আমরা জাহান্নামে কয়েকটা দিন মাত্র থাকব — আল-বাক্বারাহ ৮০-৮২

আপনি চৌধুরী সাহেবকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করছেন তার হারাম ব্যবসাটা বন্ধ করার জন্য। কিন্তু সে পাত্তা দিচ্ছে না। তার কথা হচ্ছে, “ভাই, বুঝলাম এই ব্যবসার জন্য আমার শাস্তি হবে। কিন্তু একদিন না একদিন তো জান্নাতে যাবই। কত হাজার টাকা এতিম খানায় দিলাম, গরিব আত্মীয়স্বজনদের দিলাম। জীবনে কত নামায পড়েছি, রোযা রেখেছি। কয়েকটা দিন না হয় জাহান্নামে কষ্ট করলামই। কী যায় আসে?” এই ধরনের মানুষদেরকে আল্লাহ تعالى সতর্ক করছেন—

2_80

আর ওরা বলে, “আগুন আমাদেরকে মাত্র কয়েকটা দিনই স্পর্শ করবে।” বল, “তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে কোনো অঙ্গীকার নিয়েছ, কারণ আল্লাহ তার অঙ্গীকার ভাঙ্গেন না? নাকি তোমরা আল্লাহর সম্পর্কে না জেনেই কথা বল?” [আল-বাক্বারাহ ৮০]

যারা কু’রআন কখনো পুরোটা একবারও অর্থ বুঝে পড়ে গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেননি, তারা এই ধরনের কথা বলেন। ইসলাম সম্পর্কে তারা নিজেদের ভেতরে একটা ধারণা করে নিয়েছেন। তাদের কাছে ইসলাম হচ্ছে: জীবনে যত খারাপ কাজ করেছি, তার জন্য কিছু সময় জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে, তারপর জান্নাতে গিয়ে পার্টি আর পার্টি। অনেকের মধ্যে একটা ধারণা আছে: যারা নামে মুসলিম (ঈমান না থাকলেও), তারা  সবাই জান্নাতে যাবেই। পাপের জন্য কয়েকটা দিন হয়ত জাহান্নামে শাস্তি পেতে হবে। তারপর জান্নাতে গিয়ে সব ভুলে যাবে। তাই এই দুনিয়ায় যে পাপ করছি, সেটা কোনো ব্যাপার না। একদিন না একদিন তো জান্নাতে যাবই। “হাজার হোক, আমার নাম আব্দুল্লাহ। আমার পাসপোর্টে ধর্ম লেখা আছে ‘ইসলাম’। আমি মুসলিম দেশে জন্মেছি! আমি জান্নাতে যাব না তো যাবে কে?”[১৬৮]  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তোমরা ইচ্ছেমত যত খুশি খাও – বাকারাহ ৫৮

2_58

মনে করে দেখো, যখন আমি বলেছিলাম, “এই শহরে প্রবেশ করো এবং এখানে তোমরা ইচ্ছেমতো যত খুশি খাও, কিন্তু এর দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় আমার প্রতি (কৃতজ্ঞতায়) অবনত হয়ে প্রবেশ করো  এবং বলতে থাকো, “আমাদের পাপের বোঝা হালকা করে দিন!” তাহলে আমি তোমাদের দোষ-ত্রুটি-অন্যায় আচরণ ক্ষমা করে দিব এবং যারা ভালো কাজ সুন্দরভাবে করে তাদের পুরস্কার আরও বাড়িয়ে দিব। [আল-বাকারাহ ৫৮]

কু’রআনে এই কথাগুলো বার বার আসে: সুস্বাদু খাবারের কথা, জীবনকে উপভোগ করার কথা, আল্লাহর تعالى সৃষ্টি করা এই অত্যন্ত সুন্দর পৃথিবী এবং আকাশ ঘুরে দেখা। আল্লাহ تعالى আমাদেরকে কু’রআনে বার বার তাঁর অনুগ্রহের কথা চিন্তা করতে বলেছেন, আমাদেরকে হালাল উপায়ে জীবনকে উপভোগ করে আখিরাতে আরও বেশি আনন্দের জন্য চেষ্টা করতে বলেছেন।

