আমরা যখন দান করার চিন্তা করি, তখন আলমারিতে খুঁজে দেখি কোন জামাকাপড়গুলো আর পরার যোগ্য নেই, কোন আসবাবপত্রগুলো মানুষের সামনে রাখলে আর মান সম্মান থাকছে না, ফ্রিজে কোন খাবারগুলো খেলে বাথরুম থেকে আর বের না হওয়ার সম্ভাবনা আছে ইত্যাদি। গরিবদেরকে খাওয়াতে গেলে হাড্ডি-চর্বি ভর্তি মাংসগুলো দেই, যেগুলো নিজে খাওয়ার কথা চিন্তা করব না, আর নিজের জন্য ভালো মাংসগুলো রেখে দিই। গরিব প্রতিবেশী, কর্মচারীদেরকে তিনদিনের বাসি তরকারিগুলো সুন্দর প্লেটে করে পাঠিয়ে দেই। এভাবে দান করে মনে করি বিরাট সওয়াবের কাজ করে ফেলেছি, আল্লাহ تعالى নিশ্চয়ই এখন আমার উপরে বড়ই খুশি।

বিশ্বাসীরা শোনো, তোমরা যা কিছু অর্জন করেছ, আর যা কিছু আমি তোমাদেরকে পৃথিবী থেকে দিয়েছি, তার মধ্যে থেকে ভালোগুলো আল্লাহর পথে খরচ করো। খারাপ জিনিসগুলো দেওয়ার নিয়ত করবে না, যেগুলো যদি কেউ তোমাদেরকে দিত, তাহলে তোমরা ঘৃণায় চোখ বুজে তা নিতে। আর জেনে রেখো, আল্লাহ সকল চাহিদার ঊর্ধ্বে, তিনি অত্যন্ত প্রশংসিত। [আল-বাক্বারাহ ২৬৭]
আল্লাহ تعالى পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন যে, তিনি تعالى এধরনের দান গ্রহণ করবেন না। দান করার সময় যেন আমরা নিজেদেরকে গ্রহীতার জায়গায় চিন্তা করি। আমি গরিব, অভাবী হলে কি সেই দান খুশি মনে নিতাম? যদি আমি নিজে সেই দান না নিই, তাহলে কীভাবে আমি সেটা অন্যকে দেওয়ার কথা চিন্তা করি? আমার কি কোনো বিবেক নেই? সূরা আলে ইমরানে এক ভয়ংকর আয়াত আছে—“তুমি কোনোদিনও পুণ্য অর্জন করবে না, যতক্ষণ না তুমি সেটা দান করো, যা তুমি নিজে ভালোবাসো।” [৯২]
অনেক সময় আমরা নিজেদেরকে বোঝাই যে, অভাবীরা এইসব ছেড়া, ভাঙা, বাসি জিনিস পেলেই খুশি হয়। ওদের কি আর আমাদের মতো এত চাহিদা আছে নাকি? আল্লাহ تعالى আমাদেরকে বলেননি খুঁজে দেখতে যে, ওরা খুশি হবে কিনা। তিনি تعالى এক কঠিন স্ট্যান্ডার্ড দিয়ে দিয়েছেন: আমি নিজে খুশি হবো কিনা, যদি আমাকে কেউ সেই সব জিনিস দান করত। (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)