আমরা কি বোকাদের মতো বিশ্বাস করবো? বাকারাহ ১১-১৬

এবার আল্লাহ تعالى আমাদেরকে এক অদ্ভুত প্রজাতির মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেন, যারা মুনাফিকদের মতো একেবারে ভন্ড না, আবার কাফিরদের মতো একদম পরিষ্কার শত্রুও নাঃ

2_11

যখন তাদেরকে বলা হয়, “পৃথিবীতে দুর্নীতি সৃষ্টি করো না”,  তারা বলে, “অবশ্যই না! আমরা শুধুই সংস্কার [শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংশোধন] করছি মাত্র!”

এই আয়াতে মানুষগুলো দাবি করছে যে, তারা হচ্ছে মুসলিহুন مُصْلِحُونَ – অর্থাৎ যারা ভুল জিনিসকে ঠিক করে, ভেঙ্গে পড়া কিছুকে আবার জোড়া লাগায়, দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। এখানে আল্লাহ্ ‌تعالى এমন এক ধরনের মানুষদের কথা বলছেন, যারা মনে করে যে, তারা সংস্কার করছে, সমাজের দোষ-ত্রুটিগুলো সংশোধন করছে, ইসলামের ‘সমস্যাগুলো’ তারা ঠিক করছে, কিন্তু আসলে তারা বোঝে না যে, তারা আসলে নিজেরাই দুর্নীতি ছড়াতে সাহায্য করছে।[১]  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

তাদের অন্তরে আছে এক অসুখ… – বাকারাহ ৮-১০

মুত্তাকী এবং কাফিরদের পর এবার আল্লাহ্ ‌تعالى আমাদেরকে মুনাফিক বা ভণ্ডদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেনঃ

2_8

আর মানুষের মধ্যে কেউ আছে যে বলে, “আমরা আল্লাহতে বিশ্বাস করি এবং আমরা পরকালেও বিশ্বাস করি” —  কিন্তু তারা মোটেও কিছুই বিশ্বাস করে না। [বাকারাহ-৮]

দেখুন, এখানে কিন্তু ভণ্ড লোকটা বলছে না যে, “আমি আল্লাহ্‌ এবং আখিরাতে বিশ্বাস করি” বরং সে বলছে ‘আমরা’; কেন আমরা? কেন আমি নয়?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

ওদের বলে লাভ নেই, ওরা বদলাবে না – বাকারাহ ৬-৭

2_6

2_7

নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস করে, তাদের তুমি সাবধান করো, আর না-ই করো, তাদের কাছে তা একই কথা—তারা বিশ্বাস করবে না। আল্লাহ তাদের বুদ্ধিমত্তা/হৃদয়ের উপর এবং তাদের শোনার ক্ষমতার উপর সিল করে দিয়েছেন; তাদের দৃষ্টির উপরে আছে এক পর্দা। তাদের জন্য আছে এক প্রচণ্ড শাস্তি। [বাকারাহ ৬-৭]

1370126783805সর্বনাশ! তার মানে কি কাফিরদের কাছে ইসলাম প্রচার করে আর কোনো লাভ নেই? আল্লাহ্‌ تعالى নিজেই যদি বলে দেন যে, তাদেরকে বলে কোনো লাভ নেই, তারা আর কোনোদিন বদলাবে না, তাহলে আর ধর্ম প্রচার করে কী লাভ? এর মানে কি, কিছু মানুষ সারা জীবন কাফির হয়েই থাকবে এবং তারা আর কোনদিনও বদলাবে না? আল্লাহ্‌ تعالى যদি তাদের অন্তর সিল করেই দেন, তাদের বদলানোর সব ব্যবস্থা বন্ধ করে দেন, তাহলে তাদের কী দোষ? তারা তো ইচ্ছা করলেও মুসলিম হতে পারবে না? এটা কি অন্যায় নয়?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

ওরাই শেষ পর্যন্ত সফল হবে – বাকারাহ ৪-৫

সূরা বাকারাহ ৪ নম্বর আয়াতটি নিয়ে আধুনিক মুসলিমদের মধ্যে অনেক তর্ক বিতর্ক হয়েছে—

2_4

যারা তোমার (মুহাম্মাদ) উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার আগে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস করে, যারা পরকালে নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে।[বাকারাহ-৪]

Coexistপ্রশ্ন আসে, কেন আমাদেরকে কু’রআনের পাশাপাশি আগে যে কিতাবগুলো নাজিল হয়েছিল সেগুলোতে বিশ্বাস করতে হবে? −এর মানে কি আমাদের তাওরাত, জাবুর, ইনজিল এগুলো সব পড়তে হবে? আমাদের কি ইহুদিদের মতো তাওরাতে যা আছে সেটা মানতে হবে? খ্রিষ্টানদের মতো গস্পেলে যা আছে সেগুলো মানতে হবে? আজকে যারা ইহুদি এবং খ্রিষ্টান, তারা কি তাহলে আল্লাহর تعالى দেওয়া ধর্মের উপর আছে এবং তাদের কি কু’রআন মানার কোনো প্রয়োজন নেই? তারা কি মুসলিমদের মতোই জান্নাতে চলে যাবে?  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)

যারা মানুষের চিন্তার ক্ষমতার বাইরে এমন সব ব্যাপারে বিশ্বাস করে – বাকারাহ ৩

এর আগের আয়াতে আল্লাহ تعالى আমাদেরকে বলেছেন যে, কুর’আন পড়ে যদি আমরা কোনো লাভ পেতে চাই, তাহলে আমাদের প্রথম যেটা দরকার সেটা হচ্ছে তাকওয়া: আল্লাহর تعالى প্রতি পূর্ণ সচেতনতা—এটা বিশ্বাস করা যে আমার দিকে সবসময় ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন তাক করে রাখা হয়েছে। আমি যা বলছি, যা করছি, যেদিকে তাকাচ্ছি, যেসব বদ চিন্তা করছি, তার সবগুলোই রেকর্ড করা হচ্ছে এবং একদিন আল্লাহর تعالى সামনে আমার সব কুকর্ম রিপ্লে করে দেখানো হবে। যতক্ষণ আমাদের ভিতরে এই তাকওয়া না আসছে, ততক্ষণ কুর’আন পড়ে আমরা সঠিক পথনির্দেশ পাব না। আমরা এক লাইন কুর’আন পড়ব, আর দশটা প্রশ্ন করব: “এরকম কেন হলো? ওরকম কেন হলো না? না, এটা তো ঠিক হলো না? ”

এর পরের আয়াতে আল্লাহ‌ تعالى আমাদেরকে মুত্তাকী (আল্লাহর تعالى প্রতি পূর্ণ সচেতন) হওয়ার জন্য শর্তগুলো সম্পর্কে বলছেন—

  (আর্টিকেলের বাকিটুকু পড়ুন)