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

আমার বাণীকে সামান্য কিছুর জন্য বেচে দিবে না —বাকারাহ ৪১, ৪২, ২১৯

2_41

তোমাদের কাছে যা ইতিমধ্যে আছে, তাকে সমর্থন করে আমি এখন যা অবতীর্ণ করেছি, তাতে তোমরা বিশ্বাস করো। আর যারা একে অবিশ্বাস করে, তাদের মধ্যে তোমরা সবার প্রথম হয়ো না। আমার বাণীকে সামান্য কিছুর জন্য বেচে দিবে না। আর আমাকে নিয়ে, শুধুই আমাকে নিয়ে সবসময় সাবধান থাকো। [বাকারাহ ৪১]

corruption13ইসলাম কোনো নতুন ধর্ম নয়। অনেকে মনে করেন, ইসলাম হচ্ছে শেষ নবী মুহাম্মাদ عليه السلام প্রচারিত নতুন একটি ধর্ম। এটি একটি ভুল ধারণা। ইব্রাহিম, ইয়াকুব, মুসা, ঈসা, মুহাম্মাদ (আল্লাহ تعالى তাদের সবার উপরে শান্তি দিন) — সবাই একই ধর্ম প্রচার করে গেছেন–ইসলাম।[৬] ইসলাম শব্দের অর্থ: আল্লাহর تعالى ইচ্ছার কাছে নিজেকে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করা। যার মানে হচ্ছে: আমার একটা নতুন গাড়ি কিনে পাড়া প্রতিবেশীদেরকে দেখানোর জন্য জান বের হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এর জন্য ব্যাংকের হারাম লোণ নিতে হবে—আমি নিবো না। কারণ আমি ইসলাম ধর্ম মানি, আমি একজন মুসলিম। আমার এখন একটা জরুরি মিটিং চলছে, কিন্তু এদিকে যুহরের সময় পার হয়ে যাচ্ছে। আমি মিটিং থেকে বের হয়ে নামায পড়ে নিবো, কে কী মনে করল তাতে কিছু যায় আসে না, কারণ আমি মুসলিম—আমি অন্যের ইচ্ছা থেকে আল্লাহর تعالى ইচ্ছাকে বড় মনে করি। আমার সন্তানের বিয়েতে ব্যান্ড এনে গান বাজনা করে, ছেলেমেয়ে সব একসাথে মাখামাখি করে, গাঁয়ে-হলুদ, বউভাত, মেয়ে পক্ষের রিসিপ্সন, ছেলের পক্ষের  রিসিপ্সন—এরকম সাত দিন অনুষ্ঠান করে বিয়ে দেওয়ার জন্য আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে এমনকি নিজের পরিবারের অনেক সদস্য পর্যন্ত হুমকি দিচ্ছে—কিন্তু না, আমি সেভাবে বিয়ে দিবো না। আমার সন্তানের বিয়ে হবে একজন মুসলমানের মতো ইসলামের সুন্দর রীতি অনুসারে একটি মসজিদে গিয়ে, একটি হালাল অনুষ্ঠান করে—হিন্দু-খ্রিস্টানদের বিয়ের আপত্তিকর রীতিনীতির ছিটেফোঁটাও অনুসরণ না করে। আমি কখনই অল্প কিছু লোককে দেখানোর জন্য আল্লাহর تعالى বাণীকে বেচে দিবো না।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

এই গাছের ধারে কাছেও যাবে না — বাকারাহ ৩৫-৩৯

মানুষ তার জীবনের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছে। ক্ষমতা এবং অনন্ত সুখের লোভ সামলাতে না পেরে, সে মহান আল্লাহর تعالى নিষেধকে ভুলে গিয়ে প্রমাণ করতে যাচ্ছে যে, সে আসলে কত দুর্বল এবং কত সহজে সে শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে নিজের এবং অন্যের সর্বনাশ ডেকে আনে—

2_35

‘আমি’ বলেছিলাম, “আদম, তুমি এবং তোমার সঙ্গিনী/স্ত্রী বাগানে শান্তিতে বসবাস করো এবং তোমরা দুজনে এখান থেকে নিঃসংকোচে খাও, যেখান থেকে তোমরা চাও। কিন্তু কখনও এই গাছের কাছেও যাবে না, যাতে করে তোমরা অবাধ্য/সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে না যাও।” [বাকারাহ ৩৫]

riverside_garden

আল্লাহ تعالى এখানে আদমকে عليه السلام  বলেননি, “এই গাছের ফল খাবে না।” তিনি বলেছেন, “এই গাছের কাছেও যাবে না।” কেন তিনি গাছটার কাছেই যেতে মানা করেছিলেন?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)