যারা মানুষের চিন্তার ক্ষমতার বাইরে এমন সব ব্যাপারে বিশ্বাস করে – বাকারাহ ৩

এর আগের আয়াতে আল্লাহ تعالى আমাদেরকে বলেছেন যে, কুর’আন পড়ে যদি আমরা কোনো লাভ পেতে চাই, তাহলে আমাদের প্রথম যেটা দরকার সেটা হচ্ছে তাকওয়া: আল্লাহর تعالى প্রতি পূর্ণ সচেতনতা—এটা বিশ্বাস করা যে আমার দিকে সবসময় ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন তাক করে রাখা হয়েছে। আমি যা বলছি, যা করছি, যেদিকে তাকাচ্ছি, যেসব বদ চিন্তা করছি, তার সবগুলোই রেকর্ড করা হচ্ছে এবং একদিন আল্লাহর تعالى সামনে আমার সব কুকর্ম রিপ্লে করে দেখানো হবে। যতক্ষণ আমাদের ভিতরে এই তাকওয়া না আসছে, ততক্ষণ কুর’আন পড়ে আমরা সঠিক পথনির্দেশ পাব না। আমরা এক লাইন কুর’আন পড়ব, আর দশটা প্রশ্ন করব: “এরকম কেন হলো? ওরকম কেন হলো না? না, এটা তো ঠিক হলো না? ”

এর পরের আয়াতে আল্লাহ‌ تعالى আমাদেরকে মুত্তাকী (আল্লাহর تعالى প্রতি পূর্ণ সচেতন) হওয়ার জন্য শর্তগুলো সম্পর্কে বলছেন—

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

কু’রআন পড়ে কোনো লাভ হবে না, যদি… – বাকারাহ ১-২

Quran-and-Science

সূরা আল-বাক্বারাহ যারা ধৈর্য নিয়ে পুরোটা একবার পড়েছেন, তারা দেখবেন, এতে কু’রআনের এমন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে কিছুটা হলেও বলা হয়নি। আপনি যদি আল-বাক্বারাহ পুরোটা একবার ভালো করে বুঝে থাকেন, তাহলে আপনি সহজেই অমুসলিম বা নাস্তিকদের সাথে যুক্তিতর্কে যেতে পারবেন এবং ইসলাম নিয়ে কাফিরদের যে সব বহুল প্রচলিত অভিযোগ, অশ্লীল উদাহরণ, ভুল ধারণা, ইসলামের উপর আক্রমণ —তা অনেকখানি মোকাবিলা করতে পারবেন। একইসাথে মানুষের জীবনে নিত্যদিনের কষ্ট, হতাশা, অবসাদ, অতৃপ্তি ইত্যাদি মানসিক সমস্যার যথাযথ সাইকোলজিক্যাল সমাধানও আপনি সুরা আল-বাক্বারাহ’তেই পেয়ে যাবেন।

এই সূরাটি পুরো কু’রআনের একটি সারাংশের মতো। মু’মিন হতে হলে নিজের মধ্যে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে, কাফির কারা, মুশরিকদের সংজ্ঞা কী (মু’মিন এবং কাফির-এর সংজ্ঞা নিয়ে আমাদের মধ্যে ব্যাপক ভুল ধারণা আছে), আগেকার জাতিগুলো কী ধরনের ভুল করে গেছে, আমাদের কী ধরনের ভুল করা থেকে দূরে থাকতে হবে, যাতে করে আমরা আগেকার জাতিদের মতো শাস্তি না পাই; সালাত, সিয়াম, হাজ্জ, যাকাতের গুরুত্ব, নবীদের عليه السلام ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ঘটনা; কখন কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করা যাবে, কখন যাবে না—এমন কিছু নেই যা নিয়ে এই সূরায় কিছুটা হলেও বলা হয়নি।

2_1

আলিফ – লাম – মীম

কু’রআনের এই আয়াতগুলো নিয়ে অনেক মতবাদ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য মতবাদ হলো—এগুলো কেন আল্লাহ تعالى কু’রআনে দিয়েছেন, সেটা এখনো মানবজাতি সন্দেহাতীতভাবে বের করতে পারেনি। আল্লাহ تعالى এই অদ্ভুত শব্দগুলো দিয়ে যেন আরবদের চ্যালেঞ্জ করছিলেন যে, “দেখো, কু’রআন তোমাদেরই আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে, যা বের করার মতো যথেষ্ট পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তায় এখনো তোমরা পৌঁছাতে পারোনি। যদি পারো তো বের করো।” এভাবে তিনি আমাদের বুদ্ধিমত্তা এখনো কোথায় আছে, সে ব্যাপারে সাবধান করে দিচ্ছেন, যাতে করে আমরা নিজেদের দুর্বলতা উপলব্ধি করে বিনয়ের সাথে কু’রআন পড়ি।  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)