ও মানুষ, কীসে তোমাকে তোমার দয়াময় প্রতিপালকের কাছ থেকে দূরে নিয়ে গেলো? —আল-ইনফিত্বার

যখন আকাশ ছিঁড়ে বিদীর্ণ করা হবে, তারাগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হবে, সাগরে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে, কবরগুলো ঝেড়ে বের করে ফেলা হবে… প্রত্যেকে জেনে যাবে সে কী করেছে এবং কী ছেড়ে এসেছে। —আল-ইনফিতার ১-৫

অকল্পনীয় লম্বা সময় ধরে আকাশ এই সৃষ্টিজগতকে আগলে রেখেছে। একদিন তাকে ছিঁড়ে বিদীর্ণ করে ফেলা হবে। এর মধ্যে খুলে দেওয়া হবে অতিজাগতিক দরজা, যেগুলো দিয়ে অন্য জগত থেকে অজানা সত্ত্বারা এই জগতে চলে আসবে। সৃষ্টিজগতের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্তপূর্ণ দিন পরিচালনা করার জন্য তারা অপেক্ষা করছিল। সেদিন নির্দেশ পাওয়া মাত্র তারা আকাশ ছিঁড়ে ভেদ করে চলে এসে শুরু করে দেবে এক মহাপ্রলয়ের প্রস্তুতি। ‘ইনফিত্বার’  ٱنفطار এসেছে ‘ফাত্বর’ থেকে, যার অর্থ বিদীর্ণ হয়ে যাওয়া, কোনো কিছু ছিঁড়ে ফেটে বের হয়ে যাওয়া। যেমন, মাড়ি ভেদ করে দাঁত বের হয়ে যাওয়া হচ্ছে ফাত্বর। এই আয়াতে যেন বলা হচ্ছে যে, একদিন আকাশ ছিঁড়ে কিছু বের হয়ে আসবে।[১৪]

পুরো আকাশ এমনভাবে বিদীর্ণ করে ফেলা হবে যে, নক্ষত্রগুলো সব বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবে। আরবিতে كواكب ‘কাওয়াকিব’ অর্থ সেই উজ্জ্বল স্থির নক্ষত্রগুলো, যেগুলো ব্যবহার করে মানুষ রাতের আধারে, মরুভূমিতে, সমুদ্রে পথ খুঁজে পায়।[১] সেদিন সেই নক্ষত্রগুলো বিক্ষিপ্ত হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবে, মানুষ হারিয়ে ফেলবে দিক নির্দেশনা। আর কোনো প্রয়োজন নেই দিক-নির্দেশনার। এই জগতের সময় শেষ। সকল জাগতিক ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ এখন বন্ধ।

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে দুই ভাগ করেছিলাম—বাকারাহ ৫০-৫২

বনি ইসরাইলের এক বিশাল কাফেলা নিয়ে নবী মুসা عليه السلام হেঁটে যাচ্ছেন—তাদেরকে এক নতুন দেশে পৌঁছে দিতে। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে যেতে দিতে রাজি হয়েছে ফিরাউন। কিন্তু এদিকে হঠাৎ ফিরাউন তার মত পাল্টাল: মুসা عليه السلام এর কারণে সে তার রাজত্ব হারিয়ে ফেলেছে—সেই যন্ত্রণায় পুড়ছে সে। শেষ পর্যন্ত আর থাকতে না পেরে ফিরাউন ঠিক করল মুসা عليه السلام সহ বনি ইসরাইলদের সবাইকে মেরে ফেলবে। সে তার বাহিনীকে একসাথে জড়ো করে ছুটে গেল তাদেরকে হত্যা করার জন্য।

ওদিকে মুসা عليه السلام তার কাফেলাকে নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে এগিয়ে যাচ্ছেন। যেতে যেতে আটকে গেলেন—সামনে এক বিশাল সমুদ্র, এগোবার উপায় নেই আর। পিছনে ফিরে দেখলেন: ফিরাউন তার বাহিনী নিয়ে ছুটে আসছে তাদেরকে হত্যা করার জন্য। বাঁচার কোনো আশা নেই বনি ইসরাইলিদের: সামনে এগোলে সমুদ্রে ডুবে মারা যাবে, আর পেছনে ফিরে গেলে ফিরাউনের বাহিনী তাদেরকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করবে। দুই দিকেই ভয়ঙ্কর মৃত্যু দেখে বনি ইসরাইলিরা ভয়ে-আতঙ্কে-হতবিহবল হয়ে মুসা عليه السلام এর কাছে ছুটে গেল—কীভাবে বাঁচবে তারা এখন?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)