সেও জলদি সাঁতরে উপরে উঠতে লাগলো। কিন্তু কিছুদূর না যেতেই আপনারা দুজনেই আবার পায়ের শিকলে টান লেগে আটকে গেলেন। নীচে তাকিয়ে দেখলেন এক লম্বা শিকলে আপনার বাবা, মা, আত্মীয়, সমাজের অন্য মানুষরা সবাই বাঁধা। সবাই ঘুমিয়ে আছে। গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে। আপনার বাঁচার তখন একটাই পথ খোলা: একে একে সবাইকে ডেকে তুলে একসাথে সাঁতরে উপরে ওঠার চেষ্টা করা। কিন্তু সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। আপনার দম শেষ হয়ে যাচ্ছে…[১]  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